Follow us

জনবান্ধব দূতাবাস গড়তে চান মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বাংলাদেশি নারী রাষ্ট্রদূত

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2020-02-28
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান। ফাইল ছবি।
জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান। ফাইল ছবি।
[সৌজন্যে: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়]

জনবান্ধব দূতাবাস গড়তে চান মধ্যপ্রাচ্যে প্রথম বাংলাদেশি নারী রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান (৫২)। পাশাপাশি দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রতি গুরুত্ব দেন জর্ডানে নিযুক্ত এই রাষ্ট্রদূত।

আম্মান দূতাবাসে দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহের মাথায় টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শুক্রবার বেনারকে এসব কথা জানান রাষ্ট্রদূত নাহিদা।

তিনি বলেন, “আমার প্রথম কাজ হবে দূতাবাসকে জনবান্ধব করা। মানুষ যাতে আমাদের এখানে কাঙ্খিত সেবা পায় সেজন্য দূতাবাসকে আমরা একটি ‘খোলা জানালা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”

দূতাবাস কর্মীরা কোনো দর্শনার্থীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করছে কিনা তা পর্যবেক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে দূতাবাসে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার মূল কাজ হবে প্রবাসীদের সকল সহযোগিতা ও সহায়তা নিশ্চিত করা।”

বাংলাদেশের প্রথম নারী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়ে নতুন কর্মস্থলে সবার উষ্ণ অভিনন্দনে সিক্ত হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

“এখানে যাদের সাথেই দেখা হয়েছে সবাই আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন,” বলেন নাহিদা সোবহান।

বাংলাদেশ একজন নারী রাষ্ট্রদূত পাঠানোতে জর্ডানের প্রশাসনও খুশি জানিয়ে তিনি বলেন, “তাঁরা আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে জানেন। রোহিঙ্গাদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন ও বাংলাদেশের উন্নয়নের পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে বেশ সম্মানের চোখে দেখে জর্ডান সরকার।”

জর্ডানে প্রায় দেড় লাখের মতো বাংলাদেশি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই নারী বলে জানান নাহিদা।

তাঁর মতে, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী কর্মী নির্যাতনের নিয়মিত খবর আসলেও জর্ডানে “এসব ঘটনা নিয়মিত নয়, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটে থাকে।”

তিনি বলেন, “জর্ডানের শ্রম আইন খুব শক্ত। যে কোনো সমস্যা হলে তা সমাধানে এদের শ্রম মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহায়তা করে। আর তাঁরা যখন কোনো ক্ষেত্রে নেগোসিয়েশন করে তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রায় শ্রমিকদের পক্ষেই যায় বলে জানতে পেরেছি।”

তবে জর্ডানে নিযুক্ত বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রদূত মনে করেন, কর্মীরা দক্ষ হয়ে বিদেশে গেলে নির্যাতনের মাত্রা কমে আসবে।

“দেখুন, প্রিভেনশনটা করতে হবে নিয়োগ পর্যায়ের শুরু থেকে। নিয়োগ যখন হচ্ছে, দেখতে হবে সেটা নিরাপদ হচ্ছে কি না। আসার আগে প্রতিটি কর্মীর ঠিকমতো ওরিয়েন্টেশন জরুরি,” বলেন নাহিদা।

দক্ষ কর্মী পাঠালে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের সুনাম বাড়ার পাশাপাশি তাঁরা আরো কার্যকরভাবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন বলে মনে করেন নাহিদা।

উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “বিভিন্ন দেশে ফিলিপাইনের কর্মীদের সুনাম আছে। আমাদের কর্মীদের ক্ষেত্রেও সেটা করা সম্ভব। তবে তার জন্য দেশ থেকে আসার পূর্বে কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিয়ে আসতে হবে।”

“যে ধরনের কাজ তাঁরা বিদেশে এসে করবেন, সে কাজে দক্ষ হয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি,” বলেন তিনি।

বাংলাদেশের পণ্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরির মাধ্যমে জর্ডানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানান নাহিদা সোবহান।

নারী রাষ্ট্রদূত পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জর্ডানে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও।

“আমরা খুশি হয়েছি। কারণ, নারীরা নিজের কাজে অনেক বেশি মনোযোগী থাকেন,” আম্মান থেকে টেলিফোনে বেনারকে জানান প্রবাসী বাংলাদেশি আবু তালেব।

জর্ডানে দু বছর থেকে নির্যাতনের কারণে গত ডিসেম্বর দেশে ফিরে আসেন টাঙ্গাইলের সুমাইয়া সুলতানা।

“দূতাবাসে অভিযোগ করেও খুব বেশি উপকার পাইনি,” মন্তব্য করে সুমাইয়া বেনারকে বলেন, “এখন নারী রাষ্ট্রদূত গেছেন। আশা করি তিনি নারীদের কষ্টগুলো বুঝবেন।”

“তাঁদের সমস্যা সমাধানে তিনি আরো মনোযোগী হবেন,” বলেন সুমাইয়া

গত ৩১ ডিসেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নাহিদা সোবহানকে আম্মান দূতাবাসে নিয়োগের কথা জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নাহিদা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ অনুবিভাগের মহাপরিচালক ছিলেন। দেশের ১৫তম বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের এই কর্মকর্তা এর আগে রোম, কলকাতা ও জেনেভায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নাহিদা ছাড়া রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশের অন্য যে নারী কূটনীতিকরা দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরা হলেন: মরক্কোতে সুলতানা লায়লা, নেপালে মাশফি বিনতে শামস, যুক্তরাজ্যে সাঈদা মুনা তাসনীম, দক্ষিণ কোরিয়ায় আবিদা ইসলাম, ভিয়েতনামে সামিনা নাজ ও মরিশাসে রেজিনা আহমেদ।

এ ছাড়া ইসমাত জাহান বেলজিয়াম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) স্থায়ী পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন