রামপাল বিরোধী কর্মসূচিতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

ঢাকা থেকে শাহরিয়ার শরীফ
2016.09.30
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
20160930-Rampal-Protester1000.jpg কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে সরকারি ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের মারামারি। সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬।
স্টার মেইল

সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে ফেসবুক গ্রুপ আয়োজিত সাইকেল শোভাযাত্রা কর্মসূচিতে পুলিশ ও ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী বাধা দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ নিয়ে বাম ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে ছাত্রলীগ কর্মীদের হাতাহাতি হয়। পুলিশ জলকামান নিয়ে ধাওয়া করে সাইকেল শোভাযাত্রাটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

অবশ্য পুলিশ ছাত্রলীগ হামলার কথা অস্বীকার করেছে। শাহবাগ ও তেজগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১৩ জনকে আটক করলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে হাতাহাতিতে ছাত্র ইউনিয়নের এক নেতার হাত ভেঙে গেছে।

ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে আয়োজিত এই কর্মসূচির সমন্বয়ক সামান্তা শারমিন সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলায় সাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে আসা অর্ধ শতাধিক অংশগ্রহণকারী আহত হয়েছেন।

‘সুন্দরবন বাঁচাও সাইকেল মিছিল’ নামে ফেসবুকের একটি ইভেন্টে সাড়া দিয়ে সাইকেল নিয়ে শহীদ মিনারে হাজির হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী বেনারকে বলেন, নিউমার্কেট, জাতীয় প্রেসক্লাব ও ফার্মগেট এলাকায় অনেককে আটকে দেয় পুলিশ। তাদের শহীদ মিনারের দিকে যেতে নিষেধ করা হয়।

শোভাযাত্রার আয়োজকেরা জানান, পাঁচবার সাইকেল মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে বের হতে চাইলেও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বাধার কারণে বের হতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বেলা একটার দিকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর পার হওয়ার সময় পেছন থেকে জলকামান নিয়ে ধাওয়া করে পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে সাইকেল শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা জড়ো হতে থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানার হাতে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতা-কর্মী আকস্মিক শহীদ মিনারে উপস্থিত হন। তারা শহীদ মিনারের চারপাশ ঘিরে দাঁড়িয়ে পড়েন। তাদের একটি ব্যানারে লেখা ছিল, “আমরা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র চাই।”

বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষের মানববন্ধনকারীরা শহীদ মিনারকে একপ্রকার অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধীরা গান, কবিতা ও শ্লোগানের মাধ্যমে প্রকল্পটি বাতিলের দাবি জানান।

একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য হাসিব মোহাম্মদ আশিকের হাত ভেঙে যায়।

শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তুহিন কান্তি দাস বেনারকে বলেন, “মানববন্ধনের নাম করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার অবরুদ্ধ করে রাখেন। তারা কাউকে যেতে বা সেখান থেকে আসতে দিচ্ছিলেন না।”

তবে মারামারির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছে ছাত্রলীগ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান বেনারকে বলেন, “শহীদ মিনারে সাধারণ শিক্ষার্থীদের রামপালের পক্ষে একটি মানববন্ধন ছিল। সেখানে অন্য কেউ কোনো কর্মসূচি পালন করেছে কি না, বা কেউ বাধা দিয়েছে কি না, তা তাঁর জানা নেই”।

পুলিশও বলেছে, তারা মিছিলে কোনো হামলা করেনি।

“শহীদ মিনারে দুই পক্ষই অনুমতি ছাড়া নিজ নিজ দাবি নিয়ে জড়ো হয়েছিল। পুলিশ কাউকে বাধা দেয়নি,” বেনারকে জানান শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক।

সুন্দরবন বাঁচাও সাইকেল মিছিলকর্মসূচিতে গান গেয়ে প্রতিবাদ সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৬। ছবিঃ স্টার মেইল

ঘটনার নিন্দা প্রতিবাদ

বিভিন্ন ছাত্র-যুব ও রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠন এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। এছাড়াও ঘটনার প্রতিবাদে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি ও বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন।

তেল-গ্যাস খনিজসম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ বেনারকে বলেন,“রামপাল চুক্তি বাতিল করে সুন্দরবনকে বাঁচতে দিতে হবে। অন্যথায় এই আন্দোলন চলবে।”

তিনি আরও বলেন, সাইকেল র‍্যালির মাধ্যমে সুন্দরবন রক্ষার পক্ষে তরুণদের মত প্রকাশের এই কর্মসূচির উপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী ও পুলিশের হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই হামলার মাধ্যমে সরকার নিজের দুর্বলতা প্রমাণ করেছে বলে মনে করেন তিনি।

উল্লেখ্য, পরিবেশবাদিরা বলে আসছেন, ভারতের অর্থায়নে সুন্দরবনের কাছে রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ হলে এই বন নষ্ট হয়ে যাবে। অন্যদিকে সরকার বলছে, এতে বনের কোনো ক্ষতি হবে না।

সম্প্রতি ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে মর্মে মত প্রকাশ করার পর সরকার কিছুটা বেকায়দায় পড়েছে। যদিও পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, বিদ্যুতকেন্দ্র হলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।