Follow us

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন বিএনপি

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2020-02-14
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
কারাবন্দি বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ২৯ অক্টোবর ২০১৮।
কারাবন্দি বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়াকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ২৯ অক্টোবর ২০১৮।
[বেনারনিউজ]

দফায় দফায় আবেদনে কাজ না হওয়ায় এবার কারাবন্দি বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শুক্রবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি সাংবাদিকেদের অবহিত করেন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নিজেই।

বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি বেনারের কাছে নিশ্চিত করেছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার।

ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানান, “মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাকে ফোন করেছিলেন। দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তি চাওয়া হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছেন, তাঁর মুক্তির বিষয়টি যেন আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানাই। আমি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছি।”

তিনি বলেন, “বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সরকার তাঁর প্রতি অমানবিক আচরণ করতে পারে না। তাঁর চিকিৎসার ব্যাপারটি সরকারের সুনজরে আছে।”

“একটা বিষয় হচ্ছে, তাঁর (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থার বিষয়টা তাঁর দলের লোকেরা যেভাবে বলেন, চিকিৎসকরা কিন্তু সেভাবে বলছেন না,” বলেন ওবায়দুল কাদের।

বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বেনারকে বলেন, “খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে একটি মেডিক্যাল বোর্ড আছে। তাঁরা প্রতি সপ্তাহে তাঁর স্বাস্থ্যের ওপর প্রতিবেদন তৈরি করেন। আমাদের কাছে যা তথ্য আছে তাতে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের কোনো অবণতি হয়নি। উনি ভালো আছেন বলা যায়।”

তিনি বলেন, “পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা ভালো নয়। আমরা তাঁদের অভিযোগ আমলে নিয়ে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করব। বলতে পারি তাঁর চিকিৎসার কোনো কমতি হচ্ছে না।

খালেদার মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন

বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের সাথে যোগাযোগ করার কথা বেনারের কাছে স্বীকার করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমিরউদ্দিন সরকার বেনারকে বলেন, “আমাদের মহাসচিব ফোন করেছিলেন।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চাইলে ম্যাডামকে মুক্ত করার ব্যবস্থা করতে পারেন। উনি অসুস্থ। উনাকে সুকিচিৎসা দিতে হবে।”

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আবারো আদালতে জামিন আবেদন করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “আশা রাখি ম্যাডাম মুক্তি পাবেন।”

“ম্যাডাম মুক্তি পেলে দলের নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা হবে,” বলেন জমিরউদ্দিন সরকার।

সন্ধ্যায় দলের স্থায়ী কমিটির এক সভা শেষে মির্জা ফখরুল গণমাধ্যমকে বলেন, “ম্যাডাম অসুস্থ। উনার সুচিকিৎসা দরকার। এসময়ে আমি আশা রাখব সরকার এটি নিয়ে অন্য কোনো রাজনীতি করবে না। সরকার তাঁর সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে দেশের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেবে।”

তিনি বলেন, “উনার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর মুক্তির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।”

খালেদার মুক্তির দাবিতে আগামীকাল শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।

দুর্নীতির দায়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারারুদ্ধ হওয়ার পর খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়ে দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংবাদিকদের মাধ্যমে আবেদন জানান বিএনপি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

দলের সাংসদরাও তাঁদের বক্তব্যে প্রতিনিয়ত খালেদা জিয়ার মুক্ত চেয়ে আসছেন।

তবে এই প্রথমবারের মতো খালেদা জিয়ার মুক্তি জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের কাছে অনুরোধ আসলো।

বুধবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে ‘মারাত্মকভাবে অসুস্থ’ খালেদা জিয়ার শারিরিক অবস্থা দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করেন বিএনপি সাংসদ গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।

মঙ্গলবার সর্বশেষ খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাত শেষে বোন সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের মাধ্যমে ‘মানবিক কারণে’ খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন জানান।

খালেদা জিয়া ‘মারাত্মকভাবে অসুস্থ’, তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়েছে এবং তিনি কথা বলতে পারছেন না বলে জানান সেলিমা ইসলাম।

তবে বিএনপি অথবা পরিবারের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার প্যারোলের জন্য স্বরাষ্ট্র অথবা আইন মন্ত্রণালয়ে কোনো আবেদন করা হয়নি বলে জানান ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক নয়। এটি আইনগত বিষয়। সুতরাং, বিষয়টি আদালতের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।”

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল ফারুক খান বেনারকে বলেন, “খালেদা জিয়া একজন দণ্ডিত ব্যক্তি। তাঁকে মুক্তি দেয়ার এখতিয়ার সরকারের নাই। তবে, তিনি যদি প্যারোলে মুক্তি চান তাহলে তাঁকে সরকারের কাছে আবদন করতে হবে। এবং সরকার শর্ত সাপেক্ষে তাঁকে মুক্তি দেয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে।”

তিনি বলেন, “অন্যথায় দোষ স্বীকার করে দণ্ড মাফ চেয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে হবে খালেদা জিয়াকে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বেনারকে বলেন, “খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাঁকে মুক্তি দিলে জনগণের মধ্যে সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে আমি মনে করি।”

তিনি বলেন, “অসুস্থ খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেই যে বিএনপি চাঙ্গা হবে, বা রাস্তার রাজনীতিতে পরিবর্তন আসবে, আমি তা মনে করি না। কারণ বিএনপি সেই অবস্থায় নেই।”

“আওয়ামী লীগ নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, খালেদা জিয়াকে অপরাধ, দুর্নীতি স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে দণ্ড মাফ চাইতে হবে। আমি মনে করি খালেদা জিয়া তাঁর দোষ স্বীকার করবেন না। কারণ দোষ স্বীকার করলে প্রমাণ হবে খালেদা জিয়া দুর্নীতি করেছেন। আর সেটি হবে বিএনপির নিজের পায়ে কুঠারঘাত করা। এতে তাদের আর রাজনীতি থাকে না,” বলেন অধ্যাপক তারেক।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন