Follow us

বিদেশ যেতে চেয়ে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2020-02-18
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
দুর্নীতি মামলায় ঢাকার একটি আদালতে হাজিরা দিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে অভিবাদন জানাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৫ এপ্রিল ২০১৫।
দুর্নীতি মামলায় ঢাকার একটি আদালতে হাজিরা দিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে অভিবাদন জানাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ৫ এপ্রিল ২০১৫।
[বেনারনিউজ]

দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতির চেয়ে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জামিন আবেদন করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।

বুধবার জামিন আবেদনটি আদালতে উত্থাপিত হবে বলে বেনারকে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফোন করার চার দিনের মাথায় এই জামিন আবেদনটি করা হলো।

দুমাস আগে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খালেদার জামিনের জন্য আবেদন জমা দেয়া হয়। কিন্তু তখন জামিন মেলেনি।

“আমরা জামিন চাই, প্যারোল নয়। প্যারোল সরকারের এখতিয়ার। এটি আদালতের প্রক্রিয়া নয়। প্যারোলে সরকারের বিভিন্ন শর্ত থাকে,” বেনারকে বলেন জমিরউদ্দিন সরকার।

তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার চিকিৎসা আমাদের প্রধান বিবেচনা। যদি আদালতে জামিন না হয় সেক্ষেত্রে প্যারোলের বিষয়টি পরে দেখা যাবে।”

“আশা রাখি আগামীকাল আদালতে শুনানি হবে,” যোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর সাথে খালেদা জিয়ার প্যারোলে মুক্তির বিষয়ে কথা বলেছেন।

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বেনারকে বলেছেন, তিনি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়ে ওবায়দুল কাদেরের সাথে কথা বলেছেন। প্যারোলের বিষয়ে নয়।

তিনি বলেন, “আমরা খালেদা জিয়ার জামিনে মুক্তি চাই। সরকার চাইলে খালেদা জিয়া জামিন পেতে পারেন। আর প্যারোলের জন্য আবেদন করার বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিবারের সিদ্ধান্ত, দলের নয়।”

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য স্বরাষ্ট্র অথবা আইন মন্ত্রণালয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আবেদন জমা পড়েনি বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

এদিকে খালেদা জিয়া “প্যারোলের আবেদন করলে আমরা বিবেচনা করব,” বলে বেনারকে জানান আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফারুক খান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শান্তনু মজুমদার বেনারকে বলেন, “আমার মনে হয় ক্ষমতাসীন দল খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্তি দিতে চাইবে। এর মাধ্যমে তাদের রাজনীতি হবে, জনগণ ও নেতাকর্মীদের কাছে বিএনপিকে হেয় প্রতিপন্ন করা।”

“খালেদা জিয়া প্যারোলে অথবা সরকারের অনুকূলে মুক্তি পেলে তখন আওয়ামী লীগ বোঝাবে বিএনপি রাস্তায় পারে না, ভোটে পারে না, রাজনৈতিক সমঝোতায় পারে না। বিএনপি একটি অপদার্থ দল,” বলেন ড. শান্তনু।

তবে “বিএনপির ভোট কিন্তু কমেনি,” মন্তব্য করে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন, সেজন্য বিএনপির কাছে ইস্যু আছে। কিন্তু খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বেরিয়ে আসলে তখন বিএনপির ইস্যু কী হবে? এটি একটি বড় প্রশ্ন।”

বিদেশ যেতে চেয়ে জামিন আবেদন

মঙ্গলবার দায়ের করা জামিন আবেদনে বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। তাঁর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে তাঁর উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না। তাই জামিন পেলে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ‍বিদেশ যাবেন।

জিয়া অর্ফানেজ ট্রাস্ট্র দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদাকে সাজা দেয় ঢাকার একটি আদালত। পরে জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায়ও সাজা হয় তাঁর। সব মিলিয়ে ১৭ বছরের সাজা খাটছেন খালেদা জিয়া।

২০১৯ সালের ৩১ জুলাই জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। এরপর ১৪ নভেম্বর খারিজাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন তাঁর আইনজীবীরা। শুনানি শেষে গত ১২ ডিসেম্বর সেই আবেদনও খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন