আফগানিস্তান: বিশেষ বিমানে ফেরত আনা হচ্ছে ১৫ বাংলাদেশিকে

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2021-08-26
Share
আফগানিস্তান: বিশেষ বিমানে ফেরত আনা হচ্ছে ১৫ বাংলাদেশিকে কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদের কয়েকজনকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ভিডিও থেকে স্থিরচিত্র, ২৬ আগস্ট ২০২১।
[রয়টার্স]

আফগানিস্তানে আটকে পড়া অন্তত ১৫ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরাতে একটি বিশেষ বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে বেনারকে নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস। ছুটি কাটাতে গিয়ে আটকা পড়া চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেনের ১৬০ জন আফগান শিক্ষার্থীও একই ফ্লাইটে ফিরবেন বলে জানান তিনি।

তবে ঠিক কখন তাঁরা বিমানে উঠতে পারবেন সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না বলে বৃহস্পতিবার বেনারকে বলেন তিনি।

মাশফি বিনতে শামস বলেন, “আফগানিস্তান এখন পুরোটাই তালেবানদের দখলে। আমরা বাংলাদেশিদের ফেরাতে সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। তারা এখনো এয়ারপোর্টে প্রবেশ করতে পারেননি। তালেবান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অনুমতি পেলেই তাঁরা বিমানবন্দরে প্রবেশ করবেন। তবে তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন।”

এদিকে বৃহস্পতিবার কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। যাতে বেশ কয়েকজন মানুষ হতাহত হয়েছেন।

এতে কয়েকজন মার্কিন সেনাসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে এক বিবৃতিতে জানায় মার্কিন সেনাসদরদপ্তর পেন্টাগন। 

তবে তালেবান কর্মকর্তারা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে হামলার সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লা মুজাহিদের বরাত দিয়ে জানায় বার্তাসংস্থা রয়টার্স। 

নিরাপদ আছেন, তবে কখন বিমানে উঠবেন নিশ্চিত না

আফগানিস্তানে বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। উজবেকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাস সমদূরবর্তী মিশন হিসেবে আফগানিস্তানে কাজ করে থাকে।

আফগানিস্তানে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার দপ্তর এবং চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব উইমেনের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশি ও আফগান শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাস।

তাশখন্দ থেকে টেলিফোনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম বেনারকে বলেন, “আফগানিস্তানে বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সরকারও নেই। ফলে বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।” 

বাংলাদেশিদের সঙ্গেও উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাস সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করছে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, একটি চাটার্ড ফ্লাইটে বাংলাদেশিসহ আফগান শিক্ষার্থীদের ফেরানো হবে। তবে কাবুল বিমান বন্দরের অবস্থা এতটাই খারাপ যে, আমরা এখনো জানিনা কোন ফ্লাইটে কখন তাঁরা ফিরবেন। পুরো বিষয়টি আফগানিস্তানের ইউএনএইচসিআর দেখভাল করছে।

রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “১৫ জন বাংলাদেশিসহ আফগান শিক্ষার্থীরা কাবুলে এয়ারপোর্টে প্রবেশ করতে পারেননি। তারা প্রবেশ করার পরেই বলা যাবে কোন ফ্লাইটে, কখন তারা আসছেন। তবে তাঁরা এয়ারপোর্টের বাইরে নিরাপদে রয়েছেন।”

কাবুলে থাকা বাংলাদেশি এবং উজবেকিস্তানের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, এসব বাংলাদেশি এবং আফগান শিক্ষার্থীরা সাতটি গাড়িতে করে একসাথেই অবস্থান করছেন। তালেবান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর অনুমতি মিললেই তাঁরা কাবুল বিমানবন্দরে প্রবেশ করবেন।

এদিকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে কী ধরনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজী হননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন।

বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আফগানিস্তানে এখনো যেসব বাংলাদেশ রয়েছেন আমরা তাঁদের আনার চেষ্টা করছি। তবে আমরা কীভাবে কী করব তা বলতে চাই না। ওখানে খুব ফ্লুইড সিচুয়েশন। তাই আমরা কোনো ভুল করতে চাই না। তখন আবার তাঁদের আটকে দেবে।”

ঠিক কতজন বাংলাদেশি দেশটিতে রয়েছেন জানতে চাইলে মাশফি বিনতে শামস বলেন, “এখন পর্যন্ত ২৯ বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৫ জন ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন। অপেক্ষায় রয়েছেন আরো ১৫ জন। কয়েকজনকে অন্য দেশে স্থানান্তর করা হয়েছে।”

“বাকিদেরও নিরাপদে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আরো বাংলাদেশির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। তাই এখনই সংখ্যা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না,” বলেন তিনি।

আফগানিস্তানে কত বাংলাদেশি জানা নেই

উজবেকিস্তানে বাংলাদেশর রাষ্ট্রদূত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গতকাল পর্যন্ত ১৪ জন বাংলাদেশির ফেরার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ আরো একজন বাংলাদেশি দেশটির মাজার-ই-শরিফ নগরী থেকে কাবুলে পৌঁছুতে সমর্থ হয়েছেন।”

তিনি বলেন, “আফগানিস্তানে যেসব বাংলাদেশি ছিলেন তাঁরা সবাই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। আমরা সকল বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছি।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, “আফগানিস্তানে ঠিক কতজন বাংলাদেশি ছিলেন সে হিসাব আমাদের কাছে ছিল না। কারণ, সেখানে আমাদের দূতাবাস নেই। আর উজবেকিস্তান দূতাবাসের কাছে আমাদের দেশের নাগরিকরা সাধারণত রিপোর্ট করেন না।

এর আগে গত রোববার আফগানিস্তানে আটকে পড়া ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে কর্মরত ফারুক হোসেন ও মহিউদ্দিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজে করে কাবুল থেকে কাতারে পৌঁছান। ওই দিনেই ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের তিন কর্মকর্তাকে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে কাবুল থেকে কাজাখস্তানের রাজধানী নুর সুলতানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

গত ১৫ আগস্ট তালেবান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল দখলের পর বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি আফগানিস্তানের লোকজনও দেশ ছাড়ছেন। বর্তমানে দেশটির শুধু কাবুল বিমানবন্দর চালু রয়েছে। কিন্তু ফ্লাইট না থাকায় অনেকেই আটকা পড়েছেন।

তাশখন্দে বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, আফগানিস্তানে আটকা পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে রয়েছেন আফগান টেলিকম কোম্পানি এডব্লিউসিসিতে কর্মরত সাতজন বাংলাদেশি ইঞ্জিনিয়ার।

এছাড়া বাংলাদেশ থেকে যাওয়া তাবলিগ জামাতের ছয়জন সদস্যও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী আফগান শহর জালালাবাদে আটকা পড়েছেন। তবে তারা ফিরে আসার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কোনো সহায়তা চাননি বলে জানায় দূতাবাস।

মন্তব্য (0)

সব মন্তব্য দেখুন.

মন্তব্য করুন

নিচের ঘরে আপনার মন্তব্য লিখুন। মন্তব্য করার সাথে সাথে তা প্রকাশ হয় না। একজন মডারেটর অনুমোদন দেবার পর মন্তব্য প্রকাশিত হয়। বেনারনিউজের নীতিমালা অনুসারে প্রয়োজানে মন্তব্য সম্পাদনা হতে পারে। প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য বেনারনিউজ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন