Follow us

মুক্তি পেলেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2018-09-13
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর স্ত্রীর সাথে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর স্ত্রীর সাথে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮।
বেনারনিউজ

কথিত চাঁদাবাজির মামলায় মঙ্গলবার জামিন পেয়েছিলেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। কিন্তু মুক্তি পাননি। কারণ, আরেকটি বিস্ফোরক মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানিয়েছিল পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশের সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী রাত সাড়ে আটটার দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বলে বেনারকে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী বিজু আখতার চৌধুরী।

মোজাম্মেলকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতি পেতে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করেন কাফরুল থানা-পুলিশের এস আই মো. রায়হান।

ঢাকার মহানগর হাকিম মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দায়ের করা এ মামলাটিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ বা ১৬৪ ধারায় কোনো জবানবন্দি নিয়েছেন কিনা। জবাবে তদন্ত কর্মকর্তা নেতিবাচক জবাব দেন।

এরপর বিচারক জানতে চান, কোনো সাক্ষী বা কোনো আসামির জবানবন্দিতে মোজাম্মেলের নাম এসেছে কি না। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা আবারও নেতিবাচক উত্তর দেন।

“নাম না এসে থাকলে কেন মোজাম্মেলকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হলো?” প্রশ্ন করেন বিচারক। এ সময় পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা কোনো জবাব না দিয়ে চুপ থাকেন।

বিচারক মোজ্জামেলকেও প্রশ্ন করেন কাফরুল থানায় দায়ের করা মামলার ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন কি না।

জবাবে মোজাম্মেল আদালতে বলেন, যাত্রীদের কল্যাণে কাজ করছেন বলে তিনি মালিকপক্ষ ও পরিবহন শ্রমিক নেতাদের রোষানলে পড়েছেন।

তিনি বলেন, ‘পুলিশকে কবজা’ করে অন্যায় স্বার্থের বিনিময়ে তাঁকে একের পর এক মামলায় জড়াচ্ছে ওই মহল।

এরপর মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন নাকচ করে দেন বিচারক।

কে এই মোজাম্মেল?

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী পেশায় একজন সাংবাদিক বলে দাবি করেন তাঁর সহধর্মিণী। তিনি চট্টগ্রামের একটি সংবাদপত্রে কাজ করেন বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বাংলাদেশের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদ সম্মেলন করতেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির বরাত দিয়ে সড়কে প্রাণহানিসহ বিভিন্ন পরিবহন খাতের বিভিন্ন অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়।

২৯ জুলাই বাসের ধাক্কায় রেডিসন হোটেলের সামনে দুই শিক্ষার্থীর প্রাণহানির পর নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু হয়।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকেদের কঠোর শাস্তি দেওয়ার পক্ষে মতামত দেয় যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

দুলাল নামে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ৪ সেপ্টেম্বর মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে মিরপুর থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।

পরদিন তাঁকে নারায়ণগঞ্জের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর পুলিশ। ওই মামলায় তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

১১ সেপ্টেম্বর তাঁকে জামিন দেয় আদালত। তবে জামিন পাওয়ার পর কাফরুল থানায় ফেব্রুয়ারি মাসের একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানায় পুলিশ। তাই তিনি সেদিন কারাগার থেকে মুক্তি পাননি।

বিজু চৌধুরী বলেন, “পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা আমার স্বামীকে ফাঁসিয়েছে। তিনি জনগণের কথা বলতেন-এটাই তার অপরাধ।”

তিনি বলেন, “আমি ভয়ে আছি আবার কখন কোনো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় কি না।”

সড়ক পরিবহন বিল-উত্থাপন

বেপরোয়া মোটরযান চালনাজনিত দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সাজার বিধান রেখে বৃহস্পতিবার সংসদে সড়ক পরিবহন বিল-২০১৮ উত্থাপন করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বিলটি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে ১৯৮৩ সালের মোটর ভেহিকল অরডিন্যান্স বাতিল করে নতুন সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের দাবি ওঠে।

প্রস্তাবিত এই আইনে বলা হয়েছে, বেপরোয়া বা অবহেলাজনিত মোটরযান চালনার কারণে সংঘটিত দুর্ঘটনায় কোনো ব্যক্তি গুরুতর আহত বা নিহত হলে চালক সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে বা সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

পাশাপাশি, কোনো কোম্পানি এই ধরনের অপরাধ করলে ওই কোম্পানির মালিকসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও অপরাধ করেছেন বলে গণ্য হবে। এছাড়া, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালালে অথবা সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের অনুমতিপত্র ছাড়া কেউ গণপরিবহন চালালে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

অপেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ এবং পেশাদার লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বয়স কমপক্ষে ২১ হতে হবে বলেও আইনে প্রস্তাব করা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বেনারকে বলেন, “প্রস্তাবিত আইনে শ্রমিকদের শাস্তি বৃদ্ধি একটি অংশ। তবে, এটি বড় ব্যাপার নয়।”

তিনি বলেন, “এই আইনের মূল সীমাবদ্ধতা হলো দুর্ঘটনা তদন্তের জন্য কোনো সঠিক পদ্ধতির কথা বলা নাই। সঠিক তদন্ত ছাড়া কোনো দুর্ঘটনার কারণ উদ্‌ঘাটন করা যাবে না, এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা যাবে না।”

পরিবহন শ্রমিক নেতা ও নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান বেনারকে বলেন, দুর্ঘটনার জন্য শুধু শ্রমিকদের দায়ী করা ঠিক নয়। রাস্তার ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইন, রাস্তার অবস্থা, যান্ত্রিক ত্রুটি, পথচারীদের ভুল-বিভিন্ন কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

তিনি বলেন, শুধু শ্রমিকদের সাজা বৃদ্ধি করে দুর্ঘটনা বন্ধ করা সম্ভব নয়।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন