Follow us

শিশু অপহরণের অভিযোগ: ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন রোহিঙ্গা যুবক নিহত

জেসমিন পাপড়ি ও আবদুর রহমান
ঢাকা ও কক্সবাজার
2019-06-07
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই রোহিঙ্গা শিশু। কক্সবাজার, এপ্রিল ৯, ২০১৯।
কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই রোহিঙ্গা শিশু। কক্সবাজার, এপ্রিল ৯, ২০১৯।
রয়টার্স

কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছে। তারা শিশু অপহরণকারী দলের সদস্য ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গেলে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ঘটনায় তাঁরা নিহত হয় বলে বেনারকে জানিয়েছেন টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস। তবে নিহতদের একজনের পরিবার দাবি করেছে, আটকের পর তাদের হত্যা করেছে পুলিশ।

নিহতরা হচ্ছে;  উখিয়া থাইংখালীর ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা শিবিরের সি-ব্লকের শামসুল আলম (৩৫), একই শিবিরের নুর আলম (২১) ও টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের হাবিব (২৫)।

পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় বন্দুকযু​দ্ধে নিহত হয়েছে ৬৮ জন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৪ মে থেকে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরু করে। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলমান এই অভিযানে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা সাড়ে তিন শতাধিক।

এ অভিযানে সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা ১০৯ জন। এর মধ্যে নারীসহ ২৪ রোহিঙ্গা বলে নিশ্চিত করেন ওসি প্রবীর কুমার।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, অপরাধীর অপরাধ যে মাত্রারই হোক না কেন, আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার হওয়া উচিত।

মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বেনারকে বলেন “যারা মাদকের সাথে যুক্ত বা শিশু পাচারকারী বা অপহরণকারী তাদেরকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মধ্য দিয়ে শাস্তি দিতে হবে। এ ধরনের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সমস্যা সমাধানে খুব একটা ভূমিকা রাখে না।”

তিনি বলেন, “বন্দুকযুদ্ধের মত ঘটনার মধ্য দিয়ে এক ধরনের ভয়ার্ত পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। যা সাধারণ মানুষের জন্য ভীতিকর।”

গত এক বছরে প্রায় চারশ বা তার কাছাকাছি সংখ্যক মানুষ বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন বলে জানান নূর খান।

নিহতরা শিশু অপহরণকারী

ওসি প্রদীপ কুমার দাস বেনারকে জানান, কয়েক দিন আগে লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের বাসিন্দা আবু সিদ্দিকের তিন বছরের শিশু সন্তান রমজান আলীকে অপহরণ করে নিয়ে যায় একদল দুর্বৃত্ত। পরে তারা মুক্তিপণ হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে।

পরে পুলিশের উখিয়ার কুতুপালং থেকে তৎপরতায় অপহৃত রোহিঙ্গা শিশু রমজানকে উদ্ধার করা হয়। একই সাথে তিন অপহরণকারীকে আটক করা হয়।

অপহৃত শিশুর বাবা আবু ছিদ্দিক বেনারকে বলেন, “টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবির থেকে আমার ছেলে শিশুকে অপহরণ করা হয়। পাঁচ দিন পর মুক্তিপণ নিতে আসা দুই অপহরণকারীকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের মাধ্যমে অপহৃত ছেলেকে উদ্ধার করা হয়।”

নিহত হাবিবের বাবা মো. আজিরানের সাথে কথা হয় বেনার প্রতিবেদকের। হাসপাতালের মর্গ থেকে ছেলের লাশ নিয়ে ফিরছিলেন তিনি।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আজিরান বলেন, “আমার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ শিশু অপহরণের সাথে সে জড়িত ছিল। কিন্তু সে মেরে ফেলার মতো অপরাধ করেনি। তাকে আটক করে মেরে ফেলা হয়েছে।”

তবে টেকনাফ থানার ওসির বর্ণনা অনুযায়ী, টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরে পাহাড়ি এলাকায় অস্ত্রধারী ও অপহরণকারীরা অবস্থান নিয়েছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযানে যায়।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়। আহত হয় পুলিশের তিন সদস্য; মো. সেকান্দর, মো. এরশাদুল ও সৈকত বড়ুয়া। তারা তিনজনই কনস্টেবল।

পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক টিটু চন্দ্র শীল তাদের কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। কক্সবাজারে নেওয়ার পথে তিনজনের মৃত্যু হয়।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক টিটু চন্দ্র শীল বেনারকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১টায় গুলিবিদ্ধ তিন রোহিঙ্গাকে নিয়ে আসে পুলিশ সদস্যরা। তাদের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন ছিল।

আহত তিন পুলিশ সদস্যকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান ওসি প্রদীপ কুমার দাস।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে ৮টি দেশীয় তৈরি অস্ত্র (এলজি) ও ৮ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

হাবিবের কাছে কোন অস্ত্র ছিল না বলে দাবি করে তার বাবা আজিরান বেনারকে বলেন, “অস্ত্র উদ্ধারের যে কাহিনি পুলিশ বলছে তা সত্য নয়। তাদের মেরে ফেলা হয়েছে।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন