Follow us

খালেদা জিয়া: কারাবন্দী প্রধান বিরোধী নেতা

শরীফ খিয়াম
ঢাকা
2018-12-03
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
মামলায় হাজিরা দেবার জন্য ঢাকার একটি আদালতে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
মামলায় হাজিরা দেবার জন্য ঢাকার একটি আদালতে উপস্থিত হন খালেদা জিয়া। ৪ জানুয়ারি ২০১৮।
[বেনারনিউজ]

বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আন্দোলনের অংশ হিসেবে বর্জন করেছিলেন গত সংসদ নির্বাচন, আর করাবন্দী অবস্থায় আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাইলেও তা সম্ভব হচ্ছে না আইনগত জটিলতায়।

খালেদা জিয়ার শৈশব কেটেছে উত্তরবঙ্গের জেলা শহর দিনাজপুরে। কৈশোরেই সেনা কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয়। সেনাপ্রধান স্বামী পরে হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি, সেই সুবাদে খালেদা ছিলেন দেশের অষ্টম রাষ্ট্রপতির স্ত্রী।

জিয়ার স্ত্রী ও তাঁর দু সন্তানের জননী এটাই ছিল তাঁর একমাত্র পরিচয়। অথচ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চোখে খালেদা জিয়া এখন বাংলাদেশের ডানপন্থী জাতীয়বাদী রাজনীতির মূল স্তম্ভ।

১৯৮১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে স্বামী নিহত হন। এর পরই অন্দরমহলের আটপৌরে জীবন থেকে হঠাৎ বেরিয়ে আসেন খালেদা। হাল ধরেন স্বামীর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি)। চেয়ারপারসন হয়ে বেছে নেন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের জীবন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন করে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে উৎখাত করেন ১৯৯০ সালে। নির্বাচনে জয়লাভের পর খালেদা আবির্ভূত হন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে।

এরপর কখনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, কখনো বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন খালেদা। এখন কারারুদ্ধ। এক সন্তান আরাফাত রহমান কোকো মারা গেছেন, অন্য সন্তান তারেক রহমান দণ্ডিত আসামি ও আইনের চোখে পলাতক। অবস্থান করছেন লন্ডনে।

সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় খালেদা ৩০ ডিসেম্বরের আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। তিনটি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও আদালতের সাম্প্রতিক এক আদেশের প্রেক্ষিতে গত ২ ডিসেম্বর তাঁর সবগুলো মনোনয়নপত্রই বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

গত ২৭ নভেম্বর হাই কোর্ট এক রায়ে বলে, কেউ দুর্নীতির দায়ে দুবছরের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হলে তিনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। দুইটি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার বর্তমান সাজার মেয়াদ ১৭ বছর।

বিগত সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি প্রথমবারের মতো তাঁকে ছাড়াই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। দলটি বলছে, আন্দোলনে সফল হলে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে পারবে বলে আশা করছে।

“একদিকে মামলা চলবে, অন্যদিকে তারা (ক্ষমতাসীন দল) নির্বাচন করবে,”

গত ১৪ নভেম্বর নাইকো মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আদালতে বলেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “যেখানে নির্বাচন নিয়ে সবাই ব্যস্ত, সেখানে মামলা দিয়ে আমাকে আটকে রাখা হয়েছে।”

রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ বেনারকে বলেন, “বিএনপির কাছে এই নির্বাচন হচ্ছে আন্দোলনের নির্বাচন, যে আন্দোলনের মাধ্যমে তারা তাদের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করে আনতে চাইছে।”

“এটা গণতন্ত্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে,” যোগ করেন ‘বেগম খালেদা জিয়া: হার লাইফ, হার স্টোরি’ নামক জীবনীগ্রন্থের এই রচয়িতা। চলতি মাসের মাঝামাঝি ঢাকার বাজারে এসেছে তাঁর বইটি। খালেদার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চরিত্রায়ণ ঘটেছে এতে।

রাজনীতিবিদ খালেদা জিয়া

১৯৮২ সালে ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে খালেদা জিয়া রাজনীতিতে পা রাখেন। তাঁর বয়স তখন ৩৬ বছর। মাত্র সাত মাস আগে সামরিক অভ্যুত্থানে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি।

“এর আগে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ন্যূনতম অংশগ্রহণ ছিল না তাঁর,” বেনারকে বলেন সাবেক কূটনীতিক এম আনোয়ার হাশিম।

