Follow us

মানবপাচার মোকাবিলায় সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2016-07-01
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
মিয়ানমার থেকে পাচার হওয়া নাগরিকদের ফেরত আনা হয়। জুন ২০১৫।
মিয়ানমার থেকে পাচার হওয়া নাগরিকদের ফেরত আনা হয়। জুন ২০১৫।
বেনার নিউজ

জোরপূর্বক কাজে বাধ্য করতে এবং যৌনকাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে পুরুষ, নারী ও শিশু পাচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মূলত একটি উৎস দেশ, কখনো কখনো ট্রানজিট এবং গন্তব্য দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ৩০ জুন ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রকাশিত ২০১৬ সালের মানবপাচার প্রতিবেদনে (ট্রাফিকিং ইন পারসনস রিপোর্ট বা টিআইপি প্রতিবেদন) এ কথা বলেছেন।

শুক্রবার মার্কিন দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মানবপাচার নির্মূলে নূন্যতম মান পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি বিধায় প্রতিবেদনে বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্তরে মূল্যায়িত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেশটির জন্য পরামর্শগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১২ সালের “মানবপাচার রোধ ও দমন আইন” বাস্তবায়নের জন্য নীতিমালা চূড়ান্তকরণ ও গ্রহণ এবং তা ব্যবহারে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান।

ট্রাফিকিং ভিক্টিমস প্রটেকশন অ্যাক্টের (টিভিপিএ) আওতায় প্রতিবেদনটি আধুনিক দাসপ্রথার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী সরকারসমূহের লড়াই প্রচেষ্টার মূল্যায়ন করে।

প্রতিবেদনে মানবপাচার মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডির আওতায় ‘বাংলাদেশ কাউন্টার ট্রাফিকিং ইন পার্সন’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলা হয়।

২০০১ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র টিআইপি প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এ বছর বিশ্বের ১৮৮টি দেশের মধ্যে ৩৬টি দেশ টায়ার এক অর্জন করেছে। বিশ্বের ৭৮টি দেশ টায়ার দুই অর্জন করে। টায়ার দুই এর পর্যবেক্ষণ তালিকায় আছে ৪৪টি দেশ। এ ছাড়া ২৭ টি দেশ আছে টায়ার ৩ এর তালিকায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের তুলনায় ২৭টি দেশের অবনতি হয়েছে, ২০ টি দেশের উন্নতি হয়েছে।

প্রতিবেদন বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্খান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব জাবেদ আহমেদ বেনারকে বলেন, “এ প্রতিবেদনে মানবপাচার রোধে বাংলাদেশের সাফল্যের অংশই বেশি দেখানো হয়েছে। আসলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতায় বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে মানবপাচার প্রায় শূণ্যে নেমে এসেছে।”

এর কৃতিত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দিয়ে সরকারের ওই কর্মকর্তা বলেন, তাঁরা অনেক কাজ করেছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

নারী অভিবাসন উন্মুক্ত করায় পাচার বন্ধ হয়েছে উল্লেখ করে জাবেদ আহমেদ বলেন, “আমাদের দেশে থেকে মেয়েরাই সবচেয়ে বেশি পাচারের শিকার হতো। শ্রমবাজার উন্মুক্ত করে দেওয়ার পরে এখন প্রায় চার লাখ নারী দেশের বাইরে কাজ করছে। নারী অভিবাসন আরো বাড়ালে পাচার একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।”

গত বছরের মানবপাচার প্রতিবেদন

গত বছর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মানবপাচার বন্ধে বাংলাদেশ সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো ‘যথেষ্ট’ না হলেও আশাব্যঞ্জক।

বাংলাদেশের প্রশংসা করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের উচিত মানবপাচার বন্ধে আইন ও প্রশাসন-ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করা।

২০১৫ সালের ১৯ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মানবপাচার কিছুটা কমেছে। পাচার হয়ে যাওয়া অনেক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, অনেক দেশে মানবপাচারবিরোধী আইন প্রণীত হয়েছে এবং অনেক দেশের সরকার এ কাজকে বেআইনি ঘোষণা করেছে।

অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রামের (ওকাপ) নির্বাহী পরিচালক ওমর ফারুক বেনারকে বলেন, “তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃ্খলা বাহিনীর কঠোরতায় সাগরপথে মানব পাচার থেমে গেলেও পুরোপুরি তা বন্ধ হয়ে যায়নি।”

তাঁর মতে, ভিন্ন পথে ভিন্নভাবে মানবপাচার চলছে। তা ছাড়া দোষীরা উপযুক্ত শাস্তি না পেয়ে আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে আবারও মানবপাচার শুরু হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন