Follow us

প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগে টিকটক তারকা অপু কারাগারে

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2020-08-04
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় টিকটক তারকা অপু গ্রেপ্তারের সংবাদ নিজের ল্যাপটপে পড়ছেন ঢাকার একজন পাঠক। ৪ আগস্ট ২০২০।
প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় টিকটক তারকা অপু গ্রেপ্তারের সংবাদ নিজের ল্যাপটপে পড়ছেন ঢাকার একজন পাঠক। ৪ আগস্ট ২০২০।
[বেনারনিউজ]

সড়ক বন্ধ করে চালানো ভিডিও শুটিং ‘বাধাগ্রস্ত’ করার কারণে এক প্রকৌশলীকে মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার চীনা অ্যাপ টিকটক তারকা ইয়াসিন আরাফাত অপু (২০) ওরফে ‘অপু ভাই’কে মঙ্গলবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অপুকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয় বলে বেনারকে জানান উত্তরা পূর্ব থানা তদন্ত শাখার এসআই আদিল হোসেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠায়।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে বাংলাদেশে টিকটকের অনুসারীরা মূলত স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরী। সংখ্যায় প্রায় এক কোটির কাছাকাছি।

টিকটকের অনেক ভিডিও কিশোর-কিশোরীদের সহিংস ও উচ্ছৃঙ্খল করে তোলে অভিযোগ করে তাঁরা বলেন, টিকটকে আপত্তিকর ভিডিও বাছাইর করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

প্রসঙ্গত, ইতোমধ্যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র চীনের তৈরি টিকটক অ্যাপ নিজেদের দেশে নিষিদ্ধ করেছে।

কে এই ‘অপু ভাই’?

টিকটকের ভিডিওতে বিভিন্ন তামাশা, মস্করা ও উত্তেজক বিষয় উপস্থাপন করতে দেখা যায় এই ‘অপু ভাই’কে। কখনও কাটপিস ভিডিওসহও দেখা যায় তাঁকে।

অপুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলায়। সেখানে মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন তিনি। বাবা-মার মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার পর আর লেখাপড়া করা হয়নি অপুর।

অল্পদিনের জন্য সেলুনেও কাজ করেন অপু। এক পর্যায়ে সেলুনের কাজ ছেড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি চলে আসেন ঢাকায়।

ফেসবুক ও ইউটিউবে গানের ক্লিপ ছড়িয়ে জনপ্রিয়তা পাবার পর টিকটকে ভিডিও আপলোড করে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন অপু। তৈরি হয় তাঁর বিশাল কিশোর সমর্থক গ্যাঙ।

পরিচিতির পাশাপাশি টিকটকের মাধ্যমে আয়ও করতে থাকেন অপু।

টিকটকের ভিডিও করতে রাস্তা অবরোধ

উত্তরা পূর্ব থানার পুলিশ কর্মকর্তা আদিল হোসেন বেনারকে বলেন, “রোববার অপু ও তাঁর টিকটক গ্রুপের ২০/২৫ কিশোর আলাওল সড়ক অবরোধ করে ভিডিও করছিল। ওই রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন একজন প্রকৌশলী। তিনি হর্ন বাজিয়ে রাস্তা ছেড়ে দিতে বলেন। এরপর তিনি গাড়ি থেকে নেমে সাইড দিতে বলেন।”

হর্ন দিয়ে ভিডিও শুটিং ‘বাধাগ্রস্ত’ করার কারণে ওই প্রকৌশলীকে অপু ও তাঁর সহযোগীরা মারধর করেন জানিয়ে আদিল হোসেন বলেন, “এই ঘটনায় মামলা হয়। মামলার পর গতকাল (সোমবার) তাঁকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি।”

ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা এখনও তাঁর (অপুর) টিকটক এবং ফেসবুকের অনুসারী কারা সেগুলো পরীক্ষা করে দেখছি। অপুর কারণে কিশোর গ্যাঙ কালচার শুরু হয়েছে এমন অভিযোগ পেয়েছি। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।”

টিকটক বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীদের মাঝে খুব জনপ্রিয় বলে বেনারকে জানান সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা।

বাংলাদেশে টিকটকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি জানিয়ে তিনি বলেন, “সেখানে অনেক আপত্তিকর ভিডিও দেখা যায়। এগুলোর মাধ্যমে আমাদের ছেলেমেয়েরা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়।”

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, “যেমন টিকটকে একটি গ্রুপ আছে যারা উচ্চ গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ভিডিও দেয়। এর ফলে অল্প বয়সের ছেলেদের মাঝে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে।”

টিকটকে আপত্তিকর ভিডিও বন্ধ করার সুযোগ কম জানিয়ে জোহা বলেন, “কারণ, টিকটক কর্তৃপক্ষ নগ্নতা ছাড়া কোনটি আপত্তিকর সেটি বুঝতে পারে না।”

টিকটকে অপুর অনুসারী দশ লাখের মতো জানিয়ে মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বেনারকে বলেন, “সে এবং তার মতো আরও তারকা টিকটকে যেসকল ভিডিও আপলোড করে সেগুলো আমাদের সংস্কৃতির সাথে যায় না।”

তিনি বলেন, “এই সকল ভিডিওর কারণে কিশোর গ্যাঙ সংস্কৃতি বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমাদের আগামী প্রজন্মের মাঝে সহিংসতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

ড. হেলাল বলেন, “আমাদের উচিত টিকটক কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করে এর একটি প্রতিকার করা যাতে আপত্তিকর ভিডিও আর আপলোড করা না হয়।”

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বেনারকে বলেন, “টিকটকে বিভিন্ন আপত্তিকর ভিডিও আপলোড করা হয় বলে আমরা জেনেছি। টিকটকে যেন আপত্তির ভিডিও আপলোড বন্ধ করা যায় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে আমি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছি।”

তিনি বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা টিকটক কর্তৃপক্ষের সাথে এব্যাপারে কথা বলব।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন