Follow us

সিলেটে নৃশংসতার শিকার কলেজ ছাত্রী খাদিজার অবস্থা সংকটাপন্ন

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016-10-04
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিবাদে সিলেটের এমসি কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ। অক্টোবর ০৪, ২০১৬।
কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে কুপিয়ে আহত করার প্রতিবাদে সিলেটের এমসি কলেজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ। অক্টোবর ০৪, ২০১৬।
স্টার মেইল

এক বখাটের চাপাতির কোপে মারাত্মক আহত সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা বেগম এখন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কণিকা ঘোষ ও ঢাকায় স্কুল ছাত্রী রিশা হত্যার রেশ না কাটতেই বখাটের নৃশংসতার শিকার হলেন সিলেটের ওই কলেজ ছাত্রী।

চিকিৎসকেরা বলছেন, খাদিজার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। খাদিজাকে কোপানোর সময় জনতার হাতে ধরা পড়া বখাটে বদরুল আলম পুলিশের পাহারায় চিকিৎসাধীন আছে।

খাদিজা সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। গত সোমবার পরীক্ষা দিতে তিনি সিলেটের এমসি কলেজে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে খাদিজাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম (২৬)। বদরুল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির ছাত্র।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউ কেউ খাদিজা বেগমকে কোপানোর দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করে, যা এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, বদরুল খাদিজাকে মাটিতে ফেলে উপুর্যপরি কোপাচ্ছে। ভিডিওর প্রথমাংশে খাদিজাকে যন্ত্রণায় চিৎকার করতে শোনা গেলেও এক পর্যায়ে তিনি নিথর হয়ে পড়েন।

20161004-CollegeSutdent-Khadija300.jpg

খাদিজা বেগম ফাইল ফটো: পারিবারিক সূত্র

সিলেট এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় খাদিজাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে নিয়ে যান। মাথায় জরুরী অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা তাঁকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন।

ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর দ্বিতীয় দফা অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন,খাদিজার যে শারীরিক অবস্থা তাতে করে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৫ শতাংশের মতো। তাঁকে এখন লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।

দুপুরে অস্ত্রোপচারের পর নিউরোসার্জারি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক রেজাউস সাত্তার বেনারকে বলেন, “খাদিজার মাথায় ও দুই হাতে অসংখ্য কোপের ক্ষত রয়েছে। খুবই জটিল একটি অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে তাঁর মাথায়। ৭২ ঘন্টার আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।”

এ দিকে হামলাকারী বদরুল খাদিজাকে কুপিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় কলেজ ছাত্র ও স্থানীয়রা তাকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

বদরুল এখন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের বদরুল বলেন, প্রেমে ব্যর্থ হয়ে তিনি এই কান্ড ঘটিয়েছেন।

সিলেট সদর উপজেলার আউশা গ্রামে খাদিজাদের বাড়িতে গতকাল দিনভর ছিল আহাজারি। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে খাদিজা দ্বিতীয়। সৌদি আরব প্রবাসী খাদিজার বাবা মাশুক মিয়া দেশের পথে রওনা হয়েছেন।

প্রতিবেশীরা জানান, বদরুল বেশ কিছুদিন ধরেই খাদিজাকে উত্যক্ত করে আসছিল। ২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারি গ্রামবাসী বদরুলকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। গ্রামবাসীর পিটুনি খেয়ে বদরুল পরদিন জালালাবাদ থানায় তাকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে মামলা করে। মারধরকারীদের জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মী হিসেবেও উল্লেখ করে। পুলিশ ২০১২ সালের ৩১ মে ১৪ জনের নামে অভিযোগপত্র দেয়।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত–সংশ্লিষ্ট একজন পুলিশ সদস্য বলেন, ওই অভিযোগপত্রটি বদরুলের পছন্দ হয়নি। এই নিয়ে সে বেশ কয়েকবার পুলিশকে শাসিয়েছে। গত সোমবার খাদিজাকে কোপানোর পেছনে সেই ঘটনার ক্ষোভ থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি শেষ বর্ষের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক।

তবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বেনারকে বলেন, “বদরুল সুনামগঞ্জের ছাতকে একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কর্মজীবনে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্রলীগ থেকে বদরুলের পদ বাতিল হয়েছে। তা ছাড়া এটা তার ব্যক্তিগত  পাশবিকতা।”

হামলার ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে  মঙ্গলবার হত্যাচেষ্টার অভিযোগে শাহপরান থানায় মামলা করেছেন।

সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

খাদিজার ওপর হামলাকারী বদরুল আলমের দ্রুত বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সরকারি মহিলা কলেজ ও এমসি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নগরের জিন্দাবাজারে মহিলা কলেজের ছাত্রীরা ও দুপুরে টিলাগড় মোড়ে এমসি কলেজের ছাত্রছাত্রীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন