Follow us

একে একে দল ছাড়ছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা

শরীফ খিয়াম
ঢাকা
2019-11-08
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
রাজশাহীতে বিএনপির এক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
রাজশাহীতে বিএনপির এক সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯।
[বেনারনিউজ]

বিরোধী দল বিএনপির দুই জ্যেষ্ঠ নেতাসহ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করলেও তা গ্রহণ করা এবং কয়েকজন নেতার পদত্যাগের গুঞ্জন—সব মিলিয়ে দলটিতে অস্থির অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদের এই পরিস্থিতিতে উচ্ছসিত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

যদিও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য দেয়নি বিএনপি। তবে নিজেদের অতীত ভুল এবং নেতৃত্বে সংকটের কারণেই দলটির এই পরিণতি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. শান্তনু মজুমদার।

“এই অবস্থা প্রমাণ করে যে, বিএনপি ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে, রাজনৈতিক শক্তি হারাচ্ছে,” বৃহস্পতিবার বেনারকে বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক।

গত ১৪ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে রয়েছে একাধিকবার দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি। দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জেলে আছেন। এর আগে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে দেশ ছেড়ে যাওয়া খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে লন্ড‌নে বসেই দল চালাচ্ছেন। তাঁর ওপর প্রবীণ নেতাদের অনেকেই ক্ষুব্ধ, যা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রায়ই খবর প্রকাশ হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “বিদেশে বসে তারেক রহমান ভুল নেতৃত্ব দেয়ায়, বিএনপি আজ যে অবস্থানে পৌঁছেছে তাতে দলটির আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই।”

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান। তিনি দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলার আসামি।

মাস দুয়েক আগেই পদত্যাগ করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, খবরটি জানাজানি হয় দু’তিনদিন আগে।

মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, তিনি রাজনীতি নিয়ে বীতশ্রদ্ধ। বাংলাদেশে রাজনীতি বা আদর্শ নেই। তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

গত রোববার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ সিলেটের চার কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করেন, যদিও এখন পর্যন্ত পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি বিএনপি।

এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বৃহস্পতিবার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, “বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের পদত্যাগের ঘটনাগুলো তাঁদের রাজনৈতিক ভুলের অনিবার্য পরিণতি।”

ড. শান্তনু বলেন, “বিএনপির মধ্যে যে ধরনের অস্থিরতা চলছে, মোরশেদ খান বা মাহবুব সাহেবের চলে যাওয়া তারই যে বহিঃপ্রকাশ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সম্ভবত এই দুই প্রবীণ রাজনীতিবিদ দলটির কোনো ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন না।”

“তবে বিএনপি এখন এমনিতেই যে ক্ষয়িষ্ণু একটি দল, তাতে এই দুই নেতার পদত্যাগে দলটির তেমন লাভ–ক্ষতি হবে বলে আমার মনে হয় না,” যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বর্তমানে জ্যেষ্ঠ নেতাদের অবজ্ঞা করা হচ্ছে জানিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক উপপ্রধানমন্ত্রী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শাহজাহান ওমরসহ আরও কয়েকজন নেতা পদত্যাগ করার গুঞ্জন রয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে দৈনিক যুগান্তর, ইনকিলাবসহ স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যম।

এ ব্যাপারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বেনারকে বলেন, “তাঁরা (মাহবুবুর রহমান ও এম মোরশেদ খান) দল থেকে নয়, রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে অবসর নেওয়ার চর্চা নেই। যে কারণে অন্য কেউ অবসর নিলে তারা সেখানে ভুল খুঁজে বেড়ায়।”

“এই দেশে এখন আর রাজনীতি করার পরিস্থিতি আছে কিনা তা তারা বুঝতে পারছেন না,” পদত্যাগকারী দুই নেতা সম্পর্কে বলেন তিনি। সরকার বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা নানামুখী চাপের মুখে রয়েছেন বলে জানান তিনি।

এর আগে ২০১৫ সালে ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, ২০১৬ সালে নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক আলী ফালু এবং ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী বিএনপি ছাড়েন।

এর মধ্যে ইনাম আহমেদ আওয়ামী লীগে যোগদান করলে ৭ জুলাই তাঁকে দলটির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য করা হয়।

আলোচনায় অনুপ্রবেশ

আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে বিএনপিসহ অন্য দল থেকে প্রায় পাঁচ হাজার নেতা সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এদের বলা হচ্ছে সরকারি দলে অনুপ্রবেশকারী।

তবে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছেন, “আমাদের পার্টিতে যাঁরা এসেছে বা আসছে, তাঁরা সবাই অনুপ্রবেশকারী নয়। কারো বিরুদ্ধে যদি সাম্প্রদায়িকতার সংশ্লিষ্টতা না থাকে, কোনো প্রকার মামলা-মোকদ্দমা বা অপরাধে সংশ্লিষ্টতা না থাকে, তাহলে তাঁরা অনুপ্রবেশকারী নয়।”

“অনেক ক্লিন ইমেজের নেতাও আমাদের পার্টিতে এসেছেন,” যোগ করেন ওবায়দুল কাদের।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন