Follow us

চতুর্থবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2019-01-07
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৭ জানুয়ারি ২০১৯।
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ৭ জানুয়ারি ২০১৯।
[ফোকাস বাংলা]

চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হলেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা। সোমবার রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের কাছে শপথ গ্রহণ করে টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বড় মেয়ে শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনাই বাংলাদেশের প্রথম নেতা যিনি একটানা তিনবার সরকার প্রধানের পদ অলঙ্কিত করলেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন। এর আগে ১৯৯৬ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ২০০১; মোট তিন মেয়াদে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শপথের পর মন্ত্রিসভার অন্য ৪৬ জন সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। নতুন সরকারে ২৪ জন পূর্ণমন্ত্রী, ১৯ জন প্রতিমন্ত্রী ও তিনজন উপমন্ত্রী রয়েছেন।

দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে বঙ্গভবনে আসেন শেখ হাসিনা। তার মিনিট দুয়েক পর আসেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এর পরপরই শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

গত ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়ী হওয়ার পর বৃহস্পতিবার সংসদ-সদস্য হিসাবে শপথ নেন দলের নব নির্বাচিতরা। তাঁরা শেখ হাসিনাকে সংসদীয় দলের প্রধান নির্বাচিত করলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ তাঁকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করে সরকার গঠনের আহবান জানান।

বেশিরভাগ মন্ত্রীই নতুন

শপথ নেয়া মন্ত্রীদের মধ্যে সদ্য গত হওয়া মন্ত্রিসভার ৩৬ জন মন্ত্রীই বাদ পড়েছেন। নতুন মন্ত্রিসভার ৩১ জনই নতুন।

এদের মধ্যে চারজন ২০০৯-২০১৩ সালে শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় ছিলেন। তাঁরা হলেন- সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মণি, সাবেক পরিবেশ মন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান ও ড. আব্দুর রাজ্জাক।

নতুন মন্ত্রিসভায় রয়েছেন তিনজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীও। এদের মধ্যে ইয়াফেস ওসমান পেয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মোস্তাফা জব্বার পেয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ পেয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।

গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের মধ্যে যারা আবার নিজেদের পুরোনো মন্ত্রণালয় পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

দেশের নতুন এই মন্ত্রিসভা নিয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক এর প্রতিষ্ঠাতা বদিউল আলম মজুমদার বেনারকে বলেন, “এটা একটা চমকের মন্ত্রিসভা। পুরাতনরা বাদ। নতুনদের সমাহার।”

তাঁর কাছে, “এর ভালো-মন্দ দুটি দিকই আছে। ভালো দিক হলো পুরাতনদের অভিজ্ঞতা আছে। আর মন্দ দিক হলো, তারা একটি বৃত্তের মধ্যে আটকে আছেন।”

সুজন সম্পাদক বলেন, “আবার নতুনরা কোনো বৃত্তে আটকে নেই। কিন্তু তাঁদের অভিজ্ঞতা নেই। মন্ত্রণালয় চালাতে গেলে প্রয়োজন অভিজ্ঞতা।”

ড. বদিউল আলম বলেন, “নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো দেশ থেকে দুর্নীতি কমানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করা। দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

প্রথমবার প্রতিমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়ে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বেনারকে বলেন, “আমাদের নেত্রী, গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা একজন ডাইনামিক লিডার। আমরা নতুন, বয়সে তরুণ। তবে তাঁর নেতৃত্বে আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করব। আমাদের সামনে যে সকল চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেগুলো আমরা ওভারকাম করতে পারব।”

শপথ অনুষ্ঠানের আগে সোমবার সচিবালয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “ইশতেহার বাস্তবায়নের উপযোগী করেই নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে লক্ষ্য বাস্তাবায়ন সহজ হবে।”

তিনি বলেন, “তবে মন্ত্রিসভা কিছুটা সম্প্রসারণ হতেই পারে। নতুন যারা দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁরা ভালো পারফরম্যান্স না করতে পারলে দায়িত্বে পরিবর্তন আসতেই পারে। পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে তাঁরা কতদিন দায়িত্বে থাকবেন।”

বাদ পড়লেন যারা

মন্ত্রীসভা থেকে বাদ পড়েছেন জৈষ্ঠ্য নেতা আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, শাজাহান খান, আবুল মাল আবদুল মুহিত, কামরুল ইসলাম, খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ও আসাদুজ্জামান নূর।

স্থান হয়নি আওয়ামী লীগের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু ও জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) প্রধান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল, ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান, রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ চন্দ্র, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার বাদ পড়েছেন।

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়া নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান বেনারকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রায় দশ বছর মন্ত্রী রেখেছিলেন। আমি আমার দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার অবহেলা করিনি। তিনি এনেছিলেন। আবার তিনিই বাদ দিয়েছেন। আমার কিছু বলার নেই।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন