Follow us

মোমেনার ৪২ বছরের জেল

বেনার নিউজ
ওয়াশিংটন ডিসি
2019-06-05
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
জঙ্গী আস্তানা সন্দেহে ঢাকার একটি ভবনে পুলিশি অভিযানের সময় উৎসুক জনতা। ঢাকা। জুলাই ২৬, ২০১৬ ।
জঙ্গী আস্তানা সন্দেহে ঢাকার একটি ভবনে পুলিশি অভিযানের সময় উৎসুক জনতা। ঢাকা। জুলাই ২৬, ২০১৬ ।
এপি

জঙ্গীবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে বাড়িওয়ালাকে ছুরিকাহত করার দায়ে বাংলাদেশি এক ছাত্রীকে ৪২ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার এক আদালত। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই শিক্ষার্থীর নাম মোমেনা সোমা । গত ৯ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্নে একজন ঘুমন্ত ব্যক্তিকে ছুরিকাহত করার দায়ে তিনি গ্রেপ্তার হোন।


বুধবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের সুপ্রিম কোর্টের বিচারক লেসলি টেইলর এই আদেশ দেন। ২৬ বছর বয়সী সোমা সাড়ে ৩১ বছর কারাবাসের আগে প্যারোলের আবেদনও করতে পারবেন না।

মোমেনা স্বীকার করেন যে, তিনি জঙ্গীবাদে অনুপ্রাণিত হয়ে তার বাড়িওয়ালা সিংগারাভ্যালুকে নামক এক ব্যক্তিকে ছুরি দিয়ে আক্রমণ করেন। ওই সময় ওই ব্যক্তি ঘুমিয়ে ছিলেন।  অস্ট্রেলিয়ায় পা দেয়ার ৮ দিনের মধ্যে  মোমেনা এই কান্ড ঘটান।

এ প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরে কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমস ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. হায়দার আলী খান বেনারকে বলেন মোমেনা সোমা ও তার ছোট বোন সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত ছিল।

তিনি বলেন, “সম্ভবত অস্ট্রেলিয়া সরকার মোমেনা সোমা সম্পর্কে আমাদের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছিল। যেহেতু আমরা সন্ত্রাসের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখেছি সেহেতু অস্ট্রেলিয়া সরকারের সাথে আমাদের কাউন্টার টেররিজম বিষয়ক সহযোগিতা রয়েছে। আমরা অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য সরকারের সাথে গোযেন্দা তথ্য বিনিময় করে থাকি।”

হায়দার আলী খান বলেন, “অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী সোমার সাজা হয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের বলার কিছু নেই।

তিনি বলেন, “সোমার ছোট বোনও সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত ছিল। তার বোন সম্পর্কে তথ্য নিতে তাদের বাড়ি গেলে ছোট বোন এক পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত করে।”

কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমস ইউনিটের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনারকে বলেন, “মোমেনা সোমা অস্ট্রেলিয়ায় ঘুমন্ত এক ব্যক্তিকে আক্রমণ করার পর সেদেশের সরকার মোমেনা সোমা সম্পর্কে আমাদের কাছে তথ্য চায়।”

তিনি বলেন, “আমরা মোমেনা সোমা ও কর্তব্যরত এক পুলিশ সদস্যকে আক্রমণকারী তার বোন আসমাহুল হুসনা সম্পর্কে সব তথ্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে সরবরাহ করেছি।”

ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে জানিয়েছি যে মোমেনা সোমা ও তার বোন সুমনা অনলাইনে ভিডিও দেখে জঙ্গিবাদের সাথে যুক্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমরা সুমনার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্ত করছি।”

বেসরকারি থিঙ্কট্যাঙ্ক বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বেনারকে বলেন, মোমেনা সোমার সন্ত্রাসী কার্যক্রম বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে কোন প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, “হ্যাঁ এটা সত্য যে অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম কোন নারী সন্ত্রাসের দায়ে ৪২ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলো এবং তিনি একজন বাংলাদেশি ছাত্রী। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের এক ছাত্রীর সন্ত্রাসী আক্রমণ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা।”

হুমায়ূন কবির আরও বলেন, অস্ট্রেলিয়া সরকারও সোমার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে করে। কারণ সোমার আক্রমণের পর অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা দেয়া বন্ধ করেনি। সেখানে শত শত বাংলাদেশি ছাত্র-ছাত্রী লেখাপড়া করছে।”

তিনি বলেন, ”দুদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চমৎকার। সন্ত্রাস দমনের ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশর সহযোগিতা রয়েছে। সন্ত্রাস দমনের জন্য দুদেশ গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে থাকে।”
বিছানায় ছুরি মেরে অনুশীলন

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর পর অন্য একটি অস্ট্রেলিয়ান পরিবারের কাছে সোমা আশ্রয় নেয় এবং সেই পরিবারকে আক্রমণ করার পরিকল্পনা করে।

এজন্য সোমা নাইট ভিশন গগলস কেনে এবং বিছানায় ছুরি মেরে মেরে আক্রমণের জন্য অনুশীলন করে। সেই পরিবার পরবর্তীতে এটা দেখেন এবং ফরেন স্টুডেন্ট প্রোগ্রামের আয়োজকদের বলেন তাকে বাড়ি থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিকে।

এরপর সিংগারাভ্যালুর বাড়িতে আশ্রয় পান সোমা। আশ্রয় নেয়ার ৩ দিনের মাথায় তাকে আক্রমণ করেন।

সিংগারভ্যালু একজন মালয়েশিয়ান ইমিগ্রান্ট। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তিনি যে বেঁচে আছেন, এতে তিনি বিস্মিত। সোমা ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ' আমরা মালয়েশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছি উন্নত জীবন বিশেষ করে নিরাপত্তার জন্য।

সিংগারাভ্যালুর স্ত্রী মাহা সোলোমোন এবিসি নিউজকে (অস্ট্রেলিয়া) বলেন, তাদের পরিবার সব সময় বিদেশী শিক্ষার্থীদের সমর্থন ও সহযোগিতা দেন। তিনি আরও বলেন, '' আর এভাবেই আমরা অস্ট্রেলিয়ার প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা দেখাই যে আমরা এখানে থাকতে এসেছি। তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম এসব শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আশ্রয় দরকার।''

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন ঢাকা থেকে কামরান রেজা চৌধুরী।
পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন