কল্যাণপুর অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.09.28
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
20160927-Kolyanpur-militants1000.jpg কল্যাণপুরে নিহত নয় জঙ্গির মরদেহ দাফনের আগে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৬।
স্টার মেইল

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জনের মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের চার দিনের মাথায় কল্যাণপুর অভিযানে নিহত নয় জঙ্গির মরদেহ একই প্রক্রিয়ায়, একই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গত ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে এই নয় জঙ্গি নিহত হয়েছিল।

ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগ সূত্র বেনারকে জানায়, সেখানকার মরচুয়ারিতে আরও পাঁচ জঙ্গির মরদেহ রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি লাশ আসে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া থেকে এবং ঢাকার রূপনগর ও আজিমপুর থেকে আসে আরও দুটি লাশ।

নিহত জঙ্গিদের মরদেহগুলো খুব শিগগির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে দাফন করা হবে বলে গত মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে ইঙ্গিত দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। বুধবারই নয়টি মরদেহ দাফন হয়েছে, বাকি পাঁচটিও একই প্রক্রিয়ায় দাফন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। আগেই দাফন হয়েছে ছয়টি। মোট এই কুড়িটি লাশ নিয়ে বিপাকে পড়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলমের উপস্থিতিতে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আঞ্জুমানের কাছে নয়টি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।

এরপর স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের সদস্যরা লাশ দাফনের ব্যবস্থা করেন। জুরাইন কবরস্থানে নয়জনের লাশ দাফনের আগে ধর্মীয় রীতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, কল্যাণপুরে গভীর রাতে চালানো অভিযানের পরদিন ময়নাতদন্ত করে লাশগুলো ঢাকা মেডিকেলের হিমঘরে রাখা হয়েছিল।

“পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ লাশ নিতে যোগাযোগ করেনি। এ জন্য প্রায় দুমাস পর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে মরদেহগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে,” বেনারকে জানান ঢাকা মেডিকেলে কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ।

জঙ্গিদের ঘরের ভেতর ছিল আরবিতেআল্লাহু আকবর’ লেখা কালো পতাকা ছবি:ডিএমপি

নিহতদের পরিবারের একাধিক সূত্র জানায়, অনানুষ্ঠানিকভাবে মরদেহগুলোর খোঁজখবর নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ লাশ নিতে আবেদন করেননি।

নিহত একজনের বাবা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লাশ দেওয়া হবে না মর্মে ইঙ্গিত পেয়ে ওটা পাওয়ার চেষ্টা করেননি।

ওই ঘটনায় নিহত সেজাদ রউফ অর্কের বাবা তৌহিদ রউফ বেনারকে বলেন, গতকাল ছেলের লাশ দাফন হওয়ার খবর জানার পর বাসায় জানাজা পড়িয়েছেন। এ প্রসঙ্গে আর কিছু বলতে চাননি তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কল্যাণপুরে ‘তাজ মঞ্জিল’ নামে ওই বাড়িটির কক্ষ ভাড়া নিয়ে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা করছিল নিহত নয় জঙ্গি। ‘অপারেশন স্টর্ম ২৬’ নামে যৌথ বাহিনীর অভিযানে তারা নিহত হয়।

আঞ্জুমান কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বেনারকে বলেন, সম্পূর্ণ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বুধবার দুপুরের দিকে নয়জনের মৃতদেহ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নিহত নয়জনের মধ্যে একটি মরদেহ ছিল অজ্ঞাত। একজনের পরিবার ডিএনএ নমূনা দেয়নি। মোট আটজনের আঙুলের ছাপ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

চিকিৎসক সোহেল বলেন, মৃতদেহগুলো থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্য কোনো সংস্থার প্রয়োজনের বিষয়টি মাথায় রেখে অতিরিক্ত নমুনাও রাখা হয়েছে।

কল্যাণপুরে নিহতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সেজাদ রউফ অর্ক (২৪) ছিল গুলশান হামলায় নিহত নিবরাজের বন্ধু এবং গত ফেব্রুয়ারিতে দুজনই একসঙ্গে নিখোঁজ হয়েছিল।

বাকিরা হচ্ছে; আকিফুজ্জামান খান (২৪), তাজ-উল-হক রাশিক (২৫), রায়হান কবির ওরফে তারেক (২৬), মতিউর রহমান (২৪), আব্দুল্লাহ (২৩), আবু হাকিম নাইম (২৪) এবং জোবায়ের হোসেন (২২)।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পরিবার লাশ নিতে যোগাযোগ না করায় বেওয়ারিশ হিসেবেই তাদের দাফন করা হয়েছে।

দাবিদার না থাকায় ১ জুলাই গুলশানের ক্যাফেতে নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জনের লাশও গত ২৩ সেপ্টেম্বর আঞ্জুমানের মাধ্যমে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল।



মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।