খালেদার হাত ধরেই তাঁর স্বামীর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি নতুন করে সংগঠিত হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়ার মৃত্যুর কিছুদিন পর তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করেন।

স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে টানা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি পান খালেদা। প্রবীণ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ বেনারকে বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন তাঁকে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে।

“পরবর্তীতে বেগম জিয়ার চিন্তা-ভাবনাই বিএনপিকে একটি সংগঠিত প্রভাব সঞ্চারী গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে,” বলেন তিনি।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো খালেদার নেতৃত্বে নির্বাচিত হয় বিএনপি। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তারা জয় লাভ করে। যদিও আওয়ামী লীগসহ সব বিরোধী দল নির্বাচন বয়কট করা ওই সংসদ মাত্র ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। প্রবল গণ-আন্দোলন ও বহির্বিশ্বের চাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান রেখে সংবিধান সংশোধন করে পদত্যাগ করে সরকার।

পরবর্তীতে ২০০১ সালের অক্টোবরের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি ঐক্যজোট ও জাতীয় পার্টির সাথে চারদলীয় ঐক্যজোট গঠন করে বিপুল ভোটে জয়ী হয় বিএনপি। ফের সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া।

এর আগে ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল বিএনপি। নবম সংসদেও তারা ছিল প্রধান বিরোধী দল। অর্থাৎ বেগম জিয়া আওয়ামী লীগের শাসনকালে মোট ১০ বছর সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ছিলেন।

ভারত বিরোধিতা ও ধর্মের ব্যবহার

বিএনপি ‘বাঙালি’ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী নয়। ভাষা বা সংস্কৃতির ভিত্তির বদলে তারা ভূখণ্ডের ভিত্তিতে জাতীয়তা নির্ধারণের পক্ষে। বিএনপি ‘বাংলাদেশি’ জাতীয়তাবাদের কথা বলে আসছে।

১৯৭১ সালে অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে জন্ম নেওয়া দেশে ১৯৭৮ সালে বিএনপির জন্ম। তারাই প্রথম ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে জায়গা করে দেয়। দলটির রাজনীতির কেন্দ্রে আছে ভারত-বিরোধিতা ও ইসলাম।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি বিরোধিতা করেছিলেন যারা তাঁদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ আছে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে। জঙ্গিগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতার দায় থেকেও তিনি মুক্ত নন।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আতাউর রহমান বেনারকে বলেন, খালেদা জিয়া ভারতের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে পারেননি। দূরে সরে গেছে বিএনপির মিত্র হিসেবে পরিচিত অন্য দেশগুলোও।

“ভারত শুরু থেকেই জিয়া পরিবার ও বিএনপিকে অবিশ্বাস করে। গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সহিংসতার পথ বেছে নেওয়ায় সৌদি আরবসহ মুসলিম বিশ্বের মিত্র দেশগুলোর সাথেও বিএনপির দৃশ্যমান দূরত্ব বেড়েছে,” যোগ করেন তিনি।

খালেদা জিয়ার রাজনীতি কি বিপন্ন?

খালেদা জিয়া মোট ৩৬টি মামলার আসামি, দুটি মামলায় নিম্ন আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত।

চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ দুর্নীতি ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই দিনই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি পরিত্যক্ত ভবনে।

তা ছাড়া ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয় জজ আদালত। ঠিক পরদিনই জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় হাইকোর্ট।

খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আরও যে ৩৪টি মামলা রয়েছে, তার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে আছে তিনটি। এগুলো হচ্ছে নাইকো, গ্যাটকো ও বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলা। এগুলো ১/১১ (২০০৭) পরবর্তী সেনা-সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়ের করা।

অন্য ৩১টি মামলা ২০১৪ সালের পর বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রদ্রোহ, হত্যা, ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি, ভুয়া জন্মদিন পালন ও ঋণ খেলাপির অভিযোগে করা হয়। পুলিশ, সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও আইনজীবীরা এসব মামলা করেন।

এর মধ্যে ২৬টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। এ ছাড়া কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা রয়েছে।

ড. আতাউর রহমান বেনারকে বলেন, “সামগ্রিক আয়োজনে এটা স্পষ্ট যে, তিনি (খালেদা জিয়া) খুব সহজে ছাড়া পাবেন না।” সর্বশেষ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসন।

তাঁর দলও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের সাথে গণফোরাম, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ যুক্ত হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামের মঞ্চ গড়েছে তারা।

কারাবরণ সমৃদ্ধ করেছে!

শারীরিক নানা সংকটে ভোগা খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রাখা হয়। পরে আবারও ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে কারাগারে।

অসুস্থতার কারণে হাজিরা দিতে অক্ষম হওয়ায় তাঁর মামলার বিচার কাজ শেষ করতে কারাগারেই জজ আদালতের অস্থায়ী এজলাস বসানো হয়েছে। চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাও সেখানে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

তবে এই কারাবরণ খালেদা জিয়াকে সমৃদ্ধ করেছে বলে মনে করেন অনেকে।

বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট (সিএফএসডি) প্রেসিডেন্ট আনোয়ার কথা বলছিলেন বেনারের সঙ্গে।

“বাংলাদেশে বিরোধী দলে থাকলে সংগ্রাম করতে হবেই, এটা অনস্বীকার্য, তবে কারাবাসের কারণে খালেদা জিয়ার প্রতি জনগণের সহানুভূতি বাড়ছে, একই সঙ্গে সমর্থনও,” তিনি বলেন।

ড. এমাজউদ্দীনের অভিমতও একই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সাবেক উপাচার্য এই কারাবাসকে নেতিবাচক মনে করছেন না। বেনারকে তিনি বলেন, “কঠিন সময়ে তাঁর (খালেদা জিয়ার) গুণগুলো প্রবলভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তিনি বেশ ব্যতিক্রমী নেতা।”

পুতুল থেকে বেগম জিয়া

বেগম জিয়ার আসল নাম ছিল ‘খালেদা খানম পুতুল’। উত্তরবঙ্গের জেলা দিনাজপুরে তিনি ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন বলে সম্প্রতি প্রকাশিত জীবনীগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একাধিক নথিপত্রে তাঁর জন্মস্থান হিসেবে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির কথা উল্লেখ রয়েছে।

খালেদা জিয়ার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার। বাড়ি ফেনীর ফুলগাজী হলেও জলপাইগুড়িতে চায়ের ব্যবসা করতেন। পরে বিয়ে করে সেখানেই থিতু হন। তিন বোন এবং দুই ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয় খালেদা। লেখাপড়া করেছেন দিনাজপুরের মিশন স্কুল ও দিনাজপুর গার্লস স্কুলে।

১৯৬০ সালের আগস্টে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ে হয় খালেদার। স্বামীর সঙ্গে তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে ছিলেন। জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে যুক্ত হলে খালেদা প্রথমে আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর ২ জুলাই থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে দুই ছেলেসহ বন্দী ছিলেন।

খালেদার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ার একটি হাসপাতালে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।

এর আগে বেগম জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান সেনা সমর্থিত সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়েন।

২০১৬ সালের ২১ জুলাই বিদেশে অর্থপাচার মামলায় তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ কোটি টাকার অর্থদণ্ড দেয় উচ্চ আদালত। বিদেশে অবস্থান করায় বিএনপি নেতা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেননি।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় গত ১০ অক্টোবর তাঁকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৯ অক্টোবর খালেদা জিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, সে মামলাতে তারেক আগেই কারাদণ্ড পান।

নির্বাচনের ফলের ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যত

“যে মানুষটি রাজনীতিতে আসারও আগে থেকে আরামদায়ক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত ছিলেন; তাঁকে একটি জরাজীর্ণ পুরানো কারাগারে রাখার পরও তিনি সাহস হারাননি। বরং জেলের মধ্যেও যাদের সাথেই তাঁর দেখা হচ্ছে, তাদের আশান্বিত করছেন তিনি,” খালেদা প্রসঙ্গে বলেন ড. এমাজউদ্দিন।

অন্যদিকে আনোয়ার হাশিম বলেন, “এই আশাটুকু টিকে না থাকলে বিএনপির রাজনীতিই টিকে থাকবে না। যে কারণে অবশ্যই আশাবাদী হতে হবে। তবে একইসঙ্গে সতর্কও।”

আসন্ন নির্বাচনের ফলের ওপর ‘খালেদার ভবিষ্যত’ নির্ভর করছে বলেও মন্তব্য করেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন