র‌্যাবের মামলায় জামিন পেলেন প্রবাসী সাংবাদিক কনক সরওয়ারের বোন রাকা

শরীফ খিয়াম
2022.03.14
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
র‌্যাবের মামলায় জামিন পেলেন প্রবাসী সাংবাদিক কনক সরওয়ারের বোন রাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউটিউব পেজ পরিচালনা করেন সাংবাদিক কনক সরওয়ার। তাঁর বিরুদ্ধে “প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য” বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মনে করেন কনক। ২৮ জানুয়ারি ২০২২।
[ইউটিউব পেজের স্ক্রিনশট]

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) দায়ের করা দুই মামলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক কনক সরওয়ারের বোন নুসরাত শাহরিন রাকাকে সোমবার জামিন দিয়েছে হাইকোর্ট।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় স্থায়ী এবং মাদক আইনের মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন তিনি,” বেনারকে বলেন রাকার অন্যতম আইনজীবী জামিউল হক ফয়সাল।

রাকা “জামিনের অপব্যবহার করলে নিম্ন আদালতই তা বাতিল করতে পারবে,” বেনারকে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এম ডি রেজাউল করিম।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশ গত ২ নভেম্বর এই দুই মামলায় রাকার জামিন নামঞ্জুর করার পর ৮ নভেম্বর তাঁর আইনজীবীরা হাইকোর্টে যান।

এই পরিপ্রেক্ষিতে রাকাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে ২৫ জানুয়ারি রুল জারি করেছিল বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি এসএম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারকরা জামিনের রায় দিলেন।

আইনজীবী ফয়সাল বলেন, “রুল যথাযথ ঘোষণা করে তাঁর জামিনের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে রাকার পক্ষে তিনি ছাড়াও শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এবং জেডআই খান পান্না।

রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মুনীরের শুনানিতে থাকার কথা থাকলেও তিনি অংশ নিতে পারেননি। এমনটা জানিয়ে বেনারকে এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, “এই জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

রাকার আইনজীবীদের দাবি, হাইকোর্টের এই আদেশের ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই। এ ব্যাপারে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, রাষ্ট্রপক্ষ রাকার জামিন স্থগিতের আপিল না করলে এবং তাঁর বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা না থাকলে তিনি মুক্ত হবেন।

নুসরাত শাহরিন রাকা। ফাইল ছবি। [সৌজন্যে: কনক সরওয়ার]
নুসরাত শাহরিন রাকা। ফাইল ছবি। [সৌজন্যে: কনক সরওয়ার]

অমানবিক একটি ঘটনা

যে কোনো বিবেচনাতেই রাকার গ্রেপ্তারের বিষয়টিকে “চূড়ান্ত অর্থে অমানবিক একটি ঘটনা,” বলে বেনারের কাছে মন্তব্য করেন মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী কমিটির মহাসচিব নূর খান লিটন।

তিনি বলেন, “দুগ্ধপোষ্য বাচ্চা থাকার পরও তাঁকে যেভাবে, যে ধরনের মামলায় আটক করে হেনস্থা করা হয়েছে তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সন্দেহ প্রোথিত হয়েছে যে, তিনি কনক সরওয়ারের বোন হওয়ার কারণেই তাঁকে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগের বিষয়টি আবারো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন লিটন।

গত জানুয়ারিতে রাকার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা দুটিকে ‘প্রতিহিংসামূলক দাবি করে তা প্রত্যাহার ও তাঁর দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছিল দেশি-বিদেশি ১৫টি মানবাধিকার সংগঠন। এ ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবন্ধকতা আরোপ না করার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে পাঠানো চিঠিতে অনুরোধ জানায় সংগঠনগুলো।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী অন্যতম সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই চিঠিতে বলা হয়, “কনক সরওয়ার তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করায় এর প্রতিশোধ হিসেবে বাংলাদেশ সরকার তাঁর বোন রাকাকে টার্গেট করেছে।

আমি নিশ্চিত আমাকে ভয় দেখানোর জন্যই আমার বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাকে একটা শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া তাঁকে গ্রেপ্তারের আর কোনো কারণ থাকতে পারে না,” গত ৮ অক্টোবর বেনারকে বলেছিলেন কনক।

গত ৪ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর উত্তরার বাসায় অভিযান চালিয়ে রাকাকে আটক করে র‌্যাব।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‍্যাব জানায়, “সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র দেশ ও বিদেশে অবস্থান করে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। বিদেশে অবস্থানকারী চক্রের সদস্যরা দেশীয় এজেন্টদের সঙ্গে যোগসাজশ করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এর ধারাবাহিকতায় নুসরাত শাহরিন রাকাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরে তাঁর বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মাদক আইনে মামলা করে র‌্যাব। মাদক মামলার নথিতে দেখা যায়, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছ থেকে পাঁচ গ্রাম আইস উদ্ধার হয়েছে বলে দাবি করে সংস্থাটি।

গত ৬ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় রাকার তিনদিন এবং মাদক মামলায় দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। রিমান্ড শেষে ১২ অক্টোবর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তখন থেকে কারাগারেই আছেন তিন সন্তানের এই জননী।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন