Follow us

করোনাভাইরাস আক্রান্ত আরও তিনজন শনাক্ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2020-03-16
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সতর্কতায় মুখোশ পরে স্কুলে যাচ্ছে ঢাকার শিক্ষার্থীরা। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে সোমবার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ১৬ মার্চ ২০২০।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সতর্কতায় মুখোশ পরে স্কুলে যাচ্ছে ঢাকার শিক্ষার্থীরা। ভাইরাসটির সংক্রমণ রোধে সোমবার দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। ১৬ মার্চ ২০২০।
[বেনারনিউজ]

বাংলাদেশে নতুন করে আরও তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের একজন নারী ও দুজন শিশু। তিনজনই এর আগে আক্রান্ত এক প্রবাসীর পরিবার সদস্য।

এই নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮ জনে। এদের মধ্যে প্রথম দফায় আক্রান্ত তিনজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর পাঁচজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সোমবার এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধের অংশ হিসেবে ৩১শে মার্চ পর্যন্ত দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত জানান শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেন, “দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা অত্যন্ত কম হলেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকার দেশের সকল পর্যায়ে, সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সব কোচিং সেন্টারও এ সময় বন্ধ থাকবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।

করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও ১৮ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কার্যক্রম চলার পাশাপাশি আবাসিক হলগুলো খোলা থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মিরপুরের বাসিন্দা রুহুল কুদ্দুস বেনারকে বলেন, “দেশে কয়েকজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে জানার পর থেকে সন্তানকে স্কুলে পাঠানো নিয়ে দারুণ দ্বিধায় ছিলাম। সরকারকে ধন্যবাদ স্কুল-কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য।”

“এই সময়টাতে বাচ্চাদের বাসায় থাকা নিশ্চিত করতে হবে সকল অভিভাবকের,” বেনারকে বলেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদুর রহমান খান।

উল্লেখ্য, গত ৮ মার্চ প্রথম বাংলাদেশে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানায় আইইডিসিআর। যাদের মধ্যে দুজন ইতালি ফেরত প্রবাসী। এদের একজনের পরিবারের সদস্য তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে আক্রান্ত হন।

এরপর গত শনিবার ইতালি ও জার্মানি ফেরত দুই প্রবাসীর আক্রান্ত হওয়ার খবর জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তাঁদেরই একজনের মাধ্যমে নতুন তিনজন আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যায়।

তবে নতুন তিনজন ‘মৃদু’ সংক্রমণের শিকার বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নতুন যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে দুজন শিশুর বয়স দশ বছরের নিচে, অন্যজন নারী। দুই শিশুর জ্বর-সর্দি ছিল, তাঁদের সবার সংক্রমণই ‘মৃদু’।”

ফ্লোরা জানান, আইইডিসিআর এ পর্যন্ত ২৪১ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছে। তবে আটজন ছাড়া আর কারো শরীরে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি। এছাড়া বর্তমানে ১০ জন আইসোলেশনে রয়েছেন।

প্রসঙ্গত, শুরু থেকেই করোনা আক্রান্ত কোনো রোগীর পরিচয় প্রকাশ করছে না সরকার।

গত ডিসেম্বরের শেষে চীন থেকে নতুন করোনাভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়। সারা বিশ্বের প্রায় ১ লাখ ৬৪ হাজার মানুষ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৪৭০ জন মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

বিদেশ ফেরতদের বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের সঙ্গনিরোধে

বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের মাধ্যমে দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছে সরকার। দেশে নতুন তিনজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় বিদেশে থেকে আসা সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন সঙ্গনিরোধে (কোয়ারেন্টিনে) রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এর ব্যতিক্রম হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

বিদেশ থেকে ফিরে বর্তমানে যারা হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তাঁদের বাড়ির বাইরে যেতে হলে স্থানীয় উপজেলা বা জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি নিতে হবে বলে জানান অধ্যাপক ফ্লোরা।

এদিকে বিদেশ ফেরতদের ১৪ দিন নিজের বাড়িতে সঙ্গনিরোধে (হোম কোয়ারেন্টিন) থাকতে বললেও তাঁরা নিয়ম মেনে চলছেন না বলে বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

“বিদেশ ফেরতদের অধিকাংশই নিয়ম কানুন মেনে চলছেন না,” মন্তব্য করে ডা. জাহিদুর রহমান খান বলেন, “ফেরত আসা প্রবাসীদের মাধ্যমেই ইতিমধ্যে কয়েকজন আক্রান্ত হয়েছেন। এ কারণে আমরা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোয়ারেন্টিন করার কথা বলছি।”

জাহিদুর রহমানের মতে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে “হোম কোয়ারেন্টিন কাজ হবে না। আইন প্রয়োগ করতে হবে।”

তিনি বলেন, “দেশে বহু স্থাপনা আছে সরকার চাইলেই সেখানে বিদেশ ফেরতদের রাখতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভবন হতে হবে এমন কোনো কথা নেই।”

“ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে ফ্লাইট আসা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে হয়তো কয়েক হাজার মানুষ হবে। তাঁদেরকে ১৪ দিন রাখা কঠিন কিছু নয়,” বলেন ডা. জাহিদ।

বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব

দক্ষিণ এশিয়ায় করোনাভাইরাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সার্ক দেশগুলোর বিশেষায়িত ওই তহবিলে শুরুতে ১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৮৫ কোটি টাকা) দেবে ভারত।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য সমন্বিত কর্মকৌশল ঠিক করতে গত রোববার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ অঞ্চলের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে অংশ নেন। এ সময় তিনি ওই প্রস্তাব দিয়েছেন।

গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “এ ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলার জন্য একটি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা যেতে পারে। সদস্যদেশগুলো রাজি হলে বাংলাদেশ এ সংস্থা গঠনে তৈরি আছে।”

প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর সার্কের নেতারা অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আলোচনায় অংশ নিলেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের উরির কাছে জঙ্গি হামলাকে ঘিরে পাকিস্তান-ভারত বিরোধের কারণে ২০১৬ সালের নভেম্বরে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়।

২০১৪ সালের নভেম্বরে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে শেষবারের মতো সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হয়েছিল।

রোববার সার্কের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ওই ভিডিও কনফারেন্সে অন্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোটে শেরিং, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে, আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এবং পাকিস্তানের পক্ষে দেশটির স্বাস্থ্য উপদেষ্টা জাফর মির্জা।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন