বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের লাশ আসছে মঙ্গলবার: রাষ্ট্রদূত মাশফি

কামরান রেজা চৌধুরী
2018.03.16
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বায়তুল মোকাররমে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। ১৬ মার্চ ২০১৮।
AP

নেপালে বিমান দুর্ঘনায় নিহত ২৬ বাংলাদেশির লাশ আগামী মঙ্গলবার দেশে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

নিহতদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা ছাড়াই লাশগুলো হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে নেপাল সরকার।

এদিকে আহত ১০ জনের মধ্যে চারজন দেশে ফিরে এসেছেন। বাকিরা আগামী রোববার দেশে ফিরতে পারবেন।

“আমরা আশা করছি আগামী মঙ্গলবার নিহতদের লাশ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে। নিহতদের স্বজনরা লাশ শনাক্ত করেছেন। তাই, লাশগুলো দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে,” শুক্রবার বেনারকে বলেন নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস।

নিহত ২৬ জন বাংলাদেশিদের মধ্যে দুই/তিন জনের লাশ শনাক্ত করতে ফরেনসিক পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান তিনি।

গত ১২ মার্চ বেসরকারি বিমান কোম্পানি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি বিমান কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

বিমানে ৬৭ জন যাত্রী ও চারজন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনায় এই ৭১ জনের মধ্যে ৫১ জন মারা যান। নিহতদের মধ্যে বিমানের চার ক্রুসহ ২৬ জন বাংলাদেশি বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ফরেনসিক পরীক্ষা করতে হলে লাশ দেশে ফেরত পাঠানো বিলম্বিত হতো বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছিলেন।

রাষ্ট্রদূত মাশফি বলেন, আহত ১০ জনের মধ্যে চারজন ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছে গেছেন। একজনের পরিবার তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর অথবা দিল্লি পাঠানোর কথা বলছেন।

বাকিরা আগামী রোববার দেশে ফিরতে পারবেন বলে জানান রাষ্ট্রদূত। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স লাশগুলো দেশে ফিরে আনার সকল খরচ বহন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আহত অবস্থায় দেশে ফেরা রোগীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। ১৬ মার্চ ১৬ ২০১৮।
আহত অবস্থায় দেশে ফেরা রোগীদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়। ১৬ মার্চ ১৬ ২০১৮।
নিউজরুম ফটো

শুক্রবার বিকেলে আহত ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান, তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা এবং মেহেদীর ফুপাতো ভাইয়ের স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানি বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকা পৌঁছান।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আহত মেহেদী, স্বর্ণা আর অ্যানিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সরাসরি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে নিয়ে যাওয়া হয় বলে বিমানবন্দর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।

অ্যানির স্বামী আলোকচিত্রী ফারুক হোসেন প্রিয়ক এবং তাদের শিশু সন্তান প্রিয়ন্ময়ী তামারা দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার ওই বিমানের আহত যাত্রী শেহরিন আহমেদ কাঠমান্ডু থেকে দেশে ফিরে আসেন। তিনি ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম শুক্রবার দুপুরে শাহরিনকে দেখতে বার্ন ইউনিটে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন ও তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “গতকালই আটজনের একটি টিম আমরা নেপালে পাঠিয়েছি। সেখানে বার্ন ও আর্থোপেডিক ইউনিটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন। যখনই কোনো রোগী সেখান থেকে দেশে আসবে, আমরা চিকিৎসা দিতে প্রস্তুত আছি। আমাদের কেবিনও রেডি রাখা আছে।”

বিশেষ প্রার্থনা

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পরদিন আজ শুক্রবার কাঠমুন্ডুর বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য দেশের সকল উপসানালয়ে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।

সকালে ঢাকার মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে প্রার্থনার আয়োজন করে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক প্রেস রিলিজে বলা হয়, নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দুপুরে জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মোনাজাত।

নিহত ও আহতদের জন্য ঢাকার কেন্দ্রীয় গির্জা বলে পরিচিত কাকরাইলের সেইন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালেও বিশেষ প্রার্থনা পরিচালিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।