করোনাভাইরাস ঝুঁকির মধ্যেই খুলছে অফিস ও গণপরিবহন

জেসমিন পাপড়ি
2020.05.28
ঢাকা
Share on WhatsApp
Share on WhatsApp
200528_Covid_story-1000.jpg করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে দূর পাল্লার গণপরিবহন বন্ধ, তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এভাবেই ঈদ শেষে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। ছবিটি ঢাকার পোস্তগোলা সেতু থেকে তোলা। ২৮ মে ২০২০।
[ফোকাস বাংলা]

অফিস–আদালত খোলার ঘোষণা আসার দিনেই বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজারের বেশি করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। রোববার থেকে সীমিত পরিসরে খুলবে অফিস ও গণপরিবহন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জীবন–জীবিকার কথা বিবেচনা করে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরুর লক্ষ্যে সীমিত পরিসরে সবকিছু খুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বেনজির আহমেদের মতে, এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে সংক্রমণ একটানা বাড়ছে, এ অবস্থায় সব কিছু খুলে দিলে সংক্রমণের মাত্রা ব্যাপক হারে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

“গত ৫ এপ্রিল থেকে সংক্রমণ একটানা বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে,” মন্তব্য করে তিনি বলেন “লক ডাউন না থাকলে প্রতিদিন পাঁচ-ছয় হাজার মানুষ আক্রান্ত হতে পারত।”

“যখন সংক্রমণ কম ছিল তখন ‘লক ডাউন’ করা হলো। অথচ যখন সংক্রমণ টানা বাড়ছে, তখনই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি বোধগম্য হচ্ছে না। এখানে সঠিক পরিকল্পনার অভাব আছে,” বলেন বেনজির আহমেদ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কোভিড–১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ২৯। একই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের।

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে মোট মারা গেছেন ৫৫৯ জন ও আক্রান্ত হয়েছেন ৪০ হাজার ৩২১ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ, মারা গেছেন তিন লাখ ৫৮ হাজারের বেশি।

বাড়ছে না সাধারণ ছুটি, বাড়তে পারে বিপদ

দেশে করোনা সংক্রমণ বেড়ে চললেও সরকার সাধারণ ছুটি আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সাত দফা ছুটি বাড়ানো হয়।

বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস খোলা রাখার আদেশ জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সরকারের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, “কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধ এবং পরিস্থিতির উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার আগামী ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে দেশের সার্বিক কার্যাবলী এবং জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সীমিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”

তবে ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তি, অসুস্থ কর্মচারী এবং সন্তান সম্ভবা নারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

আদেশে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহণ, যাত্রীবাহী নৌ যান ও রেল চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার থেকে খুলছে পুঁজিবাজার ও স্বাভাবিক লেনদেনে ফেরত যাচ্ছে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও। এ ছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর—এই তিনটি অভ্যন্তরীণ রুটে সোমবার থেকে বিমান চলাচল শুরুর কথা জানিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

তবে আন্তর্জাতিক রুটে নিয়মিত যাত্রীবাহী ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধের মেয়াদ ১৫ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

গত ২১ মার্চ থেকে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যখন বেড়েই চলেছে তখন সবকিছু স্বাভাবিক করার এই চেষ্টা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। তা ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বেনারকে বলেন, “করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সহজে কমবে না। তবে সবকিছু তো একদিন না একদিন খুলতে হবে। মনে রাখতে হবে মাস্ক এবং স্যানিটাইজার আমাদের জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। করোনাপূর্ব জীবনে সহসা আর ফেরা হবে না আমাদের।”

হাসপাতালে আগুন তদন্তে কমিটি

রাজধানীর গুলশানে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস।

সংস্থাটির সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, উপ পরিচালক দেবাশীষ বর্ধনের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার রাত ১০টার দিকে ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনাভাইরাসের রোগীদের জন্য তাবু খাটিয়ে হাসপাতাল ভবনের বাইরে তৈরি আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগে। এতে সেখানে থাকা পাঁচ রোগীর নির্মম মৃত্যু ঘটে।

নিহতদের একজন মুক্তিযোদ্ধা ভেরনন অ্যান্থনি পালের (৭৫) ছেলে প্রকৌশলী আন্দ্রে ডোমিনিক পাল বৃহস্পতিবার ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা গত ১৭ মে স্ট্রোক করে বাথারুমে পড়ে যাওয়ার পর ইউনাইটেড হাসপাতাল এই শর্তে ভর্তি নেয় যে, তাঁকে আইসোলেশন সেন্টারে থাকতে হবে।

হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁর কোভিড পরীক্ষা করা হয় এবং আগুন লাগার কয়েক ঘন্টা আগে নেগেটিভ প্রতিবেদন পাওয়া যায় বলেও জানান ডোমিনিক।

ডোমিনিক অভিযোগ করেন, নেগেটিভ প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁরা বাবাকে আইসোলেশন ইউনিট থেকে সরানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু চিকিৎসক জানান, রিপোর্টের হার্ড কপি লাগবে। এর চার ঘন্টার ব্যবধানে তাঁর বাবা আগুনে পুড়ে মারা যান।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইউনাইটেড হাসপাতালের কমিনিউকেশনে অ্যান্ড বিসনেস ডেভেলপমেন্ট শাখার পরিচালক ডা. শাগুফা আনোয়ার বেনারকে বলেন, “এটা ছিল দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা।”

তিনি জানান, আইসোলেশন ইউনিটে পাঁচজন রোগী ছিলেন। তাঁরা সবাই করোনার উপসর্গ নিয়ে এসেছিলেন বলেই তাঁদের সেখানে ভর্তি করা হয়েছিল।

“তাঁদের সবার জরুরি অক্সিজেনের প্রয়োজন ছিল। এই পাঁচজনের মধ্যে দুজন কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিলেন। তবে কিছুক্ষণ আগে (বৃহস্পতিবার) পাওয়া রিপোর্টে জানা গেছে, তাঁরা নেগেটিভ হয়েছেন,” বলেন তিনি।

বাকি তিনজনের নেগেটিভ আসার পরেও আইসোলেশন সেন্টারে রাখার কারণ ব্যাখ্যা করে ডা. সাগুফা বলেন, “প্রথম দফায় নেগেটিভ আসলেও তাঁদের কোভিড-১৯ এর উপসর্গ বিদ্যমান ছিল।”

মন্তব্য করুন

নীচের ফর্মে আপনার মন্তব্য যোগ করে টেক্সট লিখুন। একজন মডারেটর মন্তব্য সমূহ এপ্রুভ করে থাকেন এবং সঠিক সংবাদর নীতিমালা অনুসারে এডিট করে থাকেন। সঙ্গে সঙ্গে মন্তব্য প্রকাশ হয় না, প্রকাশিত কোনো মতামতের জন্য সঠিক সংবাদ দায়ী নয়। অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন এবং বিষয় বস্তুর প্রতি আবদ্ধ থাকুন।