ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘাত টানা তৃতীয় দিনে গড়ালো

কামরান রেজা চৌধুরী
2022.05.26
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল সংঘাত টানা তৃতীয় দিনে গড়ালো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ছাত্রদলের কর্মীদের দিকে ইট-পাথর ছুড়ে মারছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। ২৬ মে ২০২২।
[সাবরিনা ইয়াসমীন/বেনারনিউজ]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির ছাত্র সংগঠনের মধ্যে মঙ্গলবার শুরু হওয়া সংঘাত টানা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট এলাকা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মীদের ওপর আক্রমণ চালায় আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

এতে শতাধিক ছাত্রদল নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার ‘আক্রমণের’ প্রতিবাদে শনিবার ও রোববার সারাদেশে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ছাত্রদল।

মঙ্গলবার সংঘাতের শুরু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে ছাত্রদলের এক কর্মীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পদ্মা সেতু থেকে ‘টুস’ করে ফেলে দেয়ার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ১৮ মে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া বলেছিলেন পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্য ‘হত্যার হুমকিস্বরূপ’ এবং ‘কুরুচিপূর্ণদাবি করে এর প্রতিবাদে গত রোববার বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যকে কটূক্তি উল্লেখ করে বলেন, “শেখ হাসিনা, আপনি আমাদের আদর্শিক মাকে নিয়ে কটূক্তি করে আমাদের হৃদয়ে আঘাত করেছেন। কত রক্ত চাই আপনার? ছাত্রদল রক্ত দিতে প্রস্তুত রয়েছে।”

এই বক্তব্যের কারণে ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।

গত মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল সোয়া নয়টার দিকে ছাত্রদল কর্মীরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের গেটের সামনে দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করার চেষ্টা করে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে তাঁদের বাধা দেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা।

ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগ গেটের বাইরে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ঢিল ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

বুধবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এলাকা দিয়ে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত বেঁধে যায়।

“বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকায় ছাত্রদলের ক্যাম্পাস অভিমুখী শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ এবং সশস্ত্র হামলা চালায়,” বলে ঘটনা সম্পর্কে রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

“গুলির শব্দে ছাত্রদলের কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে সুপ্রিমকোর্টের অভ্যন্তরে আশ্রয় নিলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হকিস্টিক, স্ট্যাম্প, রড এবং অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে,” বিবৃতিতে বলেন ওই দুই ছাত্রদল নেতা।

এই “পৈশাচিক এবং ন্যক্কারজনক হামলার” তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদে আগামী ২৮ মে দেশের সকল জেলা ও মহানগর ইউনিটে এবং ২৯ মে দেশের সকল উপজেলা, থানা, পৌরসভা এবং কলেজে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয় বিবৃতিতে।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্রলীগের আক্রমণের’ প্রতিবাদে বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

এই সমাবেশ পালন করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার খুলনায় ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে লিপ্ত হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষমতাসীন দলের আক্রমণের শিকার হয়েছেন পটুয়াখালী বিএনপির নেতাকর্মীদের কয়েকজন। মানিকগঞ্জেও সমাবেশে পুলিশের বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছে বিএনপি।

তবে বিএনপি’র এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ।

আহত শতাধিক: বিএনপি

সংঘাতে আহত ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের দেখতে বৃহস্পতিবার শমরিতা হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ঘটনার দায় ছাত্রলীগের ওপর চাপিয়ে বিএনপি মহাসচিব সাংবাদিকদের বলেন, সন্ত্রাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশেপাশে এলাকায় প্রায় শতাধিক ছাত্রদল নেতা-কর্মীদেরকে আহত করেছে।

তিনি বলেন, এমন কি হাইকোর্টের ভিতরে ঢুকে খুঁজে খুঁজে বের করে মেরেছে, আহত করেছে। নারীদেরকেও তারা রেহাই দেয়নি।

হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে এই সংঘাতের ঘটনার পর রোববার থেকে আদালত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মির্জা ফখরুল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ‘কটূক্তি’ করার পর স্বাভাবিকভাবেই নিন্দার ঝড় উঠেছে। এ ঝড়কে দমন করার জন্য তারা সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছে। অবিলম্বে আক্রমণকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জোর দাবি জানান তিনি।

তবে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান বৃহস্পতিবার বেনারকে বলেন সারা দেশের মানুষ যখন ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য অপেক্ষা করছে তখন “জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে শেখ হাসিনার সরকারের সাফল্যকে ম্লান করার অপচেষ্টার অংশ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের এই অস্ত্রবাজি।”

ছাত্রদলের “এই চেষ্টা সফল হবে না,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকার রাজনৈতিকভাবে তাদের এই অপচেষ্টা মোকাবিলা করবে।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।