Follow us

লাগেজ ভ্যান কিনতে চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ের চুক্তি

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2020-08-31
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
তেজগাঁও স্টেশনে বাংলাদেশ রেলওয়ের কয়েকটি মালগাড়ি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৬৬ সালের পর বাংলাদেশ আর কোনো মালগাড়ি কেনেনি। ২১ মে ২০২০।
তেজগাঁও স্টেশনে বাংলাদেশ রেলওয়ের কয়েকটি মালগাড়ি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৬৬ সালের পর বাংলাদেশ আর কোনো মালগাড়ি কেনেনি। ২১ মে ২০২০।
[বেনারনিউজ]

রেলপথে পণ্য পরিবহন ‍বাড়াতে স্বাধীনতা–পরবর্তী সময়ে এই প্রথমবারের মতো লাগেজভ্যান সংগ্রহ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

পঞ্চাশটি ব্রডগেজ এবং ৭৫টি মিটারগেজ লাগেজভ্যানসহ মোট ১২৫টি লাগেজভ্যান ক্রয়ের জন্য তিনটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে রেলওয়ের সোমবার চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে বেনারকে জানান রেলের জনসংযোগ পরিচালক মোহাম্মদ সফিকুর রহমান।

রেলভবনে রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজনের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুর রহমান এবং চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনটিক-রেইলটেকো-জিনজি যৌথ কোম্পানিগুলোর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ইয়াং বিং।

প্রতিষ্ঠানগুলো যৌথভাবে সর্বোচ্চ ২৭ মাসের মধ্যে ১২৫টি লাগেজভ্যান সরবরাহ করবে বলে জানান সফিকুর রহমান।

এশীয় ‍উন্নয়ন ব্যাংকের ঋণ সুবিধায় লাগেজভ্যানগুলো কিনতে ব্যয় হবে ৪০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।

তবে চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লাগেজভ্যান কেনার ব্যাপারে কিছুটা সতর্ক থাকার কথা বলেছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা।

কারণ ২০১৩ সালে চীন থেকে কেনা দশ সেট (বিশটি) কমিউটার ট্রেন প্রায় অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ওই ট্রেনগুলো কিনতে খরচ হয় ৬০০ কোটি টাকার কিছু বেশি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মো. মিয়াজাহান বেনারকে বলেন, “রেলওয়েতে ১৯৬৬ সালের পর থেকে কোনো লাগেজভ্যান কেনা হয়নি। জার্মানির তৈরি ৩৬টি লাগেজভ্যান দিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পণ্য পরিবহন চলছে। এগুলোর অবস্থা খুব ভালো নয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রেলওয়েতে এই প্রথম লাগেজভ্যান কেনা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহয়তায় রেলওয়ের মাধ্যমে মাছ, মাংস ও অন্যান্য পচনশীল দ্রব্য বহনের জন্য ২৮টি ফ্রিজারভ্যানসহ মোট ১২৫টি লাগেজভ্যান সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

লাগেজ ভ্যান সরবরাহের জন্য ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং চীনা প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করেছিল জানিয়ে মো. মিয়াজাহান বলেন, “ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানিগুলোর দর বেশি ছিল বিধায় চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্বাচন করা হয়।”

তিনি বলেন, “এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক দরপত্রগুলো পরীক্ষা করে অনাপত্তি দেয়ার পরেই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।”

বাংলাদেশ রেলওয়ে মূলত যাত্রী পরিবহন করে থাকে। সেকারণে রেলওয়ে প্রতিবছর বিশাল অঙ্কের অর্থ লোকসান করে থাকে বলে বেনারকে জানান সাবেক মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেলওয়ে ১৭’শ কোটি টাকার বেশি লোকসান দিয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এই লোকসানের পরিমাণ ছিল ৮৭২ কোটি টাকার কিছু বেশি।

বাংলাদেশ রেলপথ আছে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার।

তাফাজ্জল হোসেন বলেন, শুধু যাত্রী পরিবহন করে রেলওয়েকে লাভজনক করা যাবে না। রেলকে লাভবান করতে হলে পণ্য পরিবহনের দিকে নজর দিতে হবে। লাগেজভ্যান ক্রয়ের যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

“তবে এই সকল লাগেজভ্যান যাতে মানসম্মত হয়, সেদিকে নজর রাখতে হবে,” মন্তব্য করে বলেন তাফাজ্জল হোসেন বলেন, “আমি বলব না যে চীনের সকল পণ্য খারাপ মানের। তবে চীন থেকে ২০১৩ সালে আমরা যে ১০ সেট ডেমু ট্রেন কিনেছি, সেগুলোর অভিজ্ঞতা ভালো নয়।”

তিনি বলেন, “ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০০৪ সালে কোচ কেনার অভিজ্ঞতাও ভালো নয়। সুতরাং, আমরা যেই দেশ থেকেই কিনি না কেন পণ্যগুলো যাতে মানসম্মত হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।”

২০১৩ সালে চীন থেকে কেনা ১০ সেট অর্থাৎ কুড়িটি ডেমু ট্রেন সম্পর্কে অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়াজাহান বেনারকে বলেন, “ওই ট্রেনগুলোর জানালা ছিল না। ট্রেনের ভিতরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকায় ভেতরে যাত্রী গরমে অজ্ঞান হয়ে গেছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে। আবার ইঞ্জিন গরম হয়ে গেলে পথিমধ্যে বন্ধ হয়ে যেত।”

তিনি বলেন, “আসলে শীতের দেশের উপযোগী ট্রেন বাংলাদেশের মতো গরম দেশে আনা হয়েছিল। এখন ১১টি ট্রেন সচল থাকার কথা। বাকিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।”

ওই ১১টি ট্রেন করোনার কারণে গত ছয় মাস চালানো হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, “সেগুলো আবার চালানো যাবে কি না, তা এখন পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে না।”

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে রাজশাহী থেকে আম পরিবহন করেছে রেলওয়ে। আম ছাড়াও শাকসবজি ও নিত্যপণ্য পরিবহন করেছে। কোরবানির ঈদে পশু পরিবহন করেছে।

তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে কৃষকের পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ হিসেবে লাগেজভ্যান ক্রয় করা হচ্ছে। এতে করে কৃষক তার পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবে।”

মিয়াজাহান বলেন, “আমরা ফল, শাকসবজি পরিবহণের খরচ অর্ধেকের বেশি কমিয়ে দিয়েছি। ফলে করোনাভাইরাস মহামারিতে সহজেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ঢাকায় সহজে পৌঁছানো গেছে।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন