পাচারের টাকায় যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অভিযোগ, সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে মামলা

আহম্মদ ফয়েজ
2022.03.31
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
পাচারের টাকায় যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অভিযোগ, সাবেক প্রধান বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে মামলা ঢাকার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। ১৬ মে ২০১৫।
[বেনারনিউজ]

পদে থাকা অবস্থায় ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি এলাকায় একটি তিনতলা বাড়ি কিনেছেন- এমন অভিযোগ এনে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা (এসকে সিনহা) ও তাঁর ভাই অনন্ত কুমার সিনহার বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিতর্কের মুখে দেশ ছাড়ার পর আলোচিত বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে এটি দুদকের তৃতীয় মামলা এবং একইসঙ্গে তিনি প্রথম কোনো সাবেক প্রধান বিচারপতি, যিনি দুদকের মামলায় আসামি।

এর আগে ব্যাংক থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় গত বছরের নভেম্বরে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত।

দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলাটি দায়ের করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান দুদকের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

তিনি বলেন, এসকে সিনহা প্রধান বিচারপতি থাকাকালে “বিভিন্নভাবে অর্জিত অর্থ হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধ পন্থায়” আমেরিকায় তাঁর ছোট ভাই অনন্ত কুমার সিনহার হিসাবে পাঠিয়ে নিউজার্সি এলাকায় একটি বাড়ি কিনেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২ লাখ ৮০ হাজার ডলার দিয়ে সিনহা তাঁর ভাইয়ের নামে ২০১৮ সালের জুন মাসে বাড়িটি কেনেন। এই অভিযোগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে পাওয়া গেছে বলে দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়।

অনুসন্ধানের বরাত দিয়ে অভিযোগে বলা হয়, অনন্ত কুমার সিনহার আমেরিকার ভ্যালি ন্যাশনাল ব্যাংকের হিসাবে ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৫৮ ডলার জমা হয়।

এতে বলা হয়, ওই টাকা থেকে “১ লাখ ৫৭ হাজার ৯০ ডলারের ক্যাশিয়ার চেক সংগ্রহের জন্য” অনন্ত সিনহা তাঁর বড়ো ভাইকে নিয়ে ব্যাংকে গেলে অর্থের উৎস হিসেবে এসকে সিনহা ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান, “আমেরিকার প্যাটারসন এলাকায় একটি বাড়ি ক্রয়ের জন্য তিনি বন্ধুর কাছ থেকে ফান্ড পেয়েছেন।

তবে “কোন বন্ধু কেন তাঁকে ফান্ড দিলো সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি,” বলা হয় মামলায়।

আমেরিকার একটি ডিপোজিটরি প্রতিষ্ঠান অনন্ত সিনহার উক্ত অর্থ লেনদেন সন্দেহজনক মর্মে রিপোর্ট করেছে বলে উল্লেখ করা হয় মামলায়।

দুদকের দাবি, অনন্ত সিনহার সকল ব্যাংকিং রেকর্ড যাচাই-বাছাই শেষে তারা নিশ্চিত হয়েছে, ওই অর্থ এসকে সিনহারই। অর্থাৎ সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা ও তাঁর ভাই অনন্ত সিনহা “অর্থ পাচারে জড়িত ছিলেন।”

আগেও দণ্ডিত

এর আগে দুদকের দায়ের করা একটি অর্থ পাচার ও ঋণ জালিয়াতির মামলায় গত ৯ নভেম্বর এসকে সিনহাকে চার ও সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

এছাড়া ২০২১ সালের ৭ অক্টোবর ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাজউকের প্লট বরাদ্দ ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে আরো একটি মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। তিনি ৭ কোটি ১৪ লাখ টাকার সম্পদ বেনামে অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে এই মামলায়।

এসকে সিনহা বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন বলে বেনারকে জানিয়েছেন তাঁর বড়ো ভাই নরেন্দ্র কুমার সিনহা। তবে তিনি কোথায় কী কিনেছেন না কিনেছেন সে সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।

“আমার ভাই আমেরিকায় কোনো বাড়ি কিনেছেন কিনা বা পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে কোনো সম্পদ গড়েছেন কিনা বিষয়টি আমার জানা নেই,” বেনারকে বলেন নরেন্দ্র সিনহা।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং কিছু পর্যবেক্ষণের কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের তোপের মুখে ২০১৭ সালের অক্টোবরের শুরুতে ছুটিতে যান তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা। পরে বিদেশ থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।

বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগ পাওয়ার কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বসে একটি বই প্রকাশ করেন। তাতে তিনি দাবি করেন, তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন