Follow us

চীন থেকে ছয়টি জাহাজ কিনবে বাংলাদেশ

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2019-03-22
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মোট আটটি জাহাজের পাঁচটিই চীন থেকে সংগ্রহ করা। আরও ছয় জাহাজ ক্রয় করা হলে প্রতিষ্ঠানটিতে চীন থেকে আনা জাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১১–তে।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মোট আটটি জাহাজের পাঁচটিই চীন থেকে সংগ্রহ করা। আরও ছয় জাহাজ ক্রয় করা হলে প্রতিষ্ঠানটিতে চীন থেকে আনা জাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ১১–তে।
'বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজের ছবিটি শিপিং কর্পোরেশনের ফেসবুক থেকে নেয়া।

চীনের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধির অংশ হিসাবে সে দেশ থেকে আরও ছয়টি নতুন বাণিজ্যিক জাহাজ কিনবে রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সহযোগিতা বাড়াতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরদিন চীন থেকে ছয়টি নতুন বাণিজ্যিক জাহাজ কেনার এই ঘোষণা এসেছে।

শুক্রবার চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের সহ-সভাপতি ক্যাঙ্গ হুবাইও এর সাথে সাক্ষাতের পর বেইজিং সফররত বাংলাদেশের নৌ পরবিহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এই ঘোষণা দিয়েছেনে। বেনারকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেনে নৌ-মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান।

তিনি জানান, নতুন ওই ছয় জাহাজ ক্রয়ে খরচ হবে প্রায় ২ হাজার ১শ কোটি টাকা।

ছয়টি জাহাজের তিনটি পণ্য পরিবহনকারী ও তিনটি তেল বহনকারী ট্যাঙ্কার। চীন সরকার বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনকে এই অর্থ ঋণ দেবে।

জাহাঙ্গীর আলম জানান, এর আগে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন থেকে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য ছয়টি জাহাজ সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

প্রথম ছয়টি জাহাজের মধ্যে পাঁচটি জাহাজ ইতোমধ্যে সরবরাহ করেছে চীন। জাহাজগুলো হলো; এম.ভি বাংলার জয়যাত্রা, এম. ভি বাংলার সমৃদ্ধি, এম. ভি বাংলার অর্জন, এম.ভি বাংলার অগ্রযাত্রা এবং এম.ভি বাংলার অগ্রদূত।

নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী প্রথম ছয়টি জাহাজের শেষ জাহাজ ‘এম টি বাংলার অগ্রগতি’ উদ্বোধন করতে বৃহস্পতিবার চীন সফরে যান। তিনি ২৪ মার্চ দেশে ফিরবেন।

এখন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের মোট আটটি জাহাজের পাঁচটিই চীন থেকে সংগ্রহ করা। আরও ছয় জাহাজ ক্রয় করা হলে প্রতিষ্ঠানটিতে চীন থেকে আনা জাহাজ সংখ্যা দাঁড়াবে ১১–তে।

সাবেক নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান বেনারকে বলেন, “২০০৯ সালে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের বহরে জাহাজ ছিল মাত্র তিনটি। শিপিং কর্পোরেশনের যদি জাহাজ না থাকে তাহলে তারা ব্যবসা করবে কীভাবে? আবার কর্পোরেশনের কোনো অর্থ ছিল না। সে কারণে আমি মন্ত্রী হিসাবে চীনের সাথে আলোচনা করে শতকরা মাত্র ১ দশমিক ৭৫ ভাগ সুদে ছয়টি জাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেই।”

২০১৬ সালে ওই ছয়টি জাহাজ কেনার ব্যাপারে চীন সরকারের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়। ২০১৮ সালের মধ্যে পাঁচটি জাহাজ চীন সরকার সরবরাহ করে বলে জানান সাবেক মন্ত্রী, যিনি ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নৌ-মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বলেন, প্রায় ৩২ বছর পর ২০১৬ সালে শিপিং কর্পোরেশনের জন্য নতুন জাহাজ কেনে সরকার।

শাজাহান খান আরো বলেন, ওই ছয়টি জাহাজ কেনার জন্য চীন সরকার এক হাজার কোটি টাকা ধার দেয়। বাকি ৫৩৭ কোটি টাকা যোগান দেয়া হয় সরকারের তহবিল থেকে।

তিনি বলেন, “প্রায় দেউলিয়া হতে বসা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জন্য অন্য দেশ অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থের সংস্থান করা ছিল খুব কঠিন কাজ। চীনারা আমাদের ধার দিতে রাজি হয়। সে কারণে চীনের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে।”

শাজাহান খান বলেন, “চীনা জাহাজ বহরে যুক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন লাভ করছে।”

অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বেনারকে বলেন, “চীনের হাতে এখন প্রচুর অর্থ। স্বল্প সুদে ধার দিয়ে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংক অথবা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান যে খাতে বা প্রতিষ্ঠানে অর্থ দিতে আগ্রহ দেখায় না, সেখানে চীনারা অর্থ দিচ্ছে। এটি তাদের কৌশল।”

তিনি বলেন, “তবে আমাদের দেখতে হবে পৃথিবীর অনেক দেশ চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ধারের দুষ্টচক্রে পড়েছে। আমাদের সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।”

ড. হোসেন জিল্লুর বলেন, "চীন বাংলাদেশে অবকাঠামো থেকে শুরু করে সড়ক পরিবহন, রেল, শিপিংসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ দিচ্ছে। আমরা যদি সেই অর্থ দক্ষতার সাথে, পরিকল্পিতভাবে ও অগ্রাধিকার বিবেচনা করে ব্যয় করতে পারি তাহলে সেই ঋণ আমাদের কাজে লাগতে পারে। অন্যথায় আমাদের সুদের বোঝা টানতে হবে।”

চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনের সহ-সভাপতি ক্যাঙ্গ হুবাইও এর সাথে নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সাক্ষাতের ব্যাপারে জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, “বৈঠকে ঢাকার চারপাশের সার্কুলার নৌপথ, সার্কুলার সড়ক, মেরিন একাডেমিতে বিশ্বমানের নাবিক গড়ে তুলতে চীনের সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে আলোচনা হয়।”

তিনি বলেন, এসময় বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর ইয়াহইয়া সৈয়দ এবং চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিম উপস্থিত ছিলেন।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন