Follow us

ফল বাতিলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে ঐক্যফ্রন্ট

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2019-01-08
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ জানুয়ারি ২০১৯।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ৮ জানুয়ারি ২০১৯।
[ফোকাস বাংলা]

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল চেয়ে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করবে বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দলগুলো।

এ ছাড়া ৩০ ডিসেম্বর সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবির প্রতি জনসমর্থন আদায়ে জাতীয় সংলাপেরও আয়োজন করবে তারা।

মঙ্গলবার ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে ঐক্যফ্রন্টের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত নির্বাচন দাবি করছে ঐক্যফ্রন্ট।”

ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ড. কামালকে পাশে রেখে মির্জা ফখরুল বলেন, “এই দাবি আদায়ে জাতীয় সংলাপ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে দ্রুত মামলা করার ব্যবস্থা করা হবে।”

তিনি বলেন, “অচিরেই এফেক্টেড এলাকাগুলোতে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সফর শুরু করবেন।”

মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথমেই সিলেটের বালাগঞ্জ এলাকায় যাবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতৃবৃন্দ। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।

বৈঠকে অংশ নেওয়া গণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী বেনারকে বলেন, “আমাদের হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নামে একটি একক বেঞ্চ রয়েছে। এখানে আমাদের প্রার্থীরা আলাদা আলাদাভাবে তাঁদের নির্বাচনী আসনে কারচুপির প্রতিকার চেয়ে মামলা করবে।”

তিনি বলেন, “নির্বাচনী ফল প্রকাশের ৬০ দিনের মধ্যে এই ট্র্যাইবুনালে যেতে হয়। আমরা আমাদের প্রার্থীদের সময়ের মধ্যে মামলা করতে বলব।”

সুব্রত চৌধুরী বলেন, “নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মামলা শেষ করা জন্য ছয় মাসের একটি সময় দেয়া আছে, যদিও সময়টি বাড়ানো যায়। আমাদের অভিজ্ঞতা হলো এখানে মামলা শেষ হতে পাঁচ বছর পার হয়ে যায়।”

তাহলে কেন মামলা করার সিদ্ধান্ত নিল ঐক্যফ্রন্ট এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের আন্দোলনের অংশ হিসাবে এই মামলা করার সিদ্ধান্ত। আমরা রেকর্ডে রাখলাম যে আমরা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে আইনি প্রতিকারের জন্য আদালতে গিয়েছিলাম।”

তবে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বেনারকে বলেন, “আমি মনে করি না যে এই ট্র্যাইবুনাল অকার্যকর। আমি নিজে এমন মামলা করেছি। এমন উদাহরণ আছে যে ২০ দিনের মধ্যে আদালতের রায় পেয়েছি।”

তিনি বলেন, “এই ট্র্যাইবুনালের কার্যকারিতা নির্ভর করে আইনজীবীদের সিরিয়াসনেসের ওপর। আমাদের আইনজীবীরা মামলার সময় বাড়িয়ে অর্থ আদায়ের চিন্তা করেন। সেকারণেই এই ট্রাইবুনালে মামলা শেষ হতে সময় লেগে যায়।”

সুব্রত চৌধুরী বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় সংলাপের ব্যবস্থা করা হবে।

এর আগে কুমিল্লায় নির্বাচনী এজেন্ট হিসাবে কাজ করার সময় আহত বিএনপি নেতাদের দেখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমরা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছি, সংসদ গঠন প্রত্যাখ্যান করেছি এবং সরকার গঠন পুরোপুরিভাবে প্রত্যাখ্যান করেছি।”

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের ‘অধিকার নেই’।

মির্জা ফখরুল বলেন, “জনগণ এই নির্বাচনের ফলাফল কখনো মেনে নেয়নি। সেই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদ গঠন বা সরকার গঠন-এটা নিয়ে মন্তব্য করা তো হাস্যকর ছাড়া কিছু নয়।”

তিনি বলেন, “বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি। আমরা গণতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

জানুয়ারিতেই নতুন সংসদের অধিবেশন

সংসদের অধিবেশন আহ্বানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে মঙ্গলবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে বেনারকে জানিয়েছেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি বলেন, “আমরা কোনো তারিখ প্রস্তাব করিনি। তবে অধিবেশন জানুয়ারি মাসের মধ্যেই শুরু হবে।”

এদিকে শপথ নেওয়ার পরদিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামীকাল তাঁর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও জিয়ারত করার কথা রয়েছে।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন