Follow us

ভারতের করোনাভাইরাস টিকা পরীক্ষায় আগ্রহী বাংলাদেশ

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2020-08-19
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ১৯ আগস্ট ২০২০।
ঢাকায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলছেন সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। ১৯ আগস্ট ২০২০।
[ফোকাস বাংলা]

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে করোনাভাইরাস টিকা আবিষ্কারের প্রচেষ্টায় রয়েছে ভারত। বাংলাদেশে সেই টিকা পরীক্ষা করার প্রস্তাব দিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

বুধবার সফররত ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সাথে ঢাকায় দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাব দেন বলে সাংবাদিকদের জানান মোমেন।

এদিকে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের করোনাভাইরাস টিকার তৃতীয় ও শেষ ধাপের পরীক্ষা বাংলাদেশে হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত অমীমাংসিত রেখেই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের টিকা পরীক্ষার প্রস্তাব দেয়া হলো।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের শ্রিংলা জানান, ভারত টিকা আবিষ্কার অগ্রসর ধাপে রয়েছে। টিকা আবিষ্কৃত হলে বাংলাদেশ প্রাধান্য পাবে।

কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম বেনারকে বলেন, সিনোভ্যাকের করোনাভাইরাসের টিকা নিয়ে চীন ও ভারতের মধ্যেকার ‘দ্বন্দ্বের মধ্যে’ পড়েছে বাংলাদেশ। সে কারণে চীনা টিকার ট্রায়াল দেয়ার অনুমতি আসতে সময় লাগছে।

অনেকটা আকস্মিকভাবে দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মঙ্গলবার ঢাকা আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। মঙ্গলবার রাতেই গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।

‘অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশ’

ভারত করোনাভাইরাসের কিছু ভ্যাকসিন “ডেভেলপ করছে এবং ট্রায়ালও শুরু হয়ে গেছে” জানিয়ে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক শেষে মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা অফার করেছি, যদি সহযোগিতার প্রয়োজন হয়, ট্রায়ালের ক্ষেত্রে, তাহলে আমরা প্রস্তুত আছি।”

ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “তারাও প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে বলেছে, যে ভ্যাকসিনগুলো ডেভেলপ করছে, সেগুলো শুধু ভারতের জন্য নয়, প্রথম দিকেই আমাদের জন্য সেটা ‘অ্যাভেইলেবল’ করা হবে।”

তিনি বলেন, “আমাদের যে ওষুধ কোম্পানিগুলো আছে, তাদেরও সক্ষমতা আছে। ‍সুতরাং, তারা ওগুলোতে কোলাবোরেশনের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, সে ব্যাপারে সহযোগিতা চেয়েছি।”

বৈঠক শেষে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব সাংবাদিকদের, “আমরা টিকা আবিষ্কারের কাজ করছি যেটি এখন পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। আমরা এ ক্ষেত্রে অ্যাডভান্সড লেভেলে আছি।”

“আমরা টিকা উৎপাদন করতে যাচ্ছি, এবং বড়ো পরিসরে তা উৎপাদন করব,” জানিয়ে শ্রিংলা বলেন, “বাংলাদেশ সব সময় অগ্রাধিকারে আছে।”

প্রসঙ্গত ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কৃত টিকাসহ করোনাভাইরাসের অন্তত তিনটি টিকার পরীক্ষা বাস্তবায়ন করছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে বর্তমানে সারা বিশ্বে ১৫০টির বেশি দেশ করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারে কাজ করছে।

অপেক্ষায় সিনোভ্যাকের পরীক্ষা

করোনাভাইরাসের টিকার বাংলাদেশে তৃতীয় ও শেষ ধাপের পরীক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক উদারময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইসিডিডিআর-বি) এর সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করে চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক।

আইসিডিডিআর-বি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল নীতিগতভাবে টিকাটি পরীক্ষার অনুমতি দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, চার হাজারের বেশি স্বাস্থ্যকর্মীর ওপর এই টিকা পরীক্ষা হওয়ার কথা। তবে টিকাটি এখনো পরীক্ষার চূড়ান্ত অনুমতি দেয়নি সরকার।

“প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলে তাঁর অনুমোদনের পরই সিনোভ্যাকের টিকা ট্রায়ালের অনুমতির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়,” বেনারকে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুনশী ফায়েজ আহমাদ বেনারকে বলেন, “সিনোভ্যাক বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল চালাতে চায়। সেটি হয়তো ভারতসহ পশ্চিমা বিশ্ব ভালোভাবে নেবে না। কারণ কিছুদিন আগে চীন-ভারত সীমান্ত সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।”

“করোনাভাইরাস মহামারিতে চীন ছাড়া অন্য কোনো বড়ো দেশ বাংলাদেশকে সেভাবে সাহায্য করেনি,” মন্তব্য করে মুনশী ফায়েজ বলেন, “বাংলাদেশে সিনোভ্যাক যদি করোনাভাইরাসের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল করে সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণের কাছে চীনের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে। সেটি হয়তো ভারত চাইবে না।”

তবে শুধু চীনা টিকা নয়, বাংলাদেশে সাধারণভাবে ব্যবহার করার আগে সব টিকারই এখানে পরীক্ষা হতে হবে বলে জানান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দুই লাখ ৮৫ হাজার ৯১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে তিন হাজার ৭৮১ জনের।

যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন মোট দুই কোটি ২২ লাখ ৩৯ হাজারের বেশি মানুষ, মারা গেছেন সাত লাখ ৮৩ হাজারের বেশি।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন