গাইবান্ধায় সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.05.25
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
GaibandhaPic620.jpg গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীকে হত্যা করা হয়।
উপজেলা পরিষদ, গোবিন্দগঞ্জ।

এবার দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় জুতা ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র প্রামাণিককে (৬৮) ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যার কারণ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।

প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে একই উপজেলায় আরেক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ী তরুণ দত্তকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যার পর দায় স্বীকার করেছিল জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট—আইএস।

হত্যার ধরন দেখে পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, দেবেশ হত্যাকাণ্ডে জঙ্গিরা জড়িত থাকতে পারে। তবে গতকাল রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত কোনো জঙ্গি সংগঠন হত্যার দায় স্বীকার করেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে জবাই করে হত্যার ঘটনাগুলোতে তিনজন করে মোটর সাইকেল আরোহী ছিল। গতকালও হত্যাকাণ্ডের পর তিন ব্যক্তি মোটরসাইকেলযোগে চলে যায়।

“নিহতের গলা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। কেন কি কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত করা হচ্ছে,” জানান গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গতকাল সকালে দেবেশ চন্দ্র প্রতিদিনের মতো বাড়ি সংলগ্ন মহিমাগঞ্জ বাজারের প্রামাণিক সু স্টোরে বসেন। তার স্ত্রী আনন্দ রানি প্রামাণিক এসময় হাঁটতে বের হন।

সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে স্ত্রী প্রাতঃভ্রমন শেষে বাড়িতে ফেরেন। দোকানে ঢুকে তিনি স্বামীর গলাকাটা লাশ দেখতে পান। পুলিশ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, নিহতের স্ত্রী চিৎকার করার আগে মোটরসাইকেল যোগে তিন থেকে চারজন অপরিচিত লোক দোকান থেকে বের হয়। অপরিচিত ওই সব ব্যক্তি জঙ্গি সংগঠনের সদস্য হতে পারে বলে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছে।

“জঙ্গি সংগঠন আইএস কয়েক মাস আগে ব্যবসায়ী তরুণ দত্তকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিল। দেবেশকে হত্যার পেছনেও তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে,” টেলিফোনে বেনারকে জানান মহিমাগঞ্জ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হৃষিকেশ ঘোষ।

তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার। এভাবে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চলতে পারে না।

আটক একজন

পুলিশ এই ঘটনায় নিপেন চন্দ্র (৩৫) নামের এক সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। নিপেন মহিমাগঞ্জ গ্রামের মৃত লক্ষণ চন্দ্রের ছেলে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আনন্দ রানি বাদী হয়ে নিপেনসহ অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

“আমার স্বামী কি দোষ করেছিল।তার কোনো শত্রু ছিল না।আমি হত্যাকারীদের বিচার চাই,” স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান নিহতের স্ত্রী আনন্দ রানি।

নিহত দেবেশ চন্দ্রের চার মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

নিহতের ছেলে দেবাশীষ প্রামাণিক সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় কয়েকজন মাদকাসক্ত যুবক সম্প্রতি তাঁর বাবার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। এ নিয়ে বাবার সঙ্গে তাদের কথাকাটাকাটি হয়। এই সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হতে পারে।

তবে হত্যার অন্য কারণও থাকতে পারে বলে মনে করেন দেবাশীষ। তিনি বগুড়া আজিজুল হক কলেজে অনার্সের ছাত্র।

তরুণ দত্তের মামলায় অগ্রগতি নেই

গত ৮ ফেব্রুয়ারি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা শহরের মধ্যপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী তরুণ দত্তকে (৩৮) গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত তরুণ দত্ত উপজেলা শহরের মধ্যপাড়ার মৃত হিরেন দত্তের ছেলে।

ওইদিন সকালে স্থানীয় লোকজন বর্ধন কুটি এলাকার একটি কালভার্টের নিচে গলাকাটা অবস্থায় তরুণ দত্তের লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ ও শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা মাথা উদ্ধার করে।

নিহত ব্যবসায়ীর স্ত্রী মিতা দত্ত বাদী হয়ে ওইদিন কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার দুই মাস পর গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করে।

“ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তবে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়নি,” বেনারকে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গাইবান্ধা সিআইডির পরিদর্শক সাইদুল আলম।




মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।