Follow us

জম্মু-কাশ্মীরের ইস্যুতে বাংলাদেশকে অবহিত করল পাকিস্তান

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2020-07-22
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে হাত উঁচু করে পুলিশের তল্লাশি চৌকি পার হচ্ছেন স্থানীয় এক তরুণ। ১৯ মে ২০২০।
ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে হাত উঁচু করে পুলিশের তল্লাশি চৌকি পার হচ্ছেন স্থানীয় এক তরুণ। ১৯ মে ২০২০।
[রয়টার্স]

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে নিজ দেশের অবস্থান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বুধবার দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার ফোনালাপে ইমরান খান দ্বিপাক্ষিক নানা বিষয়ের পাশাপাশি এ বিষয় আলোচনা করেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

এতে বলা হয়, “প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি সম্পর্কে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান। এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেন তিনি।

অবশ্য দুই প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

তবে বেনারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ঢাকার অবস্থান জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন বলেন, “কাশ্মীর সম্পর্কে আমাদের দীর্ঘদিনের অবস্থান আছে। আমরা মনে করি ওই এলাকার জনগণের অধিকার, আশা ও আকাঙ্খার আলোকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করতে হবে।”

বিশ্লেষকেরা বলছেন, পাকিস্তান হয়ত জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে বাংলাদেশকে জড়াতে চাইছে। বাংলাদেশের উচিত হবে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ থাকা। তবে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় করতে পাকিস্তানের অব্যাহত চেষ্টার প্রসংশা করেছেন তাঁরা।

“জম্মু ও কাশ্মীর প্রশ্নে বাংলাদেশের কোনো অবস্থান থাকা ঠিক না। এটি একেবারেই ভারত এবং পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো ভূমিকা রাখতে পারে না,” বেনারকে বলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বেনারকে বলেন, “পাকিস্তানের সাথে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক এমনিতেই খুব ভালো ছিল না। তার উপর আমাদের নিজস্ব আইনে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে তাদের অযাচিত মন্তব্যের কারণে সে সম্পর্ক আরো খারাপ হয়।”

“তবে এখন বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক ভালো করতে চাওয়া পাকিস্তানের স্বার্থে। যেহেতু দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক ভালো না, কাজেই এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সাথে তারা সম্পর্ক ভালো করতে চাইবে। এটা স্বাভাবিক।”

সম্পর্ক দৃঢ় করার বার্তা

পাকিস্তানের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও সার্বভৌম সাম্যের ভিত্তিতে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর করতে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতির কথা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানান ইমরান খান।”

বাংলাদেশ সময় বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রায় ১৫ মিনিট কথা হয়।

ইহসানুল করিম জানান, ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় এবং এর চিকিৎসা ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের নেওয়া সকল উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, আলাপাকালে ইমরান খান শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তাঁকে চলমান বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানান।

ইসলামাবাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পাকিস্তান সফরের জন্য তাঁর আন্তরিক আমন্ত্রণের পুনরাবৃত্তিও করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

ইসলামাবাদ জানায়, সার্কের প্রতি পাকিস্তানের অঙ্গীকারের প্রেক্ষাপটে ইমরান খান বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, টেকসই শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্যেও বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেওয়ার উপরে তিনি জোর দেন।

এ বিষয়ে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছিলেন, সার্ক নিয়ে পাকিস্তানের যেকোনো উদ্যোগ অর্থহীন। কারণ, ভারত না চাইলে সার্কের কোনো অগ্রগতি হবে না।”

তিনি বলেন, “সার্কের যেকোনো বিষয়ে একটি সদস্য রাষ্ট্র ভেটো দিতে পারে। পরবর্তী সার্ক সম্মেলন পাকিস্তানে হওয়ার কথা ছিল। ভারত সেখানে যেতে রাজি হয়নি। এর ফলে গত কয়েকবছর ধরে কার্যত সার্কের কোনো কার্যক্রমই দেখা যায়নি।”

প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন ঢাকা থেকে কামরান রেজা চৌধুরী।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন