Follow us

করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে ২০তম স্থানে বাংলাদেশ

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2020-06-09
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে কোনো রকমের শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখেই ঢাকার শনির আখড়া এলাকায় বাসে ওঠার জন্য যাত্রীদের লাইন। ৯ জুন ২০২০।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে কোনো রকমের শারীরিক দূরত্ব বজায় না রেখেই ঢাকার শনির আখড়া এলাকায় বাসে ওঠার জন্য যাত্রীদের লাইন। ৯ জুন ২০২০।
[বেনারনিউজ]

বাংলাদেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন তিন হাজার ১৭১ এবং মারা গেছেন ৪৫ জন।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়। একই সময়ে এই রোগে কক্সবাজারে মারা গেছেন আরও দুই রোহিঙ্গা। এ নিয়ে মোট তিন জন রোহিঙ্গার মৃত্যু হলো করোনাভাইরাসে।

দেশে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার তিন মাসের মাথায় মঙ্গলবার এই প্রথম একদিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিন হাজার ছাড়াল। পাশাপাশি, সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যুও হয়েছে এই দিন।

এ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মারা গেছেন ৯৭৫ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণের হার না কমা অবস্থায় লকডাউন তুলে নিয়ে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করার কারণেই করোনার বিস্তার বেড়ে চলেছে। আবারও লকডাউন না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বেনারকে বলেন, “ঈদের ছুটিতে শহর এবং গ্রামে জনস্থানান্তরের সুযোগ দেওয়া এবং এরপর ধারাবাহিকভাবে উর্ধ্বগামী সংক্রমণের মধ্যেই সকল বিধিনিষেধ শিথিল করে দেওয়ার ফলেই হু হু করে করোনার সংক্রমণ বাড়ছে।”

এ অবস্থায় সংক্রমণ রোধে লকডাউন আরো ২-৩ সপ্তাহ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন ডা. লেনিন।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ে। এর দশ দিনের মাথায় এই ভাইরাসে প্রথম ব্যক্তির মৃত্যু নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সবকিছু বন্ধ রাখে সরকার।

গত ৩১ মে থেকে ছুটি আর না বাড়িয়ে গণপরিবহন, অফিস–আদালতসহ সব কিছু সীমিত পরিসরে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

বিশ্বে ২০ তম স্থানে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসেবে, সংখ্যার দিক থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের তালিকায় বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ২০তম অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৬৭৫ জন।

তালিকায় ৭১ হাজার ৮৭৯ জন আক্রান্ত নিয়ে বাংলাদেশের ঠিক ওপরেই রয়েছে কাতার। ৮০ হাজারের কিছু বেশি আক্রান্ত নিয়ে অষ্টাদশ অবস্থানে আছে করোনাভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীন।

মঙ্গলবার পর্যন্ত দুই লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আক্রান্ত নিয়ে এশিয়ায় সর্বোচ্চ ও বৈশ্বিকভাবে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ভারত। আর ১৯ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি আক্রান্ত নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট ৭১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি মানুষ, মারা গেছেন চার লাখ আট হাজারের বেশি।

এদিকে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যার বিপরীতে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ ও সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ বলে জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দেশে এ পর্যন্ত করোনভাইরাস রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন মোট ১৫ হাজার ৩৩৬ জন।

দুই রোহিঙ্গার মৃত্যু

কক্সবাজারের উখিয়া শরণার্থী শিবিরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া নতুন আরও পাঁচজন নতুন শনাক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৩৫জন রোহিঙ্গা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা এম আর এইচ ভূঁইয়া বেনারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “গত সোমবার উখিয়া শিবিরের দুই রোহিঙ্গার করোনায় মৃত্যু হয়েছে। দুজনই পুরুষ, যাদের একজনের বয়স ৭০ অন্যজনের ৫৮ বছর।”

কক্সবাজার অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. সামসু দ্দৌজা নয়ন বেনারকে বলেন, “এ পর্যন্ত করোনায় তিন রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন দুইজন। চিকিৎসাধীন আছেন আরও ৩০জন।”

ঢাকায় এলাকাভিত্তিক লকডাউন শুরু

জনসংখ্যা এবং করোনার সংক্রমণের হার বিবেচনা করে সারা দেশকে রেড, ইয়োলো এবং গ্রীন জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে মঙ্গলবার রাত থেকে পরীক্ষামূলকভাবে এলাকাটি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এই লকডাউন বাস্তবায়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মাঠে থাকছেন সেনা সদস্যরাও।

এর আগে গত সপ্তাহে কক্সবাজার জেলাকে এলাকাভিত্তিক লকডাউন করা হয়।

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১২টার পর থেকে পূর্ব রাজাবাজার এলাকায় বসবাসকারীরা বাইরে যেতে পারবেন না এবং বাইরের কেউ সেখানে প্রবেশ করতে পারবেন না। এই এলাকার সকল দোকান-পাট এবং যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী অনলাইনের মাধ্যমে কেনা যাবে। যাদের অনলাইন সুবিধা নেই তাঁদের জন্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ভ্যান সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত করে এলাকায় পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।

প্রতিবেদন তৈরিতে কক্সবাজার থেকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন সুনীল বড়ুয়া।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন