Follow us

আড়াই বছর পর বিএনপির সমাবেশ

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2018-07-20
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
বিএনপির জনসমাবেশের একটি দৃশ্য। ঢাকা, জুলাই ২০, ২০১৮।
বিএনপির জনসমাবেশের একটি দৃশ্য। ঢাকা, জুলাই ২০, ২০১৮।
ছবি : বেনার নিউজ

দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর পর প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে সমাবেশ করতে দিয়েছে সরকার। পুলিশের দেওয়া ২৩ শর্ত মেনে শুক্রবার কারারুদ্ধ দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা–সমাবেশ করেছে দলটি।

সর্বশেষ ২০১৬ সালের প্রথম দিকে একটি সমাবেশের অনুমতি দিয়েছিল সরকার। এরপর থেকে বিএনপি সমাবেশ করার অনুমতি চেয়েই আসছে, আর সরকার নানা অজুহাতে অনুমতি দিচ্ছে না।

শুক্রবারের সমাবেশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ২০টির বেশি আসন পাবে না। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন করতে হলে এক নম্বর শর্ত হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। নির্বাচনের আগে বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।”

ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য সমস্ত দল ও সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বর্তমান সরকারের দুঃশাসন যেভাবে বুকে চেপে আছে, তা থেকে মুক্তির জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।”

২০১৪ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে আবার ফিরিয়ে আনার দাবিতে অনড় থেকে দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি। মোট ৩০০ আসনের মধ্যে তখন ১৫৪ টি আসনে ভোটই হয়নি। প্রধান বিরোধী দল ছাড়া ওই নির্বাচনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

ঢাকা মহানগর পুলিশ সমাবেশ করার জন্য বিএনপিকে ২৩টি শর্ত বেধে দেয়। সমাবেশ বিকাল পাঁচটার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়। সমাবেশে লাঠি, চাকু, সব ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরক ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হয়। এছাড়া, রাস্তার মাঝখানে নেতাকর্মীদের অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়। কোনও প্রকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে জানানো হয় দলটিকে।

পুলিশের সব শর্ত মেনে দলীয় কার্যালয় নয়াপল্টনের সামনে সমাবেশ করে বিএনপি। অস্থায়ী মঞ্চ করা হয় একটি ট্রাকের ওপর। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

জুমার নামাজের পর থেকেই বিএনপি নেতা–কর্মীরা দলীয় কার্যালয় ও আশেপাশে অবস্থান নিতে থাকেন। সমাবেশ শুরু হয় বিকেল পৌনে তিনটার দিকে। নেতা–কর্মীদের ভিড়ে কাকরাইল, পল্টন ও আশেপাশের এলাকায় সৃষ্টি হয় যানজট।

‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পলিটিক্যাল সায়েন্স বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান বেনারকে বলেন, “বিএনপিকে জনসভা করতে দেওয়া বা না দেওয়া সরকারের ইঁদুর-বিড়াল খেলার মতো বিষয়। আড়াই বছর পর পুলিশ তাদের জনসভা করতে দিল। এটা সরকারের ইঙ্গিত ছাড়া হয়নি।”

তিনি বলেন, “এর দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথম কথা হলো; নির্বাচনের আগে তাদের সমাবেশ করতে না দিয়ে পারবে না। দ্বিতীয়ত; সরকার সম্ভবত বিএনপিকে নির্বাচনে আনার একটি ব্যবস্থা করছে। তাদের নির্বাচনে আনতে পারলে সরকারের ‘লেজিটিমেসি ক্রাইসিস’ থাকবে না।”

ড. আতাউর বলেন, ২০১৪ সালে তাদের ‘লেজিটিমেসি ক্রাইসিস’ থাকার পরও পারফরম্যান্স দিয়ে পার পেয়ে গেছে। তবে এবার যদি বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে, তবে আওয়ামী লীগ বড় ধরনের সংকট ও সমালোচনায় পড়বে।

“বিশ্বের বড় দেশগুলো চায় একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক,” বলেন ড. আতাউর।

আওয়ামী লীগ যদি জামায়াতের সাথে বিএনপির জোট ভাঙ্গতে পারে সেক্ষেত্রে তারা নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে থাকবে বলে মত দেন ওই অধ্যাপক।

‘খালেদা জিয়া ভালো আছেন’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডাদেশ দিয়ে রায় দেন ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ বিচারিক আদালত।

সাজা ঘোষণার পর পরই তাঁকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী রাখা হয়। সেখানেই আছেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাঁর আত্মীয়–স্বজনেরা দেখা করার অনুমতি পাননি। গত সপ্তাহে তাঁর কয়েকজন স্বজন অনুমতি নিয়ে ​কারাগারে গেলেও দেখা হয়নি। কারাগারের পক্ষ থেকে বলা হয়, খালেদা জিয়া দেখা করতে আগ্রহ দেখাননি। অন্যদিকে স্বজনেরা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি এতোটাই অসুস্থ যে স্বজনদের কাছে আসতে পারেননি। স্বজনেরা খালেদা জিয়ার কাছে যেতে চাইলেও সেই অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বেনারকে বলেছেন, কারাগারে খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন।

“দেখুন, কত কথাই তো আমরা গত কয়েক মাসে শুনলাম। উনি (খালেদা জিয়া) ভীষণ অসুস্থ, চলতে পারছেন না। ইউনাইটেড হাসপাতালে না নিলে ওনাকে বাঁচানো যাবে না। তাঁকে বিদেশে পাঠাতে হবে। ওনার কিছু হলে তার দায়িত্ব সরকারের। ইত্যাদি, ইত্যাদি। কিন্ত তিনি তো সুস্থ আছেন।”

মন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়ার ব্লাড প্রেসার, ব্লাড সুগার স্বাভাবিক আছে। জেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। আসলে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে।”

প্রধানমন্ত্রীকে গণসংবর্ধনা দেবে আওয়ামীলীগ

আওয়ামী লীগ বলছে, গত পাঁচ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা দিয়েছেন। পদ্মা সেতু, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎ​ক্ষেপন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনসহ দেশে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশে–বিদেশে তাঁর বিভিন্ন অর্জনের জন্য শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দেবে আওয়ামী লীগ।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিতব্য ওই সভার প্রস্ততি দেখতে গিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের এক সময় ভাটা ছিল। এখন বিএনপির ভাটা চলছে। আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ আবার সরকার গঠন করবে। তিনি বলেন, বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসবে কি না, সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়। তাদের জয় নিশ্চিত করে ভোটে আনার প্রয়োজন সরকার দেখছে না।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন