কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরান রাখা ইকবাল সন্দেহে এক যুবক আটক

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2021-10-21
Share
কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কোরান রাখা ইকবাল সন্দেহে এক যুবক আটক সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দুদের উপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকার শাঁখারী বাজারের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানববন্ধন। ২১ অক্টোবর ২০২১।
[বেনারনিউজ]

কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরান শরিফ রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত ইকবাল হোসেন সন্দেহে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার থেকে আটক করে তাঁকে কুমিল্লা নিয়ে যায় পুলিশ।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম বেনারকে জানান, “বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকত থেকে ইকবাল সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে।” 

আটকের পর ইকবালকে কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে কক্সবাজারের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে কুমিল্লা পাঠানো হবে।

এদিকে “গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজার থেকে ইকবাল নামে এক যুবককে” আটক করা হয়েছে জানিয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বেনারকে বলেন, “তাঁকে কুমিল্লা আনা হচ্ছে।”

কুমিল্লা আনার পর যাচাই-বাছাই করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হবে বলেও জানান তিনি। 

বুধবার কুমিল্লার নানুয়া দীঘির পাড়ের দুটি সিসি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে পূজামণ্ডপে কোরান রাখা ব্যক্তিকে ইকবাল হোসেন (৩৫) হিসেবে শনাক্ত করে কুমিল্লা পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পেশায় রঙমিস্ত্রি ইকবালের বাড়ি কুমিল্লা শহরের সুজানগরের খানকা মাজার এলাকায়।

এর পর থেকেই সন্দেহভাজন ইকবালকে খুঁজছিল পুলিশ ও গোয়েন্দারা। 

কুমিল্লা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে দেওয়া সিসি ক্যামেরার একটি ভিডিওতে রাত ২টার পর এক যুবককে স্থানীয় দারোগাবাড়ি শাহ আব্দুল্লাহ গাজীপুরীর (রহ.)মাজার থেকে বেরিয়ে পূজামণ্ডপের দিকে যেতে দেখা যায়, তখন তার হাতে বই জাতীয় কিছু ছিল।

আরেকটি ভিডিওতে রাত ৩টা ১২ মিনিটের দিকে তাঁকে পূজামণ্ডপের দিক থেকে ফিরে আসতে দেখা যায়। তখন তাঁর হাতে একটি গদা ছিল।

স্থানীয়রা জানান, ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়া দীঘির ওই পূজামণ্ডপে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ রাখা ছিল। তখন হনুমানের মূর্তির হাতে থাকা গদাটি পাওয়া যায়নি।

পুলিশের ধারণা, ইকবাল হনুমানের কোলে কোরান রেখে ফেরার সময় হনুমান মূর্তির গদাটি নিয়ে আসেন।

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপ থেকে পবিত্র কোরআন শরীফ উদ্ধারের ঘটনায় ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক হামলা ও নৈরাজ্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পুলিশ সদর দপ্তর বুধবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জনগণের সহযোগিতা চায়।

প্রায় সপ্তাহজুড়ে বিচ্ছিন্ন সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্নস্থানে সাত জন প্রাণ হারান বলে জানায় পুলিশ। নিহতদের মধ্যে দুই জন হিন্দু ও পাঁচ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দায়িত্ব পালনকালে ৫০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এ ছাড়া সারাদেশে অন্তত ৭২টি মামলা দায়ের হয়েছে, গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় সাড়ে চারশো সন্দেহভাজন। 

iqbal.jpg
আটকের পর কক্সবাজার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কুমিল্লার পূজামণ্ডপে কোরান রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত ইকবাল। ২১ অক্টোবর ২০২১। [সৌজন্যে: কক্সবাজার পুলিশ]

সিসিটিভি ফুটেজে ইকবাল

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের কাছে কয়েকটি সিসিটিভির সমন্বয়ে করা একটি ভিডিও পাঠানো হয়।

১৬ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের ভিডিওটি কয়েকটি সিসিটিভির ফুটেজের সমন্বয়ে করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

পুলিশের পাঠানো ফুটেজের বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইকবাল প্রায়ই মাজারে যাতায়াত করতেন। ১২ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টা ৪২ মিনিটে তাঁকে নগরের দারোগাবাড়ি মাজারে দেখা গেছে। তিনি মাজারে প্যান্ট ও গেঞ্জি পরে ঢুকছেন।

ফুটেজে দেখা গেছে, মাজারের খেদমতকারী ফয়সল ও হাফেজ হুমায়ুন মসজিদে প্রবেশ করেন। এরপর ইকবাল মসজিদে প্রবেশ করে তাঁদের পাশে বসেন। সেখানে থেকে তিনি মাজারের উত্তর দিকে চলে যান।

মাজার থেকে আগে হাফেজ হুমায়ুন এবং পরে খাদেম ফয়সল বের হন। তারপর ইকবাল দানবাক্সের ওপর থেকে কোরআন শরিফ নিয়ে মেঝেতে বসেন। পরে কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে মাজারের উত্তর পাশের সড়ক দিয়ে চলে যান। 

এরপর ইকবাল চকবাজার স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংক মোড় ঘুরে পূজামণ্ডপের দিকে রওনা হন। এ সময় ইকবালের সঙ্গে দুজন নৈশপ্রহরীর দেখা এবং কথা হয়।

ফুটেজে দেখা যায়, এরপর ইকবাল কোরআন হাতে নিয়ে ডিগাম্বরীতলা সড়ক দিয়ে নানুয়া দিঘির পূজামণ্ডপে প্রবেশ করেন।

পুলিশের ধারণামতে, এর পরে ইকবাল হনুমানের প্রতিমার ওপর কোরান রেখে হনুমানের গদাটি নিয়ে চলে আসেন। 

রুমা সরকার রিমান্ডে

ঢাকার একটি পুরানো হত্যাকাণ্ডের ভিডিওকে নোয়াখালীর সংখ্যালঘু হত্যার দৃশ্য দাবি করে ফেসবুকে গুজব ছড়ানোর কারণে ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও আবৃত্তিশিল্পী রুমা সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে।

বাংলা দৈনিক সমকালের অনলাইনে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবার রুমাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে সাত দিনের জন্য হেফাজতে চেয়ে আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম মাসুদ-উর-রহমান দুদিন রিমান্ডের আদেশ দেন।

এর আগে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

“ঢাকার পল্লবীতে শাহীন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ভিডিওকে নোয়াখালীর চৌমুহনীর যতন কুমার সাহা হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দাবি করে ফেসবুক লাইভে উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়েছেন তিনি,” বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক আ ন ম ইমরান খান। 

প্রতিবেদনে কক্সবাজার থেকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন আবদুর রহমান।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন