করোনার নতুন ঢেউ: ১২’র নিচে শিশুদের জন্য টিকা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা

আহম্মদ ফয়েজ
2022.06.29
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
করোনার নতুন ঢেউ: ১২’র নিচে শিশুদের জন্য টিকা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে ঢাকার রাস্তায় মাস্ক পরা এক শিশু। ৪ মে ২০২২।
[সাবরিনা ইয়াসমীন/বেনারনিউজ]

দেশে আবার করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন পদক্ষেপের পাশাপাশি জুলাইর শেষ দিকে ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য টিকা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

শিশুদের জন্য করোনার টিকা জুলাই মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশ পাবে জানিয়ে বুধবার সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, “এটা হাতে আসলে জুলাইয়ের শেষে ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের জন্য টিকা কার্যক্রম শুরু করা যাবে।”

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বাড়ায় সরকার “কিছুটা চিন্তিত” মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা শঙ্কিত নই, আমরা প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, “গত দুই-তিন দিন ধরে দুই-তিনজন করে মারা যাচ্ছেন। আমরা আহ্বান জানাচ্ছি, মানুষ যাতে ভ্যাকসিন নেয় এবং মাস্ক পরে।”

করোনা বৃদ্ধির হার গত ১৫ দিনে অনেক কম থাকলেও বর্তমানে সংক্রমণের হার “অনেক বেশি” বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এদিকে বুধবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষিতে সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “করোনাভাইরাস আমরা সফলভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছি। আমরা সবাইকে টিকা দিতে পেরেছি। ডব্লিউএইচওর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা শতভাগ টিকা দিতে পেরেছি। নতুনভাবে সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় সবাইকে বলব স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে।”

১২ বছরের কম বয়সীদের সরকার ফাইজারের টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সভাপতি ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, টিকা নেওয়ার জন্য ৫ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্ম নিবন্ধন সনদের নম্বর দিয়ে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ষাটোর্ধ্বদের টিকা দেওয়া শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে টিকা পাওয়ার নির্ধারিত বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ বছরে আনা হয়।

পরবর্তীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার লক্ষে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদেরও করোনা টিকার আওতায় আনা হয় গত বছর।

বাড়ছে মৃত্যু ও সংক্রমণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে টানা তৃতীয় দিন দুই হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন দেশে।

বুধবার সকাল পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ২৪১ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আগের দিন মঙ্গলবার যা ছিল দুই হাজার হাজার ৮৭।

সোমবার এই সংখ্যা ছিল দুই হাজার ১০১ জন। আর সবশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি ছিল বুধবারের চেয়ে বেশি, দুই হাজার ৫৮৪ জন রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন ওই দিন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ পর্যন্ত দেশে শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ১৯ লাখ ৭১ হাজার ৬০২ জন। এখন পর্যন্ত এই রোগে মারা গেছেন ২৯ হাজার ১৪৫ জন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবার বেড়ে যাওয়ায় সকল ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে আরো সচেতন এবং সক্রিয় হবার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সংক্রমণের নতুন ঢেউ খুব বেশি প্রভাব তৈরি করতে পারবে না বলে মনে হলেও অসচেতনতার ফলে এটি বড়ো বিপদের কারণ হতে পারে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নাজমুল হুসাইন।

“যদিও বিপুল সংখ্যক মানুষ ভ্যাকসিন নিয়েছেন, তবুও আমাদের মাথায় রাখতে হবে যে, এই ভাইরাস প্রতিনিয়ত রূপ বদলাচ্ছে। সে কারণে চেষ্টা করতে হবে যত কম ভাইরাসের কাছে এক্সপোজ (সংস্পর্শ) হওয়া যায়,” বলেন তিনি।

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার সবাইকে আবারও বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরা সংক্রান্ত কয়েকটি নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

নির্দেশনাগুলো হলো- ‘নো মাস্ক নো সার্ভিস’ নীতি প্রয়োগ করে সব ক্ষেত্রে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা। ধর্মীয় স্থানসমূহে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। জ্বর, সর্দি, কাশি বা কোভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দিলে কোভিড পরীক্ষা করা। দোকান, শপিং মল, বাজার, ক্রেতা-বিক্রেতা, ও হোটেলে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করা; না করলে আইনানুগ শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন