Follow us

ঢাকায় প্রকাশ্যে সরকারি দলের নেতাকে অপহরণ

পুলক ঘটক
ঢাকা
2018-07-27
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
পারভেজ হোসেন সরকার। ছবিটি তাঁর ফেসবুক থেকে নেয়া।
পারভেজ হোসেন সরকার। ছবিটি তাঁর ফেসবুক থেকে নেয়া।

কুমিল্লার তিতাস উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা পারভেজ হোসেন সরকারকে দিনে দুপুরে ফিল্মি কায়দায় অপহরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর দুইটার দিকে রাজধানীর লালমাটিয়া সি ব্লকের মিনার মসজিদে জুমার নামাজ পড়ে বাসার ফেরার সময় কয়েকজন অস্ত্রধারী তাঁকে জোর করে একটি পাজেরো গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে আশপাশের বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। তবে কারা পারভেজকে তুলে নিয়ে গেছে সে বিষয়ে শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোনো ধারণা দিতে পারেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বেনারকে বলেছেন, “ঠিক কারা তুলে নিয়েছে তা স্পষ্ট নয়, আমরা বিষয়টি দেখছি।”

তিনি বলেন, “ঘটনার পর পারভেজ হোসেন সরকারের স্ত্রী একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। আমরা তার আগেই তদন্ত শুরু করেছি। সন্দেহভাজন গাড়িও শনাক্ত করা হয়েছে।”

লালমাটিয়া সি ব্লকের ২৭ নম্বর রোডের ৩০ নম্বর বাড়িতে দুই ছেলে ও স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন পারভেজ। তাঁরা আট বছর ধরে ওই বাসায় ভাড়া আছেন বলে বেনারকে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আফরোজ মৌসুমী।

পারভেজের বড় ছেলে আবদুল্লাহ (৭) ও ছোট ছেলে আরহাম (৩) টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ।

“২০০৯ সালে কুমিল্লার তিতাস উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন পারভেজ সরকার। এবার তিনি কুমিল্লা-২ আসন (তিতাস-হোমনা) থেকে সংসদ নির্বাচন করার জন্য আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন,” বলেন মৌসুমী।

২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন জাতীয় পার্টির আমির হোসেন। সে সময় সমঝোতার জন্য আওয়ামী লীগ এই আসনে প্রার্থী দেয়নি। তবে এবার স্থানীয় নেতা-কর্মীরা নৌকা মার্কায় প্রার্থী দেয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

পারভেজের খালাতো ভাই ফাহাদ ভূঁইয়া বেনারকে বলেন, “তিনি নামাজ শেষে বাসার গেটের কাছাকাছি এসেছিলেন। এ সময় সাদা পোশাকের এক ব্যক্তি এগিয়ে গিয়ে তার সাথে হাত মেলায়। পেছন থেকে আর এক ব্যক্তি এসে তাকে জাপটে ধরে। তারা ধস্তাধস্তি করে ভাইয়াকে একটি পাজেরো গাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়।”

“পাজেরো গাড়িটি কালো রংয়ের। গাড়িতে আরো দুই ব্যক্তি ছিলেন। প্রত্যেকের বয়স ৩০/৩৫ বছরের মধ্যে হবে। তাদের হাতে ওয়াকিটকি এবং আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। যে ব্যক্তি প্রথম জাপটে ধরে তার মাথায় লম্বা চুল ছিল। তবে অন্যদের চুল ছোট করে ছাটা,” জানান ফাহাদ।

শোভন নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের জানান, পারভেজকে অপহরণের ঘটনা পাশ্ববর্তী এক বাড়ির ভিডিও ফুটেজে রেকর্ড হয়েছে। সেখানেও গাড়ির নাম্বার প্লেটের লেখাটি ধরা পড়েছে।

ঘটনার পর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।

পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে সজল সাংবাদিকদের বলেছেন, “প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজটি অস্পষ্ট। পরিষ্কার করে বোঝা যাচ্ছে না। তাই ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্যান্য বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।”

পারভেজের মামা কামরুল হোসেন বেনারকে জানিয়েছেন, পারভেজের সঙ্গে তিতাস আওয়ামী লীগের একটি অংশের দ্বন্দ আছে। বছর খানেক আগে তাঁর গ্রামের বাড়ির নিকটে বাতাকান্দি বাজারে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়েছিল।

ওই ঘটনার পর পারভেজ এলাকায় যাননি। নিরাপত্তার প্রয়োজনে তিনি সব সময় চার পাঁচজন লোক সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করতেন বলে জানান কামরুল।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন