Follow us

শিশু ধর্ষণের ঘটনায় নিন্দা ও ক্ষোভ, শিশু সুরক্ষায় হেল্পলাইন ১০৯৮

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016-10-27
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত অসংখ্য শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। ছবিতে বাবলি আক্তার, মেয়ে হয়ে জন্মানোর কারনে জন্মের পাঁচ দিনের মাথায় নিজ বাবার হাতে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিল। মার্চ ০৬,২০০৯।
বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত অসংখ্য শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। ছবিতে বাবলি আক্তার, মেয়ে হয়ে জন্মানোর কারনে জন্মের পাঁচ দিনের মাথায় নিজ বাবার হাতে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিল। মার্চ ০৬,২০০৯।
এএফপি

দিনাজপুরে পাঁচ বছরের শিশু পৈশাচিক কায়দায় ধর্ষণের শিকার হয়ে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দা ও ক্ষোভের ঝড় বইছে। ধর্ষণের ওই ঘটনায় আসামি সাইফুল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার শিশুদের সুরক্ষায় ‘চাইল্ড হেল্প লাইন (সিএইচএল)’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, দেশে শিশু হত্যা, নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে শিশু হত্যার ঘটনা ঘটে ৯২টি। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৯৪টি শিশুকে হত্যা করা হয়।

শিশু ধর্ষণের ঘটনাও বেড়েছে। গত বছরের প্রথম চার মাসে ধর্ষিত হয় ১২১টি শিশু, চলতি বছর একই সময়ে ওই সংখ্যা ১৩৮।

একদিকে এ ধরনের ঘটনা বাড়ছে, অন্যদিকে এগুলো প্রতিরোধে সরকারের বিভিন্ন চেষ্টা অব্যহত রয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত এবং ইউনিসেফের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় স্থাপিত চাইল্ড হেল্প লাইনের কল সেন্টারে ১০৯৮ নম্বরে ফোন করে ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই হেল্পলাইনের কার্যক্রম শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৭৯টি বাল্যবিয়ে ঠেকানো গেছে এবং ২ হাজার ৭০টি শিশুকে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সহায়তার পাশাপাশি আইনি সেবা দেওয়া হয়েছে। চাইল্ড হেল্পলাইনে এ পর্যন্ত মোট কল হয়েছে ৪৫ হাজার ৭০৫ টি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার তার সরকারি বাসভবন গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সেবার উদ্বোধন করেন।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা—বাসস জানায়, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের ভেতরের মানবিক গুণাবলি জাগিয়ে তুলে সমাজকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অপরের ক্ষতি করতে গেলে সেই ক্ষতিটা যে নিজের হতে পারে সেই চিন্তা থেকে নিজের ভেতরের মানবিক গুণাবলি জাগিয়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, “মানুষের ভেতরের সুপ্রবৃত্তিগুলো যেন জাগ্রত হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। আমি বলব, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রচারটা করে যেতে হবে যাতে মানুষের ভেতরকার পশুত্বটা জেগে না ওঠে।”

ইউনিসেফের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় ১২৫ দশমিক ৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি কারিগরি প্রকল্পের আওতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর ২০১২ হতে ডিসেম্বর ২০১৬ মেয়াদি এই ‘চাইল্ড হেল্প লাইন’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুদের যে হেল্প লাইন চালু হয়েছে এটা সমাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে। যারা অপকর্ম করবে তারা ভীত সন্ত্রস্ত থাকবে যে, সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমাজের সবাইকে আমি বলব, প্রত্যেকেই এই চিন্তা করবেন যে, প্রত্যেকেরই সন্তান আছে, মা-বোন আছে তাদের নিরাপত্তা দেওয়া যেমন প্রত্যেকের দায়িত্ব আবার অন্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাও তাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।”

শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি রিমান্ডে

দিনাজপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি সাইফুল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আবেদনের ওপর শুনানির সময় আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। আসামি নিজেই জামিন প্রার্থনা করে। এ সময় সরকারি কৌঁসুলি সলিমুল্লাহসহ কয়েকজন আইনজীবী আসামির জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন।

161027-Child-rapist300.jpg

দিনাজপুরের শিশু ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি সাইফুল। নিউজরুম ফটো।

গত ১৮ অক্টোবর শিশুটি নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ওই দিন তাকে পাওয়া যায়নি। পরদিন ভোরে শিশুটিকে তার বাড়ির কাছে হলুদক্ষেতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায়।

“সরকার শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে,” বেনারকে জানান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি মাহবুবুল হক শাকিল। তিনি বৃহস্পতিবার শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে যান।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা ২০ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় সাইফুল ইসলাম (৪২) ও আফজাল হোসেন কবিরাজ (৪৮) নামে দুজনকে আসামি করা হয়। ২৪ অক্টোবর রাতে দিনাজপুর শহর থেকে গ্রেপ্তার হয় সাইফুল। তবে আফজাল পলাতক রয়েছে।

বর্তমানে শিশুটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। শিশুটির চিকিৎসায় গঠিত নয় সদস‌্যের মেডিকেল বোর্ড শিশুটিকে পর্যবেক্ষণ করছে।

“শিশুটির প্রজনন অঙ্গে সংক্রমণ দেখা গেছে। এই সংক্রমণ এখন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে,” বেনারকে জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আশরাফ উল হক কাজল।

তিনি বলেন, “শিশুটির প্রজনন অঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত। যদি সংক্রমণ রক্তে ছড়ায়, তাহলে বিষয়টি ভয়াবহ হতে পারে।”

মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বেনারকে বলেছেন, “এ ধরনের জঘন্য ও পাশবিক নির্যাতন রোধে আইনের সুষ্ঠু ও সময়োচিত প্রয়োগ দরকার।”

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওই উপদেষ্টা বলেন, আইন সক্রিয়ভাবে চলে না। তাকে চালাতে হয়। এখানে রাষ্ট্রের করণীয় অনেককিছুই আছে।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন