Follow us

মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের নুতন রুট, ২০ বাংলাদেশি আটক

ঢাকা থেকে জেসমিন পাপড়ি
2016-10-12
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নাগরিকদের আটক করে কোস্টগার্ড। জুন ১১, ২০১৪।
অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের নাগরিকদের আটক করে কোস্টগার্ড। জুন ১১, ২০১৪।
স্টার মেইল।

বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকার পরে নতুন কৌশলে আবারও শুরু হয়েছে মানবপাচার। উন্নত জীবনের লোভ দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া হয়ে আবারও অবৈধভাবে নৌপথে মালয়েশিয়া পাঠানো হচ্ছে বিদেশ গমনেচ্ছুকদের।

গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার উপকূল থেকে এমনই ২০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

এর সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য অন অ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা থাকায় প্রথমে আকাশপথে ইন্দোনেশিয়ায়, পরে নৌ পথে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার হচ্ছে।

২০১৫ সালে বাংলাদেশ থেকে সাগর পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার পথে সহস্রাধিক বাংলাদেশি আটক হয়। মানবপাচারকারীদের খপ্পরে পড়া এসব বাংলাদেশিদের অনেকেই ক্ষুধা-তৃষ্ণায় পথে মারা যান। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সে সময় ওই ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

মালয়েশিয়ার উপকূলে ২০ বাংলাদেশি আটক

মঙ্গলবার নৌকায় করে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় প্রবেশের চেষ্টার সময় ২০ বাংলাদেশিকে আটক করে দেশটির নৌ-পুলিশ। মালয়োশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, কুয়ালা সুংগাই বেগান তেংকোরাক এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পোর্ট ক্লাং নৌ-পুলিশের কর্মকর্তা রোহাইজাদ মো. নাসিরকে উদ্ধৃত করে বারনামা জানায়, ইন্দোনেশিয়া থেকে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে নৌকাটি মালয়েশিয়ার জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। আরোহীদের বয়স ২০ থেকে ৪২ বছরের মধ্যে।

নতুন রুট ইন্দোনেশিয়া

ইন্দোনেশিয়া হয়ে নতুন করে নৌপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এখনই মানব পাচারের নতুন এই রুট বন্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে মালয়েশিয়া থেকে ক্যারাম এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়ক হারুন আল রশিদ টেলিফোনে বেনারকে বলেন, “ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য পোর্ট এন্ট্রি ভিসা (অন অ্যারাইভাল) সুবিধা রয়েছে। এই সুযোগে মানবপাচারকারীরা শ্রমিকদের প্রথমে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠাচ্ছে। এরপর সেখানকার দালালেরা তাদের নৌপথে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করছে।”

তিনি জানান, পাঁচ-ছয় মাস আগেও একই পথে পাচারকারীসহ কয়েকজন বাংলাদেশি ধরা পড়ে। এখনই বাংলাদেশ সরকারকে এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

“এভাবে মানবপাচার বাড়তে থাকলে নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশকে পোর্ট এন্ট্রি ভিসা সুবিধা বন্ধ করে দিতে পারে ইন্দোনেশিয়া। তখন দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক বিনষ্ট হতে পারে,” জানান হারুন আল রশীদ।

উন্মুক্ত হওয়ার পথে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার

এদিকে বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম বাজার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে মালয়েশিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস। তাই অবৈধ পথে দেশটিতে না যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার আটক ওই ২০ বাংলাদেশির পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি দূতাবাস।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর মো. সায়েদুল ইসলাম বেনারকে বলেন, “মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। আগ্রহীরা সহজে এবং সাশ্রয়ে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন। তাই অবৈধভাবে এ ধরনের ঝুঁকি না নেওয়ার অনুরোধ জানাই।”

তিনি বলেন, “২০ বাংলাদেশি আটক হওয়ার বিষয়টি আমরা স্থানীয় পত্রিকার খবরে জেনেছি। দূতাবাস ছুটি থাকায় তাদের খোঁজ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাদের পরিচয় জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

মানবপাচার রোধে প্রস্তুত বাংলাদেশ

বাংলাদেশে শীতের মৌসুম আসছে। এ সময়ে সাগর শান্ত থাকায় নৌপথে মানবপাচার বেড়ে যায়। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় গত দুই বছর ধরে সেটা বন্ধ রয়েছে। এবারও এ বিষয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

এ প্রসঙ্গে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন বেনারকে বলেন, “গত শীত থেকে এ পর্যন্ত মানবপাচার প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এই সময়ের মধ্যে মানবপাচার হওয়ার তথ্য আমরা পাইনি।”

আসছে শীতে সমুদ্র শান্ত হলে মানবপাচার বাড়ার আশঙ্কা থাকা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, “মানবপাচার রোধে কোস্টগার্ড, পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব কাজ করছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত একটি কমিটি এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছে।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন