শ্বাসকষ্টের সমস্যা, খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2021-05-03
Share
শ্বাসকষ্টের সমস্যা, খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর ঢাকায় হাসপাতালে যাবার পথে গাড়িতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া (ডানে)। ২৭ এপ্রিল ২০২১।
[বেনারনিউজ]

শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউতে) নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সোমবার বিকাল ৪টার দিকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে হাসপাতালের কেবিন থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয় বলে বেনারকে জানান তিনি। 

তবে সন্ধ্যায় এক ব্রিফিংয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জাহিদ সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়া স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, “শ্বাসকষ্টের পর খালেদা জিয়ার বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে, আরো কিছু পরীক্ষা করা হচ্ছে। রিপোর্টগুলো পেলে বিস্তারিত জানানো যাবে।”

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত খালেদা জিয়া গত ২৭ এপ্রিল থেকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর আগে গত ১০ এপ্রিল তাঁর করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। তিনি তাঁর গুলশানের ভাড়া বাসায় ব্যক্তিগত চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এর দু সপ্তা পর আবার পরীক্ষা করা হলে তখনও তাঁর করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে।

এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৭ এপ্রিল রাতে তাঁকে এভারকেয়ারে নেওয়া হয়। কয়েকটি পরীক্ষা করার পর সেই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির অভিযোগে কারারুদ্ধ হন বেগম খালেদা জিয়া। দুর্নীতির দুটি মামলায় তাঁর ১৭ বছর কারাদণ্ড হয়, যদিও দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মামলাগুলো রাজনৈতিক। 

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হলে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তাঁর কারাদণ্ড স্থগিত করে সরকার। তবে শর্ত অনুযায়ী, তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না, রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন না।

তারপর থেকে তিনি গুলশানের একটি বাসায় বসবাস করছেন। 

ঈদের পর পর্যন্ত বাড়ল লকডাউনের মেয়াদ

চলমান লকডাউন বা বিধিনিষেধের মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে দূরপাল্লার পরিবহন, ট্রেন ও লঞ্চ আগের মতোই বন্ধ থাকবে। তবে ৬ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জেলার মধ্যে গণপরিবহন চলবে। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের এ কথা জানান। 

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি রোধে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি কাজ ছাড়া ঘরের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, যা ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন নামে পরিচিতি পায়। 

তবে জীবন-জীবিকার কথা বিবেচনা করে ২৫ এপ্রিল থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান ও শপিংমল খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে বাংলাদেশে ঈদ হতে পারে ১৩ এপ্রিলের দিকে। নতুন করে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোয় ঈদও পড়বে এই বিধিনিষেধের ভেতর।

“ঈদের ছুটি মাত্র তিনদিন, দূর পাল্লার গাড়িও চলবে না,” জানিয়ে মো. বদিউজ্জামান নাম ঢাকার একজন পোশাককর্মী বেনারকে জানান, এ অবস্থায় যাদের ব্যক্তিগত গাড়ি নেই তাঁদের ঈদে বাড়ি যাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। 

তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরীর মতে, এবার ঈদের ছুটি কম দেওয়া হলে এবং আন্তঃজেলা গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখতে পারলে শহর থেকে মানুষ গ্রামে কম যাবে। এতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কম হবে। 

“ঈদের অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে ঈদের তিনদিন পর পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া দেশে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকা উচিত। কারণ, গণপরিবহন বন্ধ রেখে ব্যক্তিগত যান চলাচলের অনুমতি দিলে মানুষের মধ্যে অনায্যতার সৃষ্টি হয় যা বিক্ষোভের জন্ম দেয়,” বেনারকে বলেন তিনি। 

লকডাউনের মধ্যে শপিংমল খোলা ও গণপরিবহন চলাচলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “লক ডাউন চলাকালে সংক্রমণের অতি ঝুঁকিপূর্ণ দুটি স্থান শপিং মল ও গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হলো। এতে লক্ষ্য অর্জন হবে না। আবার জনগণের ভোগান্তিও কমবে না।” 

নৌ দুর্ঘটনায় ২৬ জনের মৃত্যু

সরকারি লকডাউন আদেশের মধ্যেই সোমবার পদ্মায় যাত্রীবাহী এক স্পিডবোট দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ২৬ জন যাদের মধ্যে তিন শিশু ও এক নারী রয়েছে। প্রাণে বেঁচে গেছেন কমপক্ষে পাঁচজন। 

মুন্সিগঞ্জ জেলার শিমুলিয়া থেকে মাদারিপুরের শিবচরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা বেসরকারি স্পিডবোটটি কাঁঠালবাড়িয়া ঘাটের কাছে থেমে থাকা একটি বালুবোঝাই জলযানকে বেপরোয়া গতিতে আঘাত করলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে কর্মকর্তারা জানান। 

মাদারিপুর জেলার শিবচর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান সুমন সোমবার বেনারকে বলেন, স্পিডবোটটিতে কমপক্ষে ৩১ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের কেউই লাইফ জ্যাকেট পরা ছিলেন না। 

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে ২৬ জনের লাশ পেয়েছি। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু এবং একজন নারী।”

মাদারিপুরের জেলা প্রশাসক রহিমা খাতুন ঘাটে সাংবাদিকদের বলেন, “লকডাউনের মধ্যেই আইন অমান্য করে স্পিডবোটে চালানো হচ্ছিল। কী কারণে এই দুর্ঘটনা তা বের করতে আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।” 

লকডাউনের কারণে ঘাট বন্ধ থাকলেও মালিক-চালকেরা ঘাটের বাইরে বিভিন্ন স্থান থেকে স্পিডবোট পরিচালনা করে বলে বেনারকে জানান নৌ-পুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম। 

“মাওয়া ও শিবচরের মধ্যে সংখ্যক স্পিডবোট যাত্রী পারাপারে যুক্ত রয়েছে, যাদের সঠিক সংখ্যাও জানা কঠিন,” জানিয়ে তিনি বলেন, “দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।” 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন সাত লাখ, ৬৩ হাজার ৬৮২ জন, মৃত্যু হয়েছে ১১ হাজার ৬৪৪ জনের।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ কোটি ৩০ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ, মারা গেছেন ৩২ লাখ ৫ হাজারের বেশি। 

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে ঢাকা থেকে সহায়তা করেছেন কামরান রেজা চৌধুরী। 

মন্তব্য (0)

সব মন্তব্য দেখুন.

মন্তব্য করুন

নিচের ঘরে আপনার মন্তব্য লিখুন। মন্তব্য করার সাথে সাথে তা প্রকাশ হয় না। একজন মডারেটর অনুমোদন দেবার পর মন্তব্য প্রকাশিত হয়। বেনারনিউজের নীতিমালা অনুসারে প্রয়োজানে মন্তব্য সম্পাদনা হতে পারে। প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য বেনারনিউজ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয়বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিক থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন