জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগে তিন সহোদর ও স্বামী–স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার সাত

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2016.10.04
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
20161004-BD-Militants1000.jpg সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকা থেকে তিন জঙ্গি সহোদরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অক্টোবর ০৪, ২০১৬।
বাংলা নিউজ

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে দেশজুড়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে প্রায় প্রতিদিনই আটক হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা।

এ ছাড়া সম্প্রতি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আত্মসমর্পনের ঘটনাও ঘটেছে। যাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়ানোর প্রবণতাও বাড়ছে বলে মনে করেন তাঁরা। বাদ যাচ্ছে না নারী সদস্যরাও।

মঙ্গলবার পৃথক দুটি অভিযানে সিরাজগঞ্জ ও নেত্রকোনা থেকে দুই নারীসহ সাত জঙ্গি সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। এদের মধ্যে তিনজন আবার সহোদর।

তিন সহোদর গ্রেপ্তার

সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল এলাকা থেকে তিন জঙ্গি সহোদরকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এরা হচ্ছে; সদর উপজেলার জামুয়া গ্রামের আবু বকর সিদ্দিকের ছেলে মো. সানাউল্লাহ (৪৮), লিয়াকত উল্লাহ (৩৮) এবং মো. বরকতুল্লাহ (৩০)।

পুলিশ জানায়, এই তিন ভাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীনের (জেএমবি) তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। জঙ্গি কর্মকান্ড পরিচালনার অভিযোগে এদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওহেদুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, “আমরা জানতে পারি, গোপন জঙ্গি তৎপরতার অংশ হিসেবে সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল এলাকায় এই তিন ভাই অবস্থান করছিল। সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।”

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “এই তিনজনই বগুড়ার একটি সন্ত্রাসী মামলায় জামিনে আছেন। এ ছাড়া গত ২০ সেপ্টেম্বর সলঙ্গার এরান্দহ থেকে জেএমবির জেলার শাখার সভাপতিসহ ৪ সদস্যকে আটকের মামলায় এরা পলাতক আসামী।”

এ বিষয়ে ওহেদুজ্জামান বেনারকে বলেন, “আটকের পর মঙ্গলবার দুপুরে এই তিন ভাইকে আদালতে হাজির করা হয়। পাঁচদিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।”

স্বামী–স্ত্রীসহ চারজন গ্রেপ্তার

এদিকে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে নেত্রকোনার পৌর শহর এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে হিযবুত তওহীদের চার সদস্যকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এদের দুজন স্বামী-স্ত্রী।

গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে; নেত্রকোনা সদরের মনিরুজ্জামান (৩৩) ও তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার (২৩), নালিতাবাড়ি উপজেলার পারুল আক্তার (৩০) ও শরীয়তপুর জেলার সুজন হাওলাদার (২৮।

এ প্রসঙ্গে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খান মোহাম্মদ আবু নাসের বেনারকে জানান, “মনিরুজ্জামান হিযবুত তওহীদের নেত্রকোনা জেলা আমীর। স্ত্রী সুমাইয়া ও তার বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় সন্ত্রাস ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও আটক চারজনের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।”

এদিকে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে যোগ দেওয়ার প্রবণতা বাড়তে থাকায় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকেরা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাহফুজুল হক মারজান বেনারকে বলেন, “পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়ানোর বিষয়টি নতুন নয়। তবে এখন এটি উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে, যা থেকে নারী সদস্যরাও বাদ যাচ্ছে না।”

তাঁর মতে, “আপনজনদের জঙ্গিবাদে যুক্ত করে পরিবার থেকেই সদস্য সংখ্যা বাড়াচ্ছে জঙ্গিরা। ধীরে ধীরে পরিবার থেকে সমাজে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। এভাবেই তারা শক্তিশালী হয়ে উঠছে।”

তিন জঙ্গির আত্মসমর্পণ

সারাদেশে জঙ্গি আটক অভিযান চলার মধ্যে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সদস্য তিন ভাই-বোন পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জঙ্গি আটক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জঙ্গি সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আহবান জানিয়ে আসছে পুলিশ।

আত্মসমর্পণ করা তিনজনের মধ্যে বড় বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ছোট দুই ভাইয়ের একজন যশোরের একটি কলেজ থেকে এবং অন্যজন পলিটেকনিক থেকে পাশ করেছেন। তাদের বাবা মিশর প্রবাসী।

পালিয়ে বেড়ানোর জীবন তাদের পছন্দ হচ্ছে না বলে সাধারণ জীবনে ফেরার আগ্রহে তারা আত্মসমর্পণ করেছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যশোর জেলা পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান।

এ প্রসঙ্গে মাহফুজুল হক মারজান বলেন, “জঙ্গি সংগঠনের আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা যদি গুরুতর অপরাধ না করে থাকে, তাহলে তাদের শাস্তির মাত্রা কমানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে করে অন্যান্য সদস্যরাও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে অনুপ্রাণিত হবে।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।