বাংলাদেশে অস্থিরতা প্রাণ কেড়েছে শতাধিক মানুষের


2015.02.26
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
BD-unrest-main(Ben) গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিরোধী দল বিএনপির ডাকা অবরোধে ও হরতাল চলাকালে পেট্রোল বোমার আগুনে পুড়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হয়েছেন।এএফপি ফটো/ মুনিরুজ্জামান।
Photo: Benar

প্রায় ২ মাস ধরে বিরোধী জোটের ডাকা অবরোধ ও হরতালে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে প্রতিদিন। আলোচনা ও সমঝোতার কোনো সম্ভাবনা সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার সংসদে জানিয়েছেন, এই হরতাল অবরোধে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। বিরোধী দলের  নাশাকতায় মারা গেছে ১০৪ জন মানুষ। এদিকে, বুধবার সোয়া পাঁচ কোটি টাকা দুর্নীতির দুই মামলায় ধার্য তারিখে হাজির না হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। খবর বিডিনিউজ২৪-এর।

জানুয়ারির শুরু থেকে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ডাকা অবরোধে ও পরবর্তিতে হরতাল কর্মসূচির ফলে শত শত গাড়ি ও যাত্রীবাহী বাসে পেট্রল বোমার আক্রমনে ১০৪ এর বেশি মানুষ এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে।  অবরোধে অংশগ্রহনকারী বিরোধী রাজনৈতিক কর্মিরাও পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে। মংগলবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ গুলিবিদ্ধ ৬ ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে। খবর এএফপির।

বিরোধী দল বিএনপির একজন মুখপাত্র দাবি করেছে গত ২ মাসে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তাদের ৬৭ জন সমর্থক মারা গেছে। অধিকার কর্মি নুর খান রিটন জানায়, বিরোধী দলের কর্মসূচি চলাকালে আইন বহির্ভূতভাবে পুলিশ যে  হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে, তা সম্প্রতিকালে আরো বেড়েছে।

রাস্তায় চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসের নিরাপত্তায় সরকার কয়েক হাজার পুলিশ-বিজিপি ও আনসার নিয়োগ করেছে এবং প্রায় ১০ হাজার অবরোধে অংশ নেয়া বিরোধী কর্মিকে পুলিশ আটক করেছে।

সরকার এইসব কর্মসূচিতে সাধারন মানুষের আগুনে পুড়ে মরার জন্য বিরোধী দল বিএনপি ও জামায়াতকে দায়ী করেছে। কিন্তু বিএনপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, সরকারের এজেন্টরাই এই সব হত্যাকান্ড ঘটিয়ে তাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে বিরোধী দল বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া সরকার প্রধান শেখ হাসিনার পদত্যাগ দাবি করে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচনেরও দাবি করেছেন।

বিএনপি নেত্রী একই সঙ্গে ২০-দলীয় জোটেরও নেত্রী গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচন বয়কট করেন, তার অভিযোগ ছিলো সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচনে কারচুপি করবে। ক্ষমতাসীন সরকার ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রধান কয়েকটি বিরোধী দলের অংশ গ্রহন ছাড়াই নির্বাচন করে ব্যপক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায়। সরকার দাবি করে যে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্যই এই নির্বাচন করতে হয়েছে। তার প্রায় এক বছর পর ২০-দলীয় বিরোধী জোট নতুন নির্বাচনের দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

জাতি সঙ্ঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্র এবং দেশের সুশীল নাগরিকদের অনেকেই দু'পক্ষকে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতার আহবান জানিয়ে আসছে। বিরোধী পক্ষকে প্রাণ হরন করা কর্মসূচি বন্ধেরও অনুরোধ করেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন নাশকতা যারা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের সঙ্গে তিনি সংলাপে রাজী নন।

সম্প্রতি ব্রাসেলস ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ সতর্ক করে দিয়ে বলছে, উভয় পক্ষ সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনের পথ খুজে না পেলে বর্তমান অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে ধর্মীয় উগ্রবাদীরা ব্যাপক নাশকতায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।