যুবদল নেতার মৃত্যু: বিএনপি পুলিশকে দায়ী করেছে, অস্বীকার পুলিশের

কামরান রেজা চৌধুরী
2022.09.01
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
যুবদল নেতার মৃত্যু: বিএনপি পুলিশকে দায়ী করেছে, অস্বীকার পুলিশের নারায়ণগঞ্জের দুই নম্বর রেলগেট এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষকালে পুলিশের অ্যাকশন। ১ সেপ্টেম্বর ২০২২।
[বেনারনিউজ]

প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনকে কেন্দ্র করে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জ জেলায় এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় পুলিশের সাথে সংঘর্ষে শতাধিক ব্যক্তি আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে বিএনপি। যদিও পুলিশ এসব তথ্য নিশ্চিত করেনি।

নিহত যুবদল নেতার নাম শাওন প্রধান (২০)। যদিও পুলিশের গুলিতে শাওন নিহত হননি বলে বেনারকে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল।

তবে নিহত শাওনের শরীরে গুলির চিহ্ন রয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার।

নারায়ণগঞ্জ ছাড়াও সিরাজগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, নড়াইল ও নেত্রকোনা জেলায় পুলিশের সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এটিই বিরোধীদল বিএনপির সাথে পুলিশের সবচেয়ে বড়ো মাত্রার সংঘর্ষ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে গত মাসে ভোলায় পুলিশের গুলিতে বিরোধীদলের দুই নেতা নিহত হন।

নারায়ণগঞ্জে সংঘর্ষ

প্রত্যক্ষদর্শীরা মো. হেলাল বেনারকে বলেন, সকাল ১০টার দিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জ শহরের ডিআইটি এলাকার আলী আহাম্মদ চুনকা পাঠাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন।

অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করতে তাঁদের বাধা দেয় পুলিশ। এরপরই সংঘর্ষ শুরু হয় পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের। আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

এসময় পুলিশ টিয়ার গ্যাস শেল নিক্ষেপ ও গুলি চালায় বলে জানান হেলাল।

“বিক্ষোভকারীরা অনুমতি ছাড়াই সড়ক অবরোধ করে। অবরোধ তুলে নিতে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হয়। এসময় তাঁরা পুলিশের ওপর লাঠিসোটা, ককটেল নিয়ে আক্রমণ শুরু করে। আমরা সন্দেহ করছি, তারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে,” বেনারকে জানান পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল।

পুলিশ ‘আত্মরক্ষার্থে’ লাঠিচার্জ এবং টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “নিহতের লাশ হাসপাতালের মর্গে আছে। আইন অনুযায়ী, পোস্টমর্টেম না হওয়া পর্যন্ত লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যাবে না।”

 এদিকে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপি জানায়, ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মানিকগঞ্জ, নেত্রকোণা, নড়াইল, সিরাজগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা হামলা ও পুলিশ গুলিবর্ষণ করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করেছে। নারায়ণগঞ্জে মহানগর যুবদল নেতা মো. শাওনকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শাওন হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর দলীয় কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও কালো ব্যাজ ধারণ এবং বাদ জুমা নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে জেলা ও মহানগরে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া শনিবার ঢাকাসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

দলীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত সমাবেশে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিকেল সোয়া ৪টায় দিকে শুরু হওয়া বিএনপির র‌্যালি নাইটিঙ্গেল মোড়, বিজয় নগর সড়ক, পল্টনের মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

বড়ো আকৃতির জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকার পাশাপাশি রঙ-বেরঙয়ের ব্যানার-ফেস্টুন, জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের প্রতিকৃতিসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতা-কর্মীরা এই র‌্যালিতে অংশ নেন।

র‍্যালি থেকে নারায়ণগঞ্জে শাওন হত্যার প্রতিবাদে শুক্র ও শনিবারের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।