Follow us

সাংবাদিক ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের দাবি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2018-12-13
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা। ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮। ছবি: বেনার নিউজ
নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা। ১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮। ছবি: বেনার নিউজ
ছবি: বেনার নিউজ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের সাথে বৃহস্পতিবার এক সভায় মিলিত হয় নির্বাচন কমিশন।

সভায় উপস্থিত পুলিশ ও র‌্যাবের পক্ষ থেকে ভোটের দিন সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ ও কেন্দ্র থেকে সরাসরি সম্প্রচার বন্ধের দাবি জানান হয় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষকদেরও নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।

তবে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত দেননি কমিশন।

অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘অপপ্রচার’ ঠেকাতে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোনের ফোর-জি নেটওয়ার্কের গতি কমিয়ে টু-জি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে ভোটের দিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও, ফটো ইত্যাদি আপলোড করা যাবে না।

এ ছাড়া নির্বাচনে কালো টাকা বন্ধ করতে ২৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বন্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের কর্মকর্তারা।

নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার প্রধান ও যুগ্ম-সচিব এসএম আসাদুজ্জামান বেনারকে বলেন, নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার সংক্রান্ত আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীর প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের সাথে সভা করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারবৃন্দ।

তিনি বলেন, “সভায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্বাচনের সময় ভোটকেন্দ্র থেকে সাংবাদিকদের সরাসরি টিভি সম্প্রচার নিয়ে আপত্তি জানানো হয়। অনেকেই মনে করেন এতে ভোটকেন্দ্রে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। তারা সাংবাদিকদের মোবাইল ফোনসহ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের বিরোধিতা করেন।”

আসাদুজ্জামান বলেন, তবে কমিশনের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

তিনি বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে যারা বক্তৃতা রেখেছেন তারা সবাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া খবর, মিথ্যা প্রচারণা ইত্যাদি বন্ধ করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন।”

তিনি বলেন, কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার সাধ্য কমিশনের নেই।

আসাদুজ্জামান বলেন, “তবে আজকের সভার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, নির্বাচনের সময় ফোর-জি মোবাইল সেবা টু-জি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, সভায় আরও জানান হয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রচুর উত্তোলন করা হচ্ছে। তাই ডিসেম্বর ২৮, ২৯ ও ৩০—এই তিন দিন মোবাইল ব্যাংকিং বন্ধ থাকবে।

টেলিকম রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ জাহেদুল ইসলাম বেনারকে বলেন, মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক ফোর-জি থেকে টু-জি করলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অথবা ইউটিউবে কোনো ভিডিও আপলোড করা যাবে না। একটি ফটো অ্যাটাচ করতে অনেক সময় লেগে যাবে। তবে কথা বলতে ও এসএমএস করতে তেমন সমস্যা হবে না।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন বেনারকে বলেন, “ভোটাররা নির্বাচনের কেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন না। কিন্তু সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন নিতে কোনো বাঁধা নেই। এটা তাদের অধিকার। পেশাগত কারণেই তাদের মোবাইল ফোন নিতে হবে।”

“ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। কমিয়ে দিলে অনেক কাজকর্ম বাধাগ্রস্ত হবে,” সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন।

সাবেক কমিশনার আরো বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে পুলিশ নির্বাচন কমিশনকে ডিকটেট করছে। কিন্তু উল্টো হওয়ার কথা। নির্বাচন কমিশনের উচিত পুলিশকে নিয়ন্ত্রণ করা।”

সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, “আসলে সাংবাদিকেরা নির্বাচন কমিশনের সহায়ক শক্তি। এটা জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত। ২০০৮ নির্বাচনের আগে আমরা টিভি চ্যানেলগুলোকে সরাসরি সম্প্রচার করতে বলেছিলাম।”

সেনা নামবে ২৪ ডিসেম্বর

আগামী ২৪ ডিসেম্বর থেকে মাঠে নামবে সশস্ত্র বাহিনী, থাকবে আগামী ২ জানুয়ারি পর্যন্ত। বৃহস্পতিবার রাতে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের কাছে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ২২ ডিসেম্বর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন হবে বলে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। কাল শনিবার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

খালেদা জিয়া: আপিলের শুনানি সোমবার

দণ্ডপ্রাপ্ত ও কারারুদ্ধ বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার মনোনয়নের বৈধতার ব্যাপারে আগামী সোমবার হাইকোর্টে শুনানি হবে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

দুর্নীতির দুটি মামলায় ১৭ বছর দণ্ডিত খালেদা জিয়ার তিনটি মনোনয়নপত্র প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পরে নির্বাচন কমিশন বাতিল করে দেয়। এই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন খালেদা জিয়া।

হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ বিভক্ত রায় দেয়। একজন বিচারক খালেদা জিয়াকে বৈধ ঘোষণা করে। আরেক বিচারক তাকে অবৈধ ঘোষণা করে।

এরপর আইন অনুযায়ী, খালেদা জিয়ার প্রার্থিতার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি জেবিএম হাসানের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বেঞ্চে মামলা তিনটির শুনানি শুরু হওয়ার পর খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী মৌখিকভাবে আদালতে বলেন, “ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে আপনার আদালতের প্রতি আমাদের আস্থা নেই।”

জবাবে বিচারক এ জে মোহাম্মদ আলীকে লিখিত আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, “আপনারা তো এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতিকে জানাতে পারতেন।”

এরপর শুনানি মুলতবি করেন বিচারক ।

খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী বদরুদ্দোজা বাদল সাংবাদিকদের বলেন, “আদালত আমাদের লিখিতভাবে আবেদন করতে বলে সোমবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রেখেছে।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন