Follow us

ডাকসুতে নতুন নির্বাচনের দাবি নাকচ

জেসমিন পাপড়ি
ঢাকা
2019-03-14
ই-মেইল করুন
মন্তব্য করুন
Share
ডাকসুর নতুন নির্বাচনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের রাজু ভাস্কর্যের সামনে শিক্ষার্থীদের অনশন ধর্মঘট। ১৩ মার্চ ২০১৯।
ডাকসুর নতুন নির্বাচনের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের রাজু ভাস্কর্যের সামনে শিক্ষার্থীদের অনশন ধর্মঘট। ১৩ মার্চ ২০১৯।
[মেঘ মনির/বেনারনিউজ]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু এবং হল সংসদের নির্বাচনের ফল বাতিল করে নতুন নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন ছাত্রলীগ ছাড়া সব ছাত্র সংগঠন মাঠে নেমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের রাজু ভাস্কর্যের সামনে অনশন করছেন সাত শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ফটকে পৃথকভাবে আমরণ অনশন শুরু করা পাঁচ শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার রাত সোয়া দশটায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার চূড়ান্ত সময় বেঁধে দিয়ে কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রোকেয়া হলের গেটে কর্মীদের নিয়ে হাজির হয়েছিলেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তিনি সেখানে অনশনরত ছাত্রীদের ‘মদখোর’, ‘গাঁজাখোর’ বলে আখ্যায়িত করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও-ভিডিওতে এর প্রমাণ মেলে। এ নিয়ে দিনভর ক্যাম্পাসে সমালোচনা হয়।

এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের গোলাম রাব্বানী বলেন, “হলের গেট খোলা রেখে ছাত্রীদের অবস্থানের কথা শুনে ডাকসুর জিএস হিসেবে হলে অবস্থানকারী অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে আসি আমি। এসে দেখি মদ, গাঁজা খাওয়া কয়েকজন এখানে আন্দোলন করছে। এই দশ-পনেরো জনের কারণে অন্যদের ক্ষতি হলে সে দায় নেবে কে?”

এ প্রসঙ্গে অনশনরত শিক্ষার্থী জয়ন্তী রেজা বেনারকে বলেন, “রাত দুইটার দিকে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী কর্মীদের নিয়ে আমাদের হলের সামনে আসেন। এরপর প্রক্টরকে ফোন দিয়ে অনেক কথা বলেন। কোন সাহসে আমরা অনশনে বসেছি, আমরা মেয়েদের ঘুমাতে দিচ্ছি না, কেন আমাদের ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না-এসব বলতে থাকেন।”

এদিকে বৃহস্পতিবার অনশনরত ছাত্রীদের সাথে সংহতি জানান ডাকসুর ভিপি নুরুল হক। বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অন্য নেতা-কর্মীদের সাথে তিনি রোকেয়া হলের গেটে যান। এ সময় শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করে নুরুল হক বলেন, “যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীর লাঞ্ছনা ও হেনস্থার অপসংস্কৃতি চালু করতে চায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।”

গত মঙ্গলবার থেকে অনশন শুরু করা এই ছাত্রীরা বৃহস্পতিবার রাতে নিজেরাই তা ভঙ্গ করেন। এর আগে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, প্রভোস্ট এবং ডাকসুর নেতারা পানি নিয়ে গেলেও তাঁরা অনশন ভঙ্গ করেননি। তাঁরা বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোকেয়া হলের প্রভোস্ট পদত্যাগ না করলে এবং ডাকসু নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণা না করলে আবারও তাঁরা আন্দোলনে বসবেন।

ভোট বর্জনের দাবি নাকচ

শনিবারের মধ্যে নতুন নির্বাচনের তফসিল এবং আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে নতুন নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ভোট বর্জন করা প্যানেলগুলো। এ দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশনরতদের একজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তবে এসব দাবি নাকচ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। কেউ ভোট দিতে পারেনি, ভোট জালিয়াতি হয়েছে এমন কোনো অভিযোগ বা বক্তব্য নির্বাচনের সাথে জড়িত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তরফ থেকে আমরা পাইনি।”

দু’একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা স্বীকার করে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

“আমরা আগেই বলেছি পুনর্নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই,” বেনারকে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ। শিক্ষার্থীদের অনশনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দাবি জানানো তাদের অধিকার। তবে আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম তাদের খোঁজখবর নিচ্ছে এবং চিকিৎসার বিষয়টিও দেখভাল করছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই ডাকসুর পুনর্নির্বাচনের কোনো সুযোগ নেই।”

এখন ডাকসু নির্বাচনে জয়ীদের অভিষেকের আয়োজন চলছে বলেও জানান উপ-উপাচার্য।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেল চারটায় গণভবনে ডাকসু ও হল সংসদের নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিদের ডেকেছেন।

দীর্ঘ ২৮ বছর ১০ মাস পরে গত ১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ডাকসুর ২৫টি পদের মধ্যে ২৩টিতে জয় পাওয়া সরকার সমর্থক ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। তবে ভিপি পদে নির্বাচিত হন কোটা আন্দোলনের নেতা নুরুল হক নূর।

নতুন ভিপির অভিষেক নিয়ে অস্পষ্টতা

“গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ডাকসুর কমিটির মেয়াদ অভিষেকের দিন থেকে ৩৬৫দিন। তাই নির্বাচিতদের যত দ্রুত দায়িত্ব দেওয়া হবে তত ভালো,” বলছিলেন অধ্যাপক সামাদ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ডাকসুর দায়িত্ব গ্রহণ বা অভিষেক নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের সঙ্গে বৈঠক করেন নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক। তবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। কারণ, নতুন নির্বাচনের দাবিতে যারা আন্দোলন করছে তিনি তাদেরও একজন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে নূর সাংবাদিকদের বলেন, “আমার একটি সংগঠন রয়েছে। তারা আমার সাথে দীর্ঘদিন কাজ করেছে, শ্রম দিয়েছে, সময় দিয়েছে। নির্বাচনে এত কারচুপির মধ্যেও সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমার পক্ষে কাজ করেছে। তারা কী চাচ্ছে সেটা বোঝার চেষ্টা করছি।”

“তারা যদি চায় যে আমি ভিপি হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে তাদের জন্য লড়াই সংগ্রাম করি, তাহলে আমি সেটা করব। তারা যদি না চায় তাহলে আমি দায়িত্ব গ্রহণ করব না,” বলেন এই ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এই নেতা।

পুর্ণাঙ্গ আকারে দেখুন