জনশুমারি প্রতিবেদন: বাংলাদেশে এই প্রথম পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেড়েছে

কামরান রেজা চৌধুরী
2022.07.27
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
জনশুমারি প্রতিবেদন: বাংলাদেশে এই প্রথম পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর চাঁদনীচক মার্কেটের সামনে থেকে শুরু করে নীলক্ষেত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভীড়। ৮ জুলাই ২০২২।
[সাবরিনা ইয়াসমীন/বেনারনিউজ]

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি হয়েছে। বর্তমানে প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে ৯৮ জন পুরুষ রয়েছে বলে বুধবার প্রকাশিত ২০২২ সালের জনশুমারি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

শুমারির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৫১ লাখ ৫৮ হাজার ৬১৬, যাদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা আট কোটি ১৭ লাখ ১২ হাজার ৮২৪ এবং নারীর সংখ্যা আট কোটি ৩৩ লাখ ৪৭ হাজার ২০৬ জন।

এদিকে শতকরা হারে জনসংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমেছে। ২০২২ সালে জনসংখ্যার গড় বার্ষিক হার ইতিহাসে সর্বনিম্ন এক দশমিক ২২ ভাগে পৌঁছেছে।

দেশে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা কমেছে।

বুধবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত জনশুমারির প্রাথমিক ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

১৯৭৪ সালে প্রথম জনশুমারি থেকে শুরু করে প্রতিটিতেই বাংলাদেশে নারীদের চেয়ে পুরুষের সংখ্যা বেশি ছিল। প্রথম আদমশুমারিতে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাত কোটি ১৪ লাখ ৭৯ হাজার ৭১, যা গত ৫০ বছরে দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

লিঙ্গ অনুপাতে ১৯৭৪ সালের শুমারি অনুযায়ী, ১০০ জন নারীর বিপরীতে ১০৮ জন পুরুষ ছিল। ১৯৮১ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে পরিচালিত তিনটি শুমারিতে ১০০ নারীর বিপরীতে ১০৬ জন পুরুষ ছিল। সেই সংখ্যা কমে বর্তমানে ১০০ জন নারীর বিপরীতে ৯৮ জন পুরুষ।

১৯৭৪ সালের শুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ৪৮৪ জন। ২০২২ সালে বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে এক হাজার ১১৯ জন মানুষ বাস করে।

ঢাকা বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বোচ্চ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে দুই হাজার ১৫৬ জন মানুষ বাস করে এবং বরিশালে জনসংখ্যার ঘনত্ব সর্বনিম্ন, প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৬৮৮ জন।

শহরাঞ্চলে বর্তমানে ৬৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং পল্লী এলাকায় শতকরা ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ মানুষ বসবাস করে।

এই শুমারি অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার ৯১ দশমিক ০৪ ভাগ মুসলমান, যা ২০১১ সালে ৯০ দশমিক ৩৯ ভাগ ছিল। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের শতকার হার ২০১১ সালে ছিল শতকরা আট দশমিক ৫৪ ভাগ যা ২০২২ সালের শুমারি অনুযায়ী শতকরা সাত দশমিক ৯৫ ভাগ।

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের শতকরা হার ২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী ছিল, শতকরা শূণ্য দশমিক ৬২ ভাগ যা বর্তমানে কমে এসে দাঁড়িয়েছে শূণ্য দশমিক ৬১ ভাগে। একইভাবে খ্রীস্টান ধর্মাবলম্বী মানুষের শতকরা হার শূণ্য দশমিক ৩১ ভাগ (২০১১) থেকে কমে শূণ্য দশমিক ৩০ হয়েছে।

শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সের মানুষ মোট জনসংখ্যার শতকরা ৬৫ দশমিক ৫১ শতাংশ। এবং ৬৫ বছরের উর্ধে জনসংখ্যা শতকরা পাঁচ দশমিক ৮৮ ভাগ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপু্লেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম।

তিনি বেনারকে বলেন, “আজকে জনশুমারির ওপর ভিত্তি করে জনসংখ্যার যে প্রাথমিক তথ্য দেয়া হয়েছে সেটি মোটামুটি ঠিক আছে। কিন্তু আমার মনে হয় সব তথ্য সমন্বয়ের পর সংখ্যা কিছুটা কম বেশি হবে।”

শুমারিতে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাব্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে পুরুষের চেয়ে নারীদের গড় আয়ু বেশি। এছাড়াও, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ বিদেশে কাজ করেন। শুমারিতে এই বিষয়টি হয়তো বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম বলেন, “এই শুমারিতে দেখা যাচ্ছে আমাদের কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা শতকরা ৬৫ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশে এই ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড ২০৩৭ সাল পর্যন্ত ভোগ করবে। এরপর থেকে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমতে থাকবে।”

তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য একটি বিরাট সুযোগ। এই ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের ভালো শিক্ষা, ভালো স্বাস্থ্যসেবা, ভালো প্রশিক্ষণ দিতে হবে। এর পাশাপাশি সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় আমরা এটিকে কাজে লাগাতে পারব না।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।