নিজামীর ফাঁসির আদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ, প্রাণভিক্ষার অপেক্ষা

ঢাকা থেকে শহিরিয়ার শরীফ
2016.05.05
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
Nizami-trial620.jpg মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির আদেশ পাওয়া মতিউর রহমান নিজামীর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়ায় গণজাগরণ মঞ্চের আনন্দ মিছিল। মে ৫, ২০১৬।
ফোকাস বাংলা

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ফাঁসির আদেশ পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) যে আবেদন করেছিলেন তা খারিজ হয়ে গেছে। এর ফলে তাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রইল।

এর প্রতিবাদে রবিবার সারা দেশে হরতাল ডেকেছে নিজামীর দল জামায়াতে ইসলামী। আর ফাঁসি বহাল থাকায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে আনন্দ মিছিল হয়েছে।

সবশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ থাকছে নিজামীর। তিনি প্রাণভিক্ষা না চাইলে বা প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হলে তাঁর দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আসবে।

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে নিজামীর বিরুদ্ধে এ মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।পুনর্বিবেচনার রায় কোনো মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার সবশেষ ধাপ।

রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেওয়া বক্তব্যে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, এটা ঐতিহাসিক রায়।

অন্যদিকে নিজামীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বেনারকে বলেছেন, “রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়া নিয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই। তবে ভবিষ্যতের ইতিহাস এই রায় পর্যালোচনা করবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না, এটা তাঁর নিজস্ব বিষয়।”

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি গোলাম আরিফ টিপু সাংবাদিকদের বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের এই রায় গণমানুষের স্বপ্ন। এর মধ্য দিয়ে দেশ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আরেক ধাপ এগোল।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর নিজামীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন নিজামী।

ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে গত ৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত ১৫ মার্চ আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর ২৯ মার্চ নিজামীর আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন।

নিজামীর বিরুদ্ধে আনা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে পাবনার বাউস গাড়ি ও ডেমরা গ্রামে ৪৫০ জনকে নির্বিচারে হত্যা ও ধর্ষণ, করমজা গ্রামে ১০ জনকে হত্যা ও তিনজনকে ধর্ষণ, ধুলাউড়ি গ্রামে ৫২ জনকে হত্যা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যার পরিকল্পনার দায়ে নিজামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আপিল বিভাগের রায়ে করমজা গ্রামে ১০ জনকে হত্যা ও তিনজনকে ধর্ষণের দায় (৪ নম্বর অভিযোগ) থেকে নিজামীকে খালাস দেওয়া হয়।

২০১০ সালের ২৯ জুন নিজামী গ্রেপ্তার হন। তখন থেকেই জেলে আছেন তিনি। কাশিমপুর কারাগারের কনডেম সেলে বন্দি এই আসামি ২০০১ সালে গঠিত বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের সময়ে শিল্পমন্ত্রী ছিলেন।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল সুপ্রিম কোর্ট ও এর আশপাশের এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রাজধানীজুড়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এখন ফাঁসির জন্য অপেক্ষা

এখন ফাঁসির জন্য অপেক্ষা চলছে নিজামীর। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের কাছে রায়ের অনুলিপি যাবে। সেটা পূর্ণাঙ্গ রায় বা সংক্ষিপ্ত আদেশ হতে পারে।

এর আগে দু-একটি মামলায় তিনি সংক্ষিপ্ত আদেশ চেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত সংক্ষিপ্ত আদেশ না দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় দিয়েছেন। তাই এবার তিনি আর সংক্ষিপ্ত আদেশ চাননি বলে সাংবাদিকদের জানান।

মাহবুবে আলম জানান, রায়ের অনুলিপি কারাগারে গেলে কারা কর্তৃপক্ষ নিজামীকে তা অবহিত করবেন। তারা আসামীর কাছে জানতে চাইবেন, তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান কি না। যদি প্রাণভিক্ষা না চান, তবে সরকারের নির্ধারণ করা সময়ে ফাঁসি কার্যকর হবে।

এদিকে নিজামীর ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ হওয়াকে ‘একাত্তরের ঋণ শোধের আরেকটি ধাপ’ বলে মনে করছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ।

তিনি বলেছেন, ‘এর আগে চার যুদ্ধাপরাধীর সাজা কার্যকরে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল, নিজামীর ক্ষেত্রেও তাই করা হবে।’

রায় ঘোষণার পর নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, 'পঁচাত্তরের পর ‘বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি’ ছিল, তা থেকে ধীরে ধীরে দেশ ‘আইনের শাসনের সংস্কৃতিতে’ ফিরে যাচ্ছে, যার ‘প্রমাণ’ হচ্ছে এই রায়।'

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।