বাংলাদেশে নারী ভোটার বাড়াতে বিশেষ প্রচারণা

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2015.08.21
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
BD-voter নয়টি বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা বৃহস্পতিবার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘সব নারী ভোটার হও’ প্রচারণার ঘোষণা দেন। ২১ আগষ্ট,২০১৫
বেনার নিউজ

বাংলাদেশে নারী ভোটার সংখ্যা বাড়াতে শুরু হয়েছে ‘সব নারী ভোটার হও’ শিরোনামের একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন। ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে ভোটারযোগ্য নারীদের অন্তর্ভুক্ত করে নারী ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধিতে বেসরকারি কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার নয়টি সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওয়েবসাইট (www. womencountbd. org) উদ্বোধন ও প্রচারাভিযান শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়।

দেশে নারীর সংখ্যানুযায়ী ভোটার তালিকায় নারীদের পরিমান কম হওয়ায় এবার নারী ভোটারদের সংখ্যা বৃদ্ধিতে এই প্রচারাভিযান শুরু করা হয়েছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর উইমেন লিডারশিপ, ব্রতী, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক, ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ, ইনস্টিটিউট অফ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট, জাগো ফাউন্ডেশন, কাবিডাং এবং খাগরাপুর মহিলা কল্যাণ সমিতি এ উদ্যোগ নিয়েছে।


মাত্র ৪৪ শতাংশ নারী ভোটার

সংগঠনগুলো জানায়, ২০১৪ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্যে দেখা যায়, মাত্র ৪৪ শতাংশ নারী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অথচ ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ৪৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ হচ্ছে নারী। তাই নারী ভোটারদের একটি উল্লেখ যোগ্য অংশ ওই তালিকা থেকে বাদ  পড়েছে।

হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকায় নারীদের সংখ্যা যথাযথভাবে প্রতিনিধিত্বমূলক না হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।


সহায়তা চায় নির্বাচন কমিশন

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পরিচালক আবদুল আলিম বেনারকে বলেন, “ভোটার তালিকায় নারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কম থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন আমাদের সহায়তা চায়। তারই প্রেক্ষিতে কয়েকটি বেসরকারি সংগঠন মিলে নারী ভোটার বাড়ানোর জন্য এই প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। ভোট দেওয়া প্রত্যেক মানুষের নাগরিক অধিকার। আবার এখন ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে জাতীয় পরিচয় পত্র পাওয়াও সম্ভব নয়”।

তিনি জানান, এসব মাথায় রেখে আমাদের প্রচারাভিযানের পক্ষ থেকে ২০১৪ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী যেসব উপজেলায় নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যে সর্বাধিক ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়েছে সেসব উপজেলায় জনগণকে তথ্য দিয়ে বেশ কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। মাইকিং করে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা কবে বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবে ওই তারিখ জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মসজিদের ইমামসহ ধর্মীয় নেতাদের সাহায্যেও মানুষকে জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। চলছে লিফলেট বিতরণ।

তিনি আরো বলেন, “এই প্রচারণার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে, এবার যাতে ভোটারযোগ্য নারীরা কোনো ভাবেই বাদ না পড়ে।”

সম্প্রতি কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে-বিশেষ করে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের সহযোগিতা চায়।


‘ত্রুটিপূর্ণি ছিল নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ প্রক্রিয়া’

মহিলা পরিষদের সহ-সম্পাদিকা মালেকা বানু বেনারকে বলেন, শহর থেকে গ্রাম, কোনখানেই নারীরা পিছিয়ে নেই। সব জায়গার নারীরাই এখন অনেক সচেতন। বাংলাদেশ অনেক সামাজিক উন্নয়ন সূচকে এগিয়ে আছে নারীদের কারণেই। গত দুই দশক ধরে নির্বাচনের ফলাফল জরিপ করলে দেখা যায়, নারীদের ভোটই ফলাফলের নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি আরো বলেন, “সুতরাং এটা বলার সুযোগ নেই যে, ভোট দিতে নারীদের আগ্রহ কম। বা নারীরা ভোটাধিকার নিয়ে সচেতন নয়। বরং নির্বাচন কমিশনের ত্রুটিপূর্ণ হালনাগাদ প্রক্রিয়ার কারণেই বলা যায় বহু নারী ভোটার হতে পারেননি। অনেক নারীরাই হালনাগাদের তথ্যটি জানতেন না। অনেকে অভিযোগ করেছেন নির্বাচন কমিশনের লোকজনের দেখাই তারা পাননি। তাই আমাদের ক্যাম্পেইনে যেমন আমরা নারীদের সচেতন করার চেষ্টা করছি, নির্বাচন কমিশনকেও তেমনি প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজনে নারীরা কখন বাড়িতে থাকবেন সে সময় অনুযায়ী যেতে হবে।”

“নারী ভোটার কমে গেলে নারীর ক্ষমতায়নের পথে বাধা তৈরি হবে, সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে নারী। তাই নারীদের বাদ পড়ার কারণ খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে ইসিকে।” যোগ করেন এই নারী নেত্রী।

আয়োজকরা জানান, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছে নির্বাচন কমিশন। খুব শীঘ্রই আরেকবার হালনাগাদ প্রক্রিয়া শুরু হবে। যতদিন সেই প্রক্রিয়া চলবে ততদিনই চালানো হবে ‘সব নারী ভোটার হও’ প্রচারণা।


নারী ভোট সবচেয়ে কম ফেনীতে

নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, ৫ লাখ ৫৮ হাজার একশ তিন জন নারী সর্বশেষ খসড়া সম্পূরক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। নারী ভোটারের সংখ্যা সবচেয়ে কম ফেনী জেলায়। সেখানে মাত্র ৩০ শতাংশ নারী ভোটার হয়েছেন। এছাড়া নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ আরো কিছু এলাকায় নারী ভোটার কম পাওয়া গেছে। ছবি তুলতে অনীহা, বয়স কমিয়ে বলা, জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে টাকা খরচ হওয়াসহ নানা কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকার নারীরা  ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বলে নির্বাচন কমিশনের অভিমত।

তবে আলিম বলেন, “নির্বাচন কমিশনের এসব অভিযোগ খানিকটা অযৌক্তিক। কী কারণে ভোটার তালিকায় নারীদের সংখ্যা কম তা খুঁজে বের করতে এলাকাভিত্তিক একটি জরিপ করার চেষ্টা করছি আমরা।”


স্বাগত জানাল ইসি

বেসরকারী সংগঠনগুলোর এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারা আশা করছে, এ প্রচারণার মাধ্যমে নারী ভোটাররা সচেতন হয়ে উঠবে। ভোটার তালিকায় বৃদ্ধি পাবে তাদের সংখ্যা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বেনারকে বলেন, নিঃসন্দেহে এটি চমৎকার উদ্যোগ। আশা করছি এর মাধ্যমে সারা দেশের নারীরা ভোটার হওয়ার গুরুত্ব অনুধাবন করে নিজ থেকেই ভোটার হওয়ার তাগিদ অনুভব করবে। এছাড়া প্রক্রিয়া সম্পর্কেও অবহিত হবে।

তবে ইসি’র হালনাগাদ থেকে বিরাট সংখ্যক নারী ভোটার কিভাবে বাদ থেকে গেল সে বিষয়ে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।


মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।