ভারত সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি অনিশ্চিত

আহম্মদ ফয়েজ
2022.09.02
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
ভারত সফরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি অনিশ্চিত বাংলাদেশ সফরের জন্য ঢাকার হযরত শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে জনতার উদ্দেশ্যে অভিবাদন জানাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৬ জুন ২০১৫।
[রয়টার্স]

সোমবার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের বৈঠকগুলোতে দুই দেশের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ইস্যু গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও ভারত নদী নিয়ে বেশ কয়েকটি চুক্তি, সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময়ে একমত হবে, বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর পানি বণ্টনের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত। তবে তিস্তা নিয়ে কিছু হচ্ছে না বলেই অভিমত কূটনৈতিকদের।

“তিস্তা নিয়ে কিছু হবে বলে মনে হয় না, সামনে নির্বাচন (ভারতের), তারপর আরো নির্বাচন আসবে, এসব কারণ দেখিয়ে এই চুক্তিটি আসলে হবে না,” বেনারকে বলেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন।

তাঁর মতে, “ভারত নানা অজুহাতে তিস্তার পানি দিচ্ছে না। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার কথা বলা হলেও তা বন্ধ হচ্ছে না।”

গত ২৬ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক নয়াদিল্লি থেকে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে কুশিয়ারা নদীর অন্তর্বর্তীকালীন পানি বণ্টন সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে।

তিস্তার পানি বণ্টনের চুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, তিস্তার পানি বণ্টনের চুক্তি প্রস্তুত ছিল কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তির কারণে তা স্বাক্ষরে বিলম্ব হচ্ছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ৫ সেপ্টেম্বর বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন এবং তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা হবে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এই সফরের সময় ভারতের সাথে বাণিজ্য নিয়ে কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) সই হতে পারে বলেও ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

সীমান্ত হত্যা গুরুত্ব পাওয়া উচিত

মানবাধিকারকর্মীদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে সীমান্ত হত্যা অবশ্যই গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বেনারকে বলেন, “সীমান্ত হত্যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভারত তা করছে না।”

তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে বার বার বলা হয় ভারত-বাংলাদেশে সম্পর্ক এখনকার মতো ভালো অতীতে কখনোই ছিল না, তাহলে এখনই তো সময় সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার।”

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাব অনুযায়ী ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কমপক্ষে ২৩জন বাংলাদেশি নিহত হবার ঘটনা ঘটেছে।

নিহতদের বেশিরভাগই বিএসএফের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি এই মানবাধিকার সংগঠনটির।

অপর মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের হিসেবে ২০০০ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে এক হাজার ২৫৩জন বাংলাদেশি।

গত জুলাই মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫২তম সীমান্ত সম্মেলন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর মহাপরিচালক পঙ্কজ কুমার সিং বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে নিহত বাংলাদেশিদের সবাইকে অপরাধী।

“সীমান্তজুড়ে অপরাধ সারা পৃথিবীতেই হয়, কিন্তু অপরাধ দমনে এভাবে প্রাণহানি কোথাও হয় না। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অবশ্যই সীমান্ত হত্যা বন্ধে জোরালো দাবি থাকা প্রয়োজন,” বলেন সুলতানা কামাল।

তিন দিনের সফরে যা হবে

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, তিন দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ছাড়াও দেশটির রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকারের সাথে সাক্ষাত করবেন।

 কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই) কর্তৃক আয়োজিত বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক অনুষ্ঠানে যোগদানের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

পাশাপাশি বেশ কয়েকটি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারি শুরু হওয়ার আগে ২০১৯ সালের অক্টোবরে শেষবার সফর করার পর দীর্ঘ তিন বছরের ব্যবধানে ভারতে এই রাষ্ট্রীয় সফর করছেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরের ঘোষণা দিয়ে গত বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) মুখপাত্র অরিন্দম বাগচি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সফরসহ উচ্চ পর্যায়ের সম্পর্ক বজায় রেখেছে।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।