Follow us

আমন্ত্রণ বাতিল হচ্ছে না, নরেন্দ্র মোদি আসছেন ১৭ মার্চ

কামরান রেজা চৌধুরী
ঢাকা
2020-03-02
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগদানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা (বামে) সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ২ মার্চ ২০২০।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগদানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ঢাকা সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা (বামে) সোমবার গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ২ মার্চ ২০২০।
[ফোকাস বাংলা]

ইসলামি ও বামপন্থী দলগুলো ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ বাতিলের দাবি জানালেও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দিয়ে জানানো হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৭ মার্চ ঢাকা আসছেন নরেন্দ্র মোদি। পরদিন তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকও করবেন।

সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকা সফররত ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেন।

দিল্লির মুসলমান সম্প্রদায়ের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের সাম্প্রতিক হামলার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে দায়ী করে গত শুক্রবার তাঁকে দেয়া আমন্ত্রণ বাতিলের দাবি জানায় ছয়টি ইসলামি দল।

জুম্মার নামাজ শেষে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামি দলগুলোর সমাবেশ থেকে ঘোষণা আসে, সরকার যদি নরেন্দ্র মোদিকে দেয়া আমন্ত্রণ বাতিল না করে, তাহলে তারা মোদির সফরের দিন ঢাকার বিমানবন্দর ঘেরাও করবে।

পাশাপাশি, বাম রাজনৈতিক দলের জোট গণসংহতি আন্দোলনও দিল্লির সহিংস ঘটনার পর নরেন্দ্র মোদিকে ঢাকায় না আনতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে।

দিল্লির ওই সহিংসতায় কমপক্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির যোগদানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সোমবার ঢাকা আসেন ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব।

তিনি সকালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ও ভারতীয় দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর আলোচনায় অংশ নেন।

শ্রিংলা সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সাথে তাঁর দপ্তরেও সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, “মুজিববর্ষ উপলক্ষে তিনি (মোদি) আসছেন, আমাদের সম্মানিত অতিথি হিসেবে, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান মিত্র প্রতিনিধি হিসেবে।”

তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদির সফরের মাধ্যমে “দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুদৃঢ় হবে।”

এ সময় ওবায়দুল কাদেরের পাশে ছিলেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা ও ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি।

দিল্লিতে সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাংলাদেশের কিছু ইসলামি দল ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে প্রতিহত করার যে ঘোষণা দিয়েছে তাতে সরকার বিব্রত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমরা মোটেও বিব্রত না। আমরা মনে করি, এটা যারা করছে তাদের এটা করা মোটেও উচিত হচ্ছে না। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানানো উচিত।”

ওবায়দুল কাদের বলেন, “এটা হাইয়েস্ট লেভেলের একটা সফর ও অনুষ্ঠান। নিরাপত্তার বিষয়টাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”

বিরোধিতাকারীদের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “রিঅ্যাকশন প্রকাশ করছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের লোকজন। এখানে রিলিজিয়াসলি (ধর্মীয়ভাবে) বিষয়টি অনেকে দেখছে। ...এটা সব সময় ছিল, আজও আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। কাজেই সম্পর্ক এর মধ্যেই এগিয়ে যাবে।”

মোদির সফর প্রতিহতের ঘোষণার খবরে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো উদ্বেগ পররাষ্ট্রসচিব প্রকাশ করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, “না, এটা নিয়ে কোনো কিছু বলেননি।”

‘বাংলাদেশের ওপর প্রভাব পড়বে না’

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর আলোচনা সভায় ভারতের জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রসঙ্গে শ্রিংলা বলেন, “আমাদের নেতৃত্ব বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যে কথা বলেছেন, আমি এখানে তা পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই: এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কাজেই, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের ওপর এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।”

তিনি বলেন, “এব্যাপারে আপনারা আমাদের কাছ থেকে আশ্বস্ত হোন।”

তবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তারেক শামসুর রেহমান বেনারকে বলেন, “প্রথম কথা হলো, জাতীয় নাগরিকপঞ্জি এবং সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু আমাদের জনগণ তাঁর সেই কথায় আস্থা রাখতে পারছে না।”

তিনি বলেন, “জনগণের আস্থাহীনতার অন্যতম কারণ হলো ইতিমধ্যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলমানদের অবৈধ বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে খেদানোর চেষ্টা শুরু হয়েছে। এরপর দিল্লির মুসলমানদের ওপর হিন্দুত্ববাদীদের সাম্প্রতিক হামলা।”

অধ্যাপক তারেক বলেন, “এই অবস্থায় আগামী ১৮ তারিখে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর যে বৈঠক করার কথা আছে সেখানে ওই দুটি বিষয়ে বাংলাদেশের আশঙ্কার কথা জানানো যেতে পারে। আমার মনে হয় আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেটি করবেন।”

“আর তাঁকে বাংলাদেশে আসতে দেবো না এমন কথা বলা উচিত নয়। কোনো সভ্য দেশ আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করতে পারে না,” যোগ করেন তিনি।

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন বেনারকে বলেন, “আসলে আজকে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব যা বলেছেন সেটি নতুন কিছু না। ভারত বারবার একই কথা বলছে যে, বিষয় দুটি তাদের অভ্যন্তরীণ।”

তিনি বলেন, “আসলে সত্য কথা বলতে কি, ভারতের আশ্বাসে বিশ্বাস করা ছাড়া আমরা আর তেমন কিছু করতে পারব না। তাই তাদের আশ্বাসে আস্থা রাখতে হবে।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন