Follow us

বাংলাদেশের পলাতক মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা মিয়ানমারকে হস্তান্তর

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2018-07-12
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
সীমান্ত পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি ও বিজিপি'র প্রতিনিধিরা। ১২ জুলাই ২০১৮।
সীমান্ত পর্যায়ের সম্মেলনে বিজিবি ও বিজিপি'র প্রতিনিধিরা। ১২ জুলাই ২০১৮।
সৌজন্যে: বিজিবি

মিয়ানমারে পালিয়ে যাওয়া শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী এবং অপরাধীদের একটি তালিকা দেশটির কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে দু’দেশই একমত হয়েছে। তবে এই সংখ্যাটি প্রকাশ করা হয়নি।

ঢাকায় বিজিবি সদর দপ্তরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) মধ্যকার চার দিনব্যাপী সীমান্ত পর্যায়ের সম্মেলন শেষে বৃহস্পতিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান দুই দেশের কর্মকর্তারা।

সম্মেলনে মাদকদ্রব্য, বিশেষ করে ইয়াবার ব্যাপকতার বিষয়ে উভয় পক্ষ উদ্বেগ প্রকাশ করে মাদক চোরাচালান বন্ধে একে অপরকে সহায়তা করার জন্য সম্মত হয়েছে বলে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়। এ ছাড়া সীমান্তে মাইন বা আইইডি অপসারণ প্রসঙ্গে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মজিবুর রহমান বলেন, “আমরা মিয়ানমারের কাছে অপরাধীদের একটি তালিকা হস্তান্তর করেছি। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে দু’পক্ষের মধ্যে আলোচনা এবং বোঝাপড়া হয়েছে।”

বিজিবি কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে ‘জিরো- টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে এবং মিয়ানমার পুলিশও জানিয়েছে তারা তাদের নীতি অনুযায়ী মাদকদ্রব্য বিরোধী অপারেশন চালাচ্ছে।”

“মাদকের কারণে তারাও (মিয়ানমার) ভুগছে। তাদের তরুণেরাও এতে আক্রান্ত হচ্ছে। তাই বৈঠকে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে,” বলেন মো. মজিবুর রহমান।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী সর্বাত্মক অভিযানে এ পর্যন্ত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর হাতে ১৬০ জনেরও বেশি মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। চলমান এ অভিযানের মাঝে অনেক মাদক ব্যবসায়ী মিয়ানমারে পালিয়ে গেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

গত ৯ জুলাই থেকে ১২ জুলাই ঢাকায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্ত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে বিজিপির ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থানের নেতৃত্বে মিয়ানমারের ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এবং বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনিছুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করেন।

সীমান্তে মাইন অপসারণে সম্মত মিয়ানমার

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্তে মাইন বা আইইডি অপসারণ প্রসঙ্গে উভয় পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করে এবং মিয়ানমার পক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে সম্মত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনিছুর রহমান বলেন, “সীমান্তে মাইন এবং আইইডি’র ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এ ব্যাপারে মিয়ানমার পুলিশের বক্তব্য হচ্ছে, মিয়ানমার সিকিউরিটি ফোর্স কখনোই মাইন বা আইইডি ব্যবহার করে না।”

“তথাপিও যদি এ ধরনের মাইন বা আইইডি কোথাও দেখা যায়, তাহলে আমরা তৎক্ষণাৎ এক পক্ষ অপর পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করব। এবং সেগুলো নিস্ক্রিয় করার প্রয়োজনয়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করব,” বলেন তিনি।

যৌথ বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, “সীমান্তে আন্তর্জাতিক রীতি-নীতির বিষয় উল্লেখপূর্বক সম্প্রতি মিয়ানমারের নাগরিকদের সীমান্ত অতিক্রমসহ সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনায় বিজিবির পক্ষ হতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

একই সঙ্গে সীমান্তের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বন্ধে দেশটির প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ প্রেক্ষিতে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বন্ধে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, নারী ও শিশু পাচারসহ সব ধরনের আন্তসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সমন্বিত যৌথ টহল, সীমান্তে নজরদারি ও অন্যান্য তৎপরতা বৃদ্ধি, উভয় পক্ষের মাঠ পর্যায়ের অধিনায়কদের মধ্যে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা এবং সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় পরস্পরের মধ্যে তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

দুই দেশের সম্পর্ক এখন অনেক ভালো দাবি করেন আনিছুর রহমান।

দু’পক্ষের বৈঠকে বর্ডার লিয়াজোঁ অফিসের কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ প্রসঙ্গে মিয়ানমার পক্ষ হতে জানানো হয় যে, মংডুতে ইতিমধ্যে একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ হতে জানানো হয়, টেকনাফ উপজেলায়ও অনুরূপ একটি বর্ডার লিয়াজোঁ অফিস স্থাপন করা হয়েছে যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।

দু’দেশের প্রতিনিধিরা এই সীমান্ত সম্মেলন ফলপ্রসূ হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তাঁরা। সিনিয়র কর্মকর্তা পর্যায়ের পরবর্তী সীমান্ত সম্মেলন ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে মিয়ানমারের নেপিডোতে অনুষ্ঠানের ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে উভয় পক্ষ।

আলোচনা হয়নি রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গ উঠে আসে। তবে বিষয়টি তাঁদের আলোচনার এজেন্ডা বহির্ভূত বলেন জানায় বিজিপি। এমনকি এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন শুনে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বিজিপির একজন কর্মকর্তা।

বিজিপির সিনিয়র কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মায়ো থান বলেন, “রোহিঙ্গা আমাদের এজেন্ডার মধ্যে পড়ে না। কাজেই এ নিয়ে আলোচনা বা প্রশ্ন করার সুযোগ নেই।”

বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক আনিছুর রহমানও এ সময় সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের এই সীমান্ত সম্মেলনে দুই দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোহিঙ্গা ইস্যুটি অনেক বড় বিষয়। এটা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা হচ্ছে। মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা কাজ করছে।”

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন