Follow us

নির্বাচনে সব দলের আগ্রহ তরুণদের নিয়ে

প্রাপ্তি রহমান
ঢাকা
2018-12-28
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ঢাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় তরুণ সমর্থকদের একাংশ। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮।
ঢাকায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণায় তরুণ সমর্থকদের একাংশ। ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮।
[মেঘ মনির/বেনারনিউজ]

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের আড়াই কোটিরও বেশি তরুণ ভোটার নিয়ে ভাবছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দুই জোটই। তরুণদের আকৃষ্ট করতে প্রচারণার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছে উভয় জোট।

নির্বাচন কমিশনের হিসেবে এবারই প্রথম ভোটার হয়েছেন এমন তরুণের সংখ্যা ১ কোটি ২৩ লাখ। ২০১৪ সালের নির্বাচনে নতুন ভোটার ছিলেন এক কোটি ৩৭ লাখ।

গত নির্বাচনে অর্ধেকের বেশি আসনে প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কারণে প্রথম ভোটার হওয়া তরুণদের এক বড়ো অংশ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

গত নির্বাচন ও আসন্ন নির্বাচনের আগে ভোটার হওয়া ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়েসি এই তরুণদের মোট সংখ্যা দুই কোটি ষাট লাখ।

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তরুণদের কথা মাথায় রেখে প্রচার–প্রচারণা চালিয়েছে।

রাজনীতিতে তরুণদের আকৃষ্ট করতে এসব প্রচারণা অনেকটাই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।

দেশের প্রথম সারির দৈনিক প্রথম আলোর যুব কর্মসূচির সমন্বয়কারী মুনীর হাসান বেনারকে বলেন, “একটা সময় ফেসবুকে ঢুকলেই দেখা যেত তরুণেরা বলছেন, আই হেট পলিটিক্স। সেই অংশটা কমে এসেছে।”

তিনি বলেন, “তাদের একটা নির্বিকার ভাব ছিল, তাও আগের চেয়ে কম। তারা ফেসবুকে তথ্য পাচ্ছে, সক্রিয়তাও দেখাচ্ছে সেখানে। তবে তাদের সবাই ভোটের দিন কেন্দ্রে যাবে কি না নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।”

মুনীর দু’ধরনের তরুণদের কথা বলেছেন। অনেক তরুণ বলেছেন যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক তাঁরা কর্মসংস্থান, কম খরচে হাই স্পিড ইন্টারনেট, উদ্যোক্তা নিয়ম সহজীকরণ চান। এগুলো পেলে আর কিছু চান না। অনেকে রাজনীতি সচেতন। তাঁরা ক্ষমতাসীন সরকারের ওপর বিরক্ত। অনেকে বলেছেন সরকার যেসব বড় বড় প্রকল্প নিয়েছে সেগুলো তাদের হাতেই শেষ হওয়া দরকার।

অনেকেই মনে করেন তরুণরাই শেষ ভরসা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান বুধবার এক সভায় বলেন “দেশটা কীভাবে চলবে, তা তরুণদের ভাবতে হবে। কেউ জায়গা করে দেবে না, তরুণদেরই আওয়াজ তুলতে হবে। সংগঠিত হতে হবে।”

কতটা প্রভাব তরুণদের মনে?

“এখন তরুণরা অনেক বেশি শিক্ষিত ও বুদ্ধিদীপ্ত। তারা মনে করে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার। আমরা আশাবাদী তারা নির্বাচনের দিন দলে দলে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে,” আলাপকালে বেনারকে বলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস। যিনি নিজেও এবার প্রথমবারের মতো ভোট দেবেন।

ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীর বেনারকে জানান, তিনি নিজে শুধু প্রথমবারের ভোটার নন, তিনি এক প্রার্থীর পক্ষেও কাজ করছেন। তরুণদের মনে শঙ্কা আছে। শঙ্কা না কাটলে তাঁরা ভোট কেন্দ্রে যাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় আছে।

“পরিস্থিতি কিন্তু শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের কথা বলছে না। আমরা যখন প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে যাচ্ছি, তখন দুটো প্রশ্ন শুনতে হচ্ছে ‘আমার ভোট কি আমি দিতে পারব?’ আর ভোটের দিনে কি মারামারি হবে?”

“তরুণরা যদি পরিবর্তন চায় তাদের শঙ্কা ঝেড়ে ফেলে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে। সঙ্গে পরিবারের লোকজনকেও নিতে হবে,” বলেন উম্মে হাবিবা বেনজীর।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য স্নাতক পাস করা নাবিল রহমান উত্তরাঞ্চলীয় একটি জেলার ভোটার। কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত না থাকা এই তরুণের নির্বাচন নিয়ে তেমন কোনো চিন্তাভাবনা নেই।

“আমার এলাকা থেকে মহাজোটের প্রার্থী নতুন কিছু করে দেখানোর ক্ষমতা রাখেন না। আগেও তিনি এমপি ছিলেন। বিরোধী জোটেও নতুন কিছু নেই। আর আমি ভোট না দিলেই বা কী? ভোট কি আর পড়ে থাকবে?” নাবিল বলেন।

প্রচারণায় তরুণ ভোটার টানার চেষ্টা

এ দফায় আওয়ামী লীগের ইশতেহারের মূল থিম ‘তারুণ্যের শক্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’। তারা বলছে, ‘তরুণদের ভোট নৌকায় হোক’। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তরুণদের আকৃষ্ট করতে আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশকে তাদের নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে আনে এবং ব্যাপক জনসমর্থন পায়।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ খন্দকার বলছিলেন, সব ধরনের ভোটারদের ভোটই প্রয়োজন। তবে তরুণদের দিকে তাঁদের বিশেষ নজর ছিল। তাঁরা নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে উন্নয়ন কনসার্টের আয়োজন করেছেন। তারকা নির্ভর প্রচার ছিল বিশেষ কিছু।

তিনি জানান, ফেসবুকে আওয়ামী লীগ পেজ থেকে তরুণদের জন্য গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ যে যে উদ্যোগ নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে সরকার গঠন করলে কী কী উদ্যোগ নেবে তার প্রচার করেছে।

তরুণদের ক্ষোভ-বিক্ষোভকে কেন্দ্রে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ‘ব্যাপার না অনেক হলো, ভোটে তোমার আওয়াজ তোলো’ নামের একটি কবিতার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

কবিতায় সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে লাঠি পেটা, সুন্দরবনকে ধ্বংসের চেষ্টা, সেনানিবাসে ভিক্টোরিয়া কলেজের তনু হত্যার বিচার না হওয়া, ব্যাংক লুট হয়ে যাওয়াকে শাসক দল ‘ব্যাপার না’ বলে মনে করে – এ কথা জানিয়েছেন তরুণরা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভিডিও বার্তায় তরুণদের ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক ক্ষুদিরাম, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নিহত তরুণ, মুক্তিযুদ্ধের শহীদ, নব্বই এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ নূর হোসেন, গণজাগরণ মঞ্চের তরুণ, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী তরুণদের উপস্থাপন করে তারুণ্যকে কেন্দ্রমুখী করার চেষ্টাও আছে ঐক্যফ্রন্টের।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন