করোনাভাইরাস: এডিবির কাছে ৬০ কোটি ডলার জরুরি সহায়তা চায় বাংলাদেশ

কামরান রেজা চৌধুরী
2020.04.21
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
020421_BD_COVID_ADB_1000.jpg করোনাভাইরাস রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলাকালে ঢাকায় ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর ভ্রাম্যমাণ ট্রাক থেকে স্বল্পমূল্যে পণ্য কেনার জন্য ক্রেতাদের লাইন। ২১ এপ্রিল ২০২০।
[বেনারনিউজ]

করোনাভাইরাস সংক্রমণের ফলে দেশের অর্থনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) কাছে ৬০ কোটি ডলার অর্থ সাহায্য চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

সোমবার রাতে অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম. মুস্তফা কামাল এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাওয়াকাকে ফোন করে জরুরি এই অর্থ সহায়তা চান। এডিবির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

দেশের জরুরি খরচ মেটাতে এই অর্থ প্রদান করার আশ্বাস দিয়েছে এডিবি।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বেনারকে বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ও লাখ লাখ মানুষকে খাওয়ানোর জন্য সরকারের অর্থ দরকার। সে কারণেই এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ সাহায্য চেয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি এটি একটি ভালো সিদ্ধান্ত।

এদিকে মঙ্গলবার নতুন করে বাংলাদেশে আরও ৪৩৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যুবরণ করেছেন নয়জন। সব মিলিয়ে দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ৩৮২, সর্বমোট মৃত্যু ১১০।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীন থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানো শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা বিশ্বে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি মানুষ, মারা গেছেন পৌনে দুই লাখের বেশি।

এদিকে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় চলমান জরুরি সাধারণ ছুটির মেয়াদ ২৫ এপ্রিল থেকে আরো এক সপ্তা বাড়িয়ে ১ মে পর্যন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে বলে বেনারকে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

তিনি জানান, সিদ্ধান্তের জন্য সুপারিশটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

মসজিদ খুলে দেয়ার দাবি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে গত ৬ এপ্রিল সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমদ শফি এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে রোজার সময় তারাবির নামাজ পড়তে মসজিদ খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বৃহস্পতিবার এক ভিডিও কনফারেন্সে পরিস্থিতি বিবেচনায় রমজানে তারাবির নামাজ ঘরে বসে পড়ার আহ্বান জানান।

সোমবার ময়মনসিংহ বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এবার ঈদের জামাতও তো আমরা করতে পারব না।”

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের পর সোমবার হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমেদ শফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় দেশের বিভিন্ন সমমনা ইসলামী দলগুলোর নেতারা অংশ নেন।

রোজার মাসে ১৩ বছরের উর্ধ্বে ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সের ‘সুস্থ’ ব্যক্তিদের জন্য মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও তারাবি আদায়ের দাবি তোলা হয় ওই সভা থেকে।

সভার প্রস্তাবে নামাজের আগে পুরো মসজিদকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করার কথা বলা হয়েছে। বাসা থেকে অজু করে হাত-পা ভালোভাবে মুছে মসজিদে প্রবেশ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, জুমার বয়ান, খুতবা, জামাত ও দোয়া সংক্ষিপ্ত হবে উল্লেখ করে এতে বলা হয়, মুসল্লিদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে এবং নামাজের সময় দুজনের মাঝখানে কমপক্ষে দুই ফুট ফাঁকা জায়গা রাখতে হবে।

এদিকে মসজিদ খুলে দেয়ার দাবিতে আলেমদের বিবৃতিটি দেখেছেন জানিয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ মঙ্গলবার বেনারকে বলেন, “এই দাবিগুলোর ব্যাপারে সরকারের সর্বোচ্চ মহলে হয়তো আলোচনা চলছে। তবে আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে কথা বলেছেন। তাঁর কথাই চূড়ান্ত। মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শুধু মসজিদ নয়, সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জনসমাগম সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।”

বর্তমানে বাংলাদেশে কমপক্ষে আড়াই লাখ মসজিদ রয়েছে জানিয়ে আনিস মাহমুদ বলেন, রোজার সময় মসজিদের নিয়মিত ইমাম ছাড়াও তারাবির নামাজ পড়ানোর জন্য এক বা একাধিক নতুন ইমাম নিয়োগ করা হয়ে থাকে।

লে–অফ করলে সহায়তা মিলবে না

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে লে-অফ ঘোষণা করা রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা সরকারের ঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে কোনো সহায়তা পাবে না।

গত রোববার বাংলাদেশ ব্যাংককে পাঠানো এক চিঠিতে সরকার এই মতামত দিয়েছে। পাশাপাশি, যে সকল তৈরি পোশাক কারখানা এখনো মার্চের বেতন পরিশোধ করেনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

তবে এখন পর্যন্ত কতটি কারখানা লে-অফ ঘোষণা হয়েছে, সে হিসাব সরকারের কাছে নেই।

এ বিষয়ে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় বেনারকে বলেন, “লেফ-অফ ঘোষণা করা কারখানার তালিকা করতে জেলা অফিসগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

উল্লেখ্য, করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৫ মার্চ রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন।

কিন্তু এই আর্থিক সহায়তা ঘোষণার পরও পোশাকশিল্পের মালিকরা কারখানা লে-অফ ঘোষণা করায় তা ঠেকাতেই সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ১৬ এপ্রিলের মধ্যেই সব শিল্প কারখানার শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের জন্য মালিকদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। কিন্তু তারপরেও অসংখ্য কারখানার কর্মীরা এখনো বেতন পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বেতন ভাতা চেয়ে কর্মীরা আন্দোলনও করছেন।

মহাপরিদর্শক জানান, “আমাদের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৭০টি কারখানা কর্মীদের বেতন পরিশোধ করেনি।”

তিনি বলেন, “আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সদস্যভুক্ত সর্বমোট ২ হাজার ২৭৪ তৈরি পোশাকশিল্প-কারখানার রয়েছে। এর মধ্যে গত মার্চ মাসে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছে দুই হাজার ১৬৪টি প্রতিষ্ঠান। এখনও বকেয়া রয়েছে ১১০টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের বেতন। এসব প্রতিষ্ঠানের বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন জেসমিন পাপড়ি।

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।