খুললো ফেসবুক, এখনো বন্ধ ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপ

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2015.12.10
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
BD-fb তিন সপ্তাহ ধরে ফেসবুক বন্ধ থাকার সময় অনেক সংগঠন রাস্তায় ফেসবুক খোলার দাবিতে সমাবেশ করে।
বেনার নিউজ

প্রায় তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক খুলে দিয়েছে বাংলাদেশের সরকার। যোগাযোগের অন্যতম এই মাধ্যমটি খোলা পেয়ে সস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে ব্যবহারকারীরা। তবে নিরাপত্তাজনিত সতর্কতার কারণেই এখনো বন্ধ রাখা হয়েছে ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপসহ ইন্টারনেটে যোগাযোগের অন্য মাধ্যমগুলো।

বৃহস্পতিবার সরকারের ‘নির্দেশনা’ পেয়ে ফেইসবুক খুলে দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। এদিন দুপুর থেকে সাধারণ মানুষ আবারও ফেসবুক ব্যবহার করতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন অনেকেই।


‘জনগনের সুবিধার্থে খোলা হল ফেসবুক’

২২দিন বন্ধ রাখার পর জনগণের সুবিধার্থেই তা আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বন্ধ করার সময়ও একই স্বার্থের কথা উল্খে করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তারানা হালিম সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের সুবিধার জন্য ফেইসবুক খুলে দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে গত ১৮ নভেম্বর থেকে ফেসবুক, ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপসহ ইন্টারনেটে যোগাযোগের বেশ কিছু জনপ্রিয় মাধ্যম বন্ধ করে দেয় সরকার। বিটিআরসির পক্ষ থেকে প্রথমে ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে আরেক নির্দেশনায় লাইন, ট্যাংগো, হ্যাংআউটসহ আরও কয়েকটি মাধ্যম বন্ধের কথা জানানো হয়।

তবে এ কাজটি করতে গিয়ে ওই দিন প্রায় দেড় ঘণ্টা ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে বাংলাদেশ। ওই দিন যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের আপীলের রিভিউর রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট।

তারানা হালিম বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা এখন বিঘ্নিত হবে না সেটি নিশ্চিত হয়েই সরকার ফেসবুক খুলে দিয়েছে। আশা করছি ফেইসবুক খুলে দেওয়ার পর নাশকতা হবে না।”

আর ফেসবুক খোলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন তথ্য  ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফেসবুক না থাকায় সমস্যায় পড়ছিলেন তরুণেরা। তাদের কথা মাথায় রেখে ফেসবুক খুলে দিতে অনুরোধ করেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

তবে ফেসবুকভিত্তিক অপরাধ কার্যক্রমের বিষয়টি ভবিষ্যতে সতর্কতার সঙ্গে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান তিনি।


এখনো বন্ধ ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপস

এদিকে ফেসবুক খোলা হলেও অল্পদিনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা ভাইবার, হোয়াটসঅ্যাপ লাইনসহ আরো কিছু ইন্টারনেট যোগাযোগের মাধ্যম এখনো বন্ধ রয়েছে। এসব অ্যাপসগুলো সহজে মনিটরিং করা যায়না বলেই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এ বিষয়ে এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘এসব অ্যাপস লোকেট বা মনিটরিং করা যায় না বলেই বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করে ওই সব অ্যাপস খোলার বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও বলেছেন, নিরাপত্তার বিষয়ে যখন কোনো হুমকি থাকবে না, তখন অন্য অ্যাপসগুলো খুলে দেবে সরকার। এসব মোবাইল অ্যাপগুলোর বিষয়ে ‘পরে সিদ্ধান্ত হবে’। জননিরাপত্তায় যে মাত্রার হুমকি ছিল, তা অনেকটাই কমে এসেছে। বাকি অ্যাপগুলো কন্ট্রোল করলে- হুমকি কন্ট্রোলে রাখা যাবে বলে আশা করছি।’

তরুণ প্রজন্মকে ধন্যবাদ

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের বিরাট একটি অংশ তরুণ। যোগাযোগ মাধ্যমটি স্বল্পকালীন বন্ধ থাকার বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য তাদেরকে ধন্যবাদ জানান তারানা হালিম। যদিও  সরকারের ওই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হতে না পেরে ফেসবুকসহ বন্ধ থাকা সামাজিক যোগাযোগের সব মাধ্যম দ্রুত খুলে দেওয়ার দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে  মানববন্ধন ও সমাবেশও হয়।

তরুণ সমাজকে ধন্যবাদ জানিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন “আমি জানি, তরুণ প্রজন্মের কাছে ফেসবুক অত্যন্ত প্রিয় মাধ্যম। তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই। জনস্বার্থে কিছুদিন ফেসবুক বন্ধ ছিল এটি তারা সহৃদয় চিত্তে মেনে নিয়েছেন, সেজন্য তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।”

এসময় সাময়িকভাবে ফেসবুক বন্ধে সরকারের সমালোচনাকারীদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে তারানা বলেন, ‘কারণ তারাও আমাদের সাময়িক অসুবিধাকে মেনে নিয়েছেন।’

তবে ফেসবুকে ব্যবসাকারীদের জনগণের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে ‘কিছুটা ক্ষতি হয়েছে’ বলে স্বীকার করেন প্রতিমন্ত্রী।


ফেসবুক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সস্তি

অনেকদিন পর ফেসবুক খোলা পেয়ে অনেকেই স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছেন। উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।

আহমেদ কায়কোবাদ নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী বেনারকে বলেন, ‘ফেসবুকহীন সময়গুলোতে অনেক গুরুত্বপুর্ন যোগাযোগ ও সামাজিকতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলাম। ফেসবুক ফিরে পেয়ে আজ ভীষণ খুশি লাগছে।’

ফেসবুকের মাধ্যমে ব্যবসাকারী আফরোজা আক্তার বলেন, ‘ঘরে বসেই ফেসবুকে পেজ খুলে আমি কিছু বাহারি পন্য বিক্রি করতাম। কিন্তু হঠাৎ ফেসবুক বন্ধ হওয়ায় আমার অর্ডার আসা বন্ধ হয়ে যায়। থেমে যায় আমার ছোট পুঁজির ব্যবসা। আশা করছি এখন পূর্ণ উদ্যেমে শুরু করতে পারব। ফেসবুকবিহীন সময় দীর্ঘায়িত না করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ’।

তবে ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপসহ অন্যান্য অ্যাপসগুলো খুলে দেওয়ার দাবি অব্যাহত রয়েছে।

থাইল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশি মিজানুর রহমান বেনারকে বলেন, ‘প্রবাসে থেকেও পরিবারের খুব কাছাকাছি থাকতে পারি ভাইবার, হোয়াটস অ্যাপের মত কিছু মোবাইল অ্যাপসের কারণে। প্রায় বিনা খরচে দীর্ঘক্ষণ কথা বলার জন্য এসব অ্যাপসের বিকল্প নেই আমাদের কাছে। যা দিয়ে ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সবার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারতাম। কিন্তু বাংলাদেশে তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সঙ্গে সেভাবে যোগাযোগ করতে পারছি না। সাধারণ মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ে ওঠা এসব অ্যাপসগুলোও ফেসবুকের মতই খুলে দেওয়া উচিত।’

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।