গারো তরুণী ধর্ষণ মামলায় অভিযোগপত্র

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2015.08.24
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
BD-rape গারো তরুনী ধর্ষণ মামলায় বামে তুষার ও ডানে লাভলুর বিরুদ্ধে রোববার র‍্যাব অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। ২৩ আগষ্ট,২০১৫
বেনার নিউজ

রাজধানীতে গত ২১ মে মাইক্রোবাসে তুলে গারো তরুণীকে ধর্ষণের মামলায় দুজনের বিরুদ্ধে গত রোববার আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা নিয়ে দেশব্যাপী নিন্দা, ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল।

“ঘটনার তিন মাসের মধ্যে এ ধরনের মামলার অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যান্য ঘটনায়ও অপরাধীদের যত দ্রুত সম্ভব বিচারের মুখোমুখি করতে হবে,” বেনারকে জানান মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির।

তাঁর মতে, নারীর প্রতি এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটলে কিছুদিন হইচই হয়, আলোচনা হয়, তারপর অন্য আরেকটি ঘটনা ঘটলে তার আড়ালে সেটা চাপা পড়ে যায়।

উল্লেখ্য, এ ঘটনার পর মামলা নিতে পুলিশ প্রথমে গড়িমসি করে।  এরপর মামলা নিতে সময়ক্ষেপণ কেন ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে অবহেলার জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, ধর্ষিতাকে কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না- তাও জানতে চেয়েছিলেন আদালত।

নারীপক্ষ, মহিলা পরিষদ, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড  অ্যান্ড´ সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) এ রিট আবেদনটি দায়ের করেছিল।

র‍্যাব-১-এর সহকারী পরিচালক আজমিলা নাসরিন চৌধুরী গত রোববার বিকেলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দুই আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৯(৩) ধারায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগপত্র ভুক্ত দুই আসামি হলেন একটি বায়িং হাউসের মাইক্রোবাসের চালক আশরাফ খান ওরফে তুষার ও জাহিদুল ইসলাম ওরফে লাভলু। এ মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

চলতি বছরের ২১ মে রাতে গারো ওই তরুণীকে মাইক্রোবাসে তুলে আসামিরা ওই অপরাধকর্ম করেন। তরুণীটি যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকানে কাজ করতেন।

ওই ঘটনায় ২২ মে ভাটারা থানায় মামলা করা হয়। ২৬ মে আসামি আশরাফ ও ২৭ মে জাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।  দুজনই কারাগারে আছেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় র‍্যাব। এরপর আদালতের অনুমতি নিয়ে ২৮ মে থেকে ১০ দিন এই দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব।


অভিযোগে ঘটনার বিবরন

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৭ মে আশরাফ দুই বিদেশিসহ যমুনা ফিউচার পার্কের একটি দোকানে যান। সেখানে ওই তরুণী কাজ করতেন। আলাপের একপর্যায়ে আশরাফ তাঁকে চাকরির প্রলোভন দেখান।

২১ মে রাত নয়টার দিকে ওই তরুণী কাজ শেষে বাসায় ফেরার জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় সড়কে মাইক্রোবাসের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন আশরাফ ও জাহিদুল। আশরাফ ওই তরুণীর গন্তব্য জানতে চান। তরুণী উত্তরা যাবেন বলে জানান।

আশরাফ তাকে মাইক্রোবাসে করে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বললে তরুণী রাজি হননি। তখন তারা জোর করে তরুণীকে মাইক্রোবাসে তোলেন।

তরুণীকে মাইক্রোবাসে তোলার পর জাহিদুল মাইক্রোবাস চালাতে শুরু করেন। আশরাফ তরুণীকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে প্রথমে ধর্ষণ করেন। পরে আশরাফ চালকের আসনে বসে মাইক্রোবাস চালান এবং জাহিদুল ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে তরুণীকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, দুই আসামিই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে মিল না থাকায় র‍্যাব তদন্তকালে নতুন করে তাদের জবানবন্দি নেয়।

মামলার এজাহারে পাঁচজনের কথা উল্লেখ করা হলেও র‍্যাবের তদন্তে দুজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তিন সাক্ষী মাহবুব, নুরুল আলম ও খোকন সর্দার ঢাকার মহানগর হাকিমের কাছে তুষার ও লাভলুর বিরুদ্ধে জবানবন্দি দেন।

“মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর দেয়ার পর তা পর্যবেক্ষণ ও যাচাই-বাছাই করে আমলে নিয়ে বিচারের জন্য মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হবে,” বেনারকে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